kalerkantho


না.গঞ্জ ও বগুড়ায় প্রতিমা ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া ও নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



নারায়ণগঞ্জ ও বগুড়ায় গত শুক্রবার রাতে দুটি মন্দিরের পাঁচটি প্রতিমা ভেঙেছে দুর্বৃত্তরা।

বগুড়ার ধুনট উপজেলার এলাঙ্গী পুকুরপাড় কালীমন্দিরের চারটি প্রতিমা ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এলাঙ্গী কালীমন্দির পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি রিপন কুমার ঘোষ জানান, প্রায় ৪০ বছরের পুরনো এই কালীমন্দিরে পূজা অর্চনা করেন স্থানীয়রা। অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার রাতে স্থানীয় ভক্তরা পূজা অর্চনা করেন। এরপর রাতের কোনো এক সময় কে বা কারা মন্দিরে রাখা কালী, ডাকিনী, শিব ও শীতলা প্রতিমা ভাঙচুর করে। গতকাল শনিবার ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

ধুনট উপজেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার বলেন, ‘ওই কালীমন্দির এলাকায় প্রায় প্রতিরাতে মাদকসেবীদের আড্ডা বসে। তাদের কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে। ’

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে। ’

অন্যদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিতাইগঞ্জ এলাকায় একটি অস্থায়ী পূজামণ্ডপের একটি কালী প্রতিমা ভেঙেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার রাতের এ ঘটনায় শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছেন ওই এলাকার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতারা।

এলাকাবাসী জানায়, ১৫১ নম্বর হাকিম মুন্সির বাড়ি পঞ্চায়েত কমিটির উদ্যোগে গত ৮ মার্চ বার্ষিক তিন দিনব্যাপী রক্ষা কালী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। গত শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টায় প্রতিমা বিসর্জনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার সময় বাদ্যবাজনা বন্ধ করা নিয়ে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে ঋষিপাড়া মাঠের মাদকাসক্তদের তর্ক হয়। এর কিছুক্ষণ পর ২০ থেকে ২৫ জন মিলে কালী প্রতিমা ভাঙচুর করে পালিয়ে যায়।

পঞ্চায়েত কমিটির সদস্য আশু চন্দ্র দাস বলেন, ‘শুক্রবার রাতে প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল। পূজার বাদ্যবাজনা ও বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ করার সময় ঋষিপাড়া মাঠের ২০ থেকে ২৫ জন মাদকাসক্ত ও বখাটে ছেলে এসে মন্দিরে হামলা চালায়। বাধা দিতে গেলে স্থানীয় লোকজনের ওপর হামলা চালায়। ’ এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি শংকর সাহা বলেন, ‘রাতে প্রতিমা বিসর্জনের সময় বখাটেরা এ ঘটনা ঘটায়। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এ বিষয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ’

ঘটনাস্থলে যাওয়া নারায়ণগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘শুকুরের ছেলে জালাল ও সালাউদ্দিন, আহসান উল্লা, সজিব দাস, মামুন—এ পাঁচজন ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আরো ১৩ থেকে ১৪ জন রয়েছে। যারা অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

 


মন্তব্য