বামন হয়ে চাঁদে হাত! -335226 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


বামন হয়ে চাঁদে হাত!

চোখ হারাতে বসেছেন কলেজ ছাত্র মেহেদী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

১৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বগুড়া সরকারি আযিযুল হক কলেজের স্নাতক (সম্মান) ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসান (১৯)। বর্তমানে তিনি বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নির্যাতনের কারণে একটি চোখ হারাতে পারেন তিনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, হতদরিদ্র পরিবারের এই যুবক প্রতিবেশী এক ধনাঢ্যের মেয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন। সম্পর্ক মেনে নিতে না পারায় ওই মেয়ের বাবা তাঁকে পিটিয়েছেন।

স্থানীয় লোকজন জানায়, বারআঞ্জুল গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তান মেহেদী। বাবা বেঁচে নেই। মা মর্জিনা বেওয়া দিনমজুর ও অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করেন। মেহেদী মাকে সহযোগিতা ও লেখাপড়ার খরচ জোগাতে পড়াশোনার পাশাপাশি রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। হঠাৎ করে তাঁর সঙ্গে প্রতিবেশী মাদ্রাসা পড়ুয়া মেয়ের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে তাঁদের এই প্রেম বেশি দিন চাপা থাকেনি। বিষয়টি জানাজানি হলে দরিদ্র ঘরের ছেলে হওয়ায় মেয়ের পরিবার তা মানেনি। গত বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় এক ব্যক্তির জানাজা নামাজ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন মেহেদী। পথে মেয়ের মা-বাবা তাঁকে টেনেহিঁচড়ে বাড়ির ভেতর নিয়ে গিয়ে হাত-পা বেঁধে লাঠি দিয়ে পেটান। এলোপাতাড়ি মারধরের কারণে তাঁর ডান পা ভেঙে যায় এবং মাথা ও ডান চোখ আশঙ্কাজনকভাবে রক্তাক্ত জখম হয়। আহত অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় ক্লিনিকে নেওয়া হয়। চোখের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় পরে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ওই হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক আবুল খায়ের গতকাল বলেন, ‘মেহেদীর চোখের জখম গুরুতর। তাঁর দৃষ্টি শক্তি নাও থাকতে পারে।’

এ ঘটনায় গ্রামবাসী মেয়ের মা-বাবার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে শুক্রবার গ্রামের নারী-পুুরুষ একত্রিত হয়ে মেয়ের বাবার বাড়িতে হামলা চালায়। ভয়ে মেয়ের মা পালিয়ে গেলেও বাবা পাশের বাড়িতে আত্মগোপন করেন। গ্রামবাসী বাবাকে আটক করে। খবর পেয়ে শাজাহানপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।

ছেলের মা মর্জিনা বেওয়া বলেন, ‘মাথা ও চোখে গুরুতর জখম হয়ে দৃষ্টিশক্তি হারাতে বসেছে ছেলে। তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। কিন্তু অর্থের অভাবে সুচিকিৎসা করাতে পারছি না।’

শাজাহানপুর থানার ওসি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মেয়ের বাবা বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।’

মন্তব্য