শিশুর হাতে হাতকড়া-334886 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


শিশুর হাতে হাতকড়া

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শিশুর হাতে হাতকড়া

হাতকড়া পরা রবিউল ইসলাম জিহাদ। ছবি : কালের কণ্ঠ

হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত মা-বাবার সঙ্গে চৌদ্দ বছরের এক শিশুকে গ্রেপ্তার করেছে দিনাজপুরের গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গাজীপুর থেকে ওই শিশুকে বৃহস্পতিবার রাতে আটকের পর থেকে গতকাল শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তার হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। অথচ আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তার করার পর কোনো শিশুকে হাতকড়া পরানো যাবে না।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ঘোড়াঘাট উপজেলার বিন্যাগাড়ীতে গত বছরের ৩০ অক্টোবর খুন হন আশরাফুল ইসলাম ওরফে গোলাম মোস্তফা (৬৮)। এ ঘটনায় নিহতের ভাই আকবর আলী ওরফে লাল মিয়া, তাঁর স্ত্রী পিয়ারা বেগম ও ছেলে রবিউল ইসলাম জিহাদকে আসামি করে মামলা করেন নিহতের ছেলে মনির হোসেন রিপন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) বজলুর রশিদ বলেন, ‘গ্রেপ্তার এড়াতে অভিযুক্তরা ঘটনার পরপর আত্মগোপন করেন। প্রায় চার মাস পর গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।’

শিশুটির বাবা আকবর আলী ওরফে লাল মিয়া বলেন, ‘ছেলের বয়স ১৪ বছর। সে ঘোড়াঘাট উপজেলার রামেশাপুর ফাজিল মাদ্রাসায় ৯ম শ্রেণিতে পড়ত। হত্যা মামলায় নাম জড়িয়ে যাওয়ায় তাকে সঙ্গে করে গাজীপুরে আশ্রয় নিয়েছিলাম। এ কারণে গত বার্ষিক পরীক্ষায় সে অংশ নিতে পারেনি।’

২০১৩ সালের শিশু আইন অনুযায়ী গ্রেপ্তার করার পর কোনো শিশুকে হাতকড়া বা কোমরে দড়ি বা রশি লাগানো যাবে না। আটক শিশুকে অন্য আসামিদের সঙ্গে রাখা যাবে না। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের ক্ষেত্রে বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে। তার বিচার হবে শিশু আদালতে।

এ প্রতিবেদন লেখার সময় গতকাল বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিশুটিকে ডিবি কার্যালয়ে হাতকড়া পরা অবস্থায় থাকতে দেখা গেছে। হাতকড়ার আরেক প্রান্ত তখন আলমিরার সঙ্গে লাগানো ছিল। জিহাদ বলে, ‘ক্লাস টেনে ওঠার কথা ছিল। পালিয়ে থাকায় পরীক্ষা দিতে পারিনি।’ এ সময় তার চোখমুখে আতঙ্ক দেখা গেছে।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তদন্ত কর্মকর্তা বজলুর রশিদ বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতদের দিনাজপুরে আনতে একটি ভাড়া করা মাইক্রোবাসে করে গতকাল শুক্রবার ভোরে রওনা দিই। নিরাপত্তার স্বার্থে দীর্ঘপথ পাড়ি দিতে বাপ-ছেলের হাতে হাতকড়া পরাতে হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতের মাধ্যমে ওই শিশুসহ গ্রেপ্তারকৃতদের জেলা কারাগারে পাঠানো হবে। শিশুকে আলাদা রাখার বিষয়টি কারা কর্তৃপক্ষ দেখবে।’

মন্তব্য