সাহস ছড়ানো মেয়েরা-334896 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব মহিলা মহাবিদ্যালয়

সাহস ছড়ানো মেয়েরা

নিয়ামুল কবীর সজল, ময়মনসিংহ   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সাহস ছড়ানো মেয়েরা

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ক্যারাতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। ছবি : কালের কণ্ঠ

‘ছেলেরাই আমাদের দেখলে দূরে থাকে। ওরা আমাদের ভয় পায়। আমরা যে কারাতে জানি সেটা ওরা জানে। কেউ কাছে এসে উত্ত্যক্ত করলে খবর আছে।’ কথাগুলো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গেই বলল ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ছাত্রী লিমা। শুধু লিমা নয়, ওই মহাবিদ্যালয়ের কোনো ছাত্রীই বখাটেদের ভয় পায় না। নিয়মিত কারাতে অনুশীলন করে তারা এখন আত্মবিশ্বাসী। এ কারণে ওই কলেজের কোনো ছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করতে সাহস পায় না বখাটেরা। 

জানা গেছে, বেগম ফজিলাতুননেসা মুজিব মহিলা মহাবিদ্যালয়ে দুই বছর ধরে কারাতের প্রশিক্ষণ নিচ্ছে ছাত্রীরা। ব্যতিক্রমী এ কর্মসূচির উদ্যোক্তা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি অ্যাডভোকেট ইমদাদুল হক সেলিম। তাঁর অনুরোধে কারাতে অভিজ্ঞ আব্দুল কাদের চৌধুরী মুন্না দুই বছর ধরে মেয়েদের নিয়মিতভাবে কারাতের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। 

সপ্তাহে এক দিন শেখানো হয় কারাতে। পরে প্রশিক্ষণার্থীরা বাড়িতে গিয়ে চর্চা করে। এভাবে তারা দিন দিন কারাতে দক্ষ হয়ে উঠছে। কারাতের কসরত দেখিয়ে ওই কলেজের মেয়েরা উপজেলা সদরের বিভিন্ন প্রতিযোগিতা থেকে পুরস্কারও ছিনিয়ে আনছে।

এ ব্যাপারে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ইমদাদুল হক সেলিম  বলেন, ১৯৯৯ সালে কলেজটি যাত্রা শুরু করে। উদ্দেশ্য ছিল এলাকার দরিদ্র ও ঝরে পড়া মেয়েদের কলেজে নিয়ে আসা।

শুরুতে ৫২ জন ছাত্রী ছিল। এখন এ সংখ্যা তিন শতাধিক। ছাত্রীদের ড্রেস ও সব বই কলেজ থেকেই দেওয়া হয়। তিনি আরো বলেন, ছাত্রীরা কলেজে আসা-যাওয়ার পথে বখাটেরা মাঝেমধ্যে উত্ত্যক্ত করত। পরে তিনি তাদের সাহসী ও আত্মবিশ্বাসী করে গড়ে তুলতে কারাতে শেখানোর ব্যবস্থা করেন। এ সময় তাঁর বন্ধু কারাতে মাস্টার আব্দুল কাদের চৌধুরী মুন্না সহযোগিতার হাত বাড়ান। তিনি ছাত্রীদের কারাতে প্রশিক্ষণ দেওয়ার দায়িত্ব নেন।

ইমদাদুল হক সেলিম বলেন, কলেজের প্রায় অর্ধেক ছাত্রীকে সময় সুযোগ বুঝে কারাত শেখানো হয়। তবে লেখাপড়ার যেন ক্ষতি না হয় সে বিষয়টিও মাথায় রাখা হয়। বছরখানেক আগে এক ছাত্রীকে এক বখাটে বিরক্ত করেছিল। পরে সেই ছাত্রী কারাতে শিখে লাথি মেরে ছেলেটিকে সাইকেলসহ ফেলে দেয়। এরপর বখাটেকে পুলিশের হাতে তুলে দেয় ওই ছাত্রী। বর্তমানে কোনো বখাটেই ওই কলেজের মেয়েদের বিরক্ত করার সাহস পায় না।

কারাতে প্রশিক্ষক আব্দুল কাদের চৌধুরী মুন্না জানান, তিনি কারাতে জানেন। নিজেকে রক্ষার জন্যই প্রশিক্ষণ দেন। মেয়েরা প্রশিক্ষণে খুবই সিরিয়াস। তারা কখনো প্রশিক্ষণে ফাঁকি দেয় না।

এ ব্যাপারে প্রথম বর্ষের ছাত্রী দিলরুবা আক্তার বলে, ‘প্রথমে কারাতে প্রশিক্ষণে আগ্রহী ছিলাম না। এখন ভালো লাগে। বাড়ির লোকজনও উত্সাহ দেয়। বখাটেরাও ভয় পায়।’

আরেক ছাত্রী ফাতেমা আক্তার বলে, ‘আমরা এখন অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী।’

মন্তব্য