আ. লীগ এগিয়ে সম্পদে শিক্ষা-মামলায়-335248 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


আ. লীগ এগিয়ে সম্পদে শিক্ষা-মামলায় বিএনপি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আ. লীগ এগিয়ে সম্পদে শিক্ষা-মামলায় বিএনপি

সবচেয়ে বেশি ৯ পৃষ্ঠার হলফনামা জমা দিয়েছেন বিএনপির মেয়রপ্রার্থী হাফিজুর রহমান মোল্লা। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে তিন পৃষ্ঠাজুড়ে মামলার বিবরণ। মোট ২৭টি মামলার আসামি তিনি। এর মধ্যে ১৫টি বিচারাধীন ও ১২টি চলমান। ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর থেকে এ বছরের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে এসব মামলা দায়ের হয়। হাফিজুর রহমান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র।

অন্যদিকে আওয়ামী লীগের মেয়রপ্রার্থী নায়ার কবিরের ঢাকার ধানমণ্ডিতে ফ্ল্যাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ি রয়েছে। এ ছাড়া ভাড়া ও মূলধনি থেকে তাঁর বার্ষিক আয় প্রায় ১১ লাখ টাকা। নগদ ও ব্যাংকে রয়েছে প্রায় ২৯ লাখ টাকা। নায়ার কবির জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী। তবে তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য জমা দেওয়া হলফনামা ঘেঁটে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের প্রার্থী সম্পদ ও আয়ে এগিয়ে। অন্যদিকে মামলা বেশি বিএনপি প্রার্থীর নামে। নির্বাচনে মেয়র পদে মোট চারজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। হাফিজুর রহমান বাদে অন্য তিন প্রার্থীর নামে কোনো মামলা নেই। আগামী ২০ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

হলফনামা থেকে জানা গেছে, মামলার মতো শিক্ষায়ও এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি প্রার্থী হাফিজুর রহমান। তিনি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পাস। অন্যদিকে আওয়ামী লীগ প্রার্থী নায়ার কবির উচ্চ মাধ্যমিক পাস। ইসলামী ঐক্যজোট প্রার্থী মো. ইউসুফ ভূঁইয়া তাকমিলে হাদিস (স্নাতকোত্তর) পাস। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. সিরাজুল ইসলাম ভূঁইয়া হলফনামার শিক্ষাগত যোগ্যতার ঘরে লিখেছেন স্বশিক্ষিত।

নির্বাচনী ব্যয়সংক্রান্ত প্রার্থীদের দাখিল করা কাগজ থেকে জানা গেছে, নায়ার কবির, হাফিজুর রহমান, ইউসুফ ভূঁইয়া সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা খরচ করবেন। সিরাজুল ইসলাম খরচ করবেন তিন লাখ টাকা। এর মধ্যে তিনজন প্রার্থী নিজস্ব আয় থেকে ব্যয় মেটাবেন। তবে হাফিজুর রহমান নিজস্ব আয়ের দুই লাখ টাকার পাশাপাশি ধারদেনা ও দুই ভাইসহ অন্যদের স্বেচ্ছাপ্রণোদিত অর্থ থেকে ব্যয় মেটাবেন।

হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আয়ের দিক থেকে সব মেয়র প্রার্থীর চেয়ে এগিয়ে থাকা নায়ার কবির। প্রতি বছর বাড়ি ও দোকান ভাড়া বাবদ ছয় লাখ ৪৫ হাজার ৯০২ টাকা আয় করেন। মূলধনি লাভ ও তার অংশ থেকে বছরে তিনি আয় করেন চার লাখ ৫২ হাজার ৩১২ টাকা। তিনি ঢাকার ধানমণ্ডিতে একটি ফ্ল্যাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দুই কোটি ১৫ লাখ ১৬ হাজার ৩১৩ টাকা মূল্যের অকৃষি জমির (দালানসহ) মালিক। তাঁর ব্যবসায়িক পুঁজি রয়েছে দুই লাখ ৪৩ হাজার টাকা। তিনি দোকানের জামানত বাবদ ২০ লাখ ৭০ হাজার ৯০০ টাকা দেনা আছেন।

হাফিজুর রহমান কৃষিখাত থেকে বছরে ১২ হাজার টাকা আয় করেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া বাড়ি ও দোকান ভাড়া বাবদ তিনি বছরে আয় করেন ৯৭ হাজার ৯০০ টাকা। নগদ ও ব্যাংকে তাঁর রয়েছে ২৮ লাখ টাকা। তাঁর ১০০ শতক কৃষি ও সাড়ে ৩১ শতক অকৃষি জমি রয়েছে।

ইউসুফ ভূঁইয়া ব্যবসা থেকে বছরে চার লাখ ৩৬ হাজার ১৪০ টাকা আয় করেন। তাঁর ব্যবসায়িক পুঁজি ১১ লাখ ১৫ হাজার ৭০০ টাকা। তিনি ছয় লাখ টাকা মূল্যের অকৃষি জমির মালিক। তিনি আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে ৩০ লাখ ও সিটি ব্যাংকে চার লাখ টাকা দেনা আছেন। সিরাজুল ইসলামের বাৎসরিক আয় এক লাখ ৮৫ হাজার টাকা। বিভিন্ন ভাড়া বাবদ তিনি এ টাকা আয় করেন। তাঁর কাছে নগদ ছয় লাখ ৩০ হাজার টাকা রয়েছে।

 

মন্তব্য