ভোলায় আ. লীগের বিদ্রোহীদের প্রস্থান-334881 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


ভোলায় আ. লীগের বিদ্রোহীদের প্রস্থান

ভোলা প্রতিনিধি   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ভোলায় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে ততই কমছে আওয়ামী লীগের ‘বিদ্রোহী’ চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংখ্যা। দলীয় চাপ, হামলা-মামলার ভয় বা দলের প্রতি আনুগত্য দেখিয়ে বিভিন্ন উপজেলার বেশির ভাগ বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনী মাঠ থেকে ইতিমধ্যে সরে গেছেন। যাঁরা এখনো প্রচারে রয়েছেন তাঁদের ওপরও দলীয় বিভিন্ন চাপ রয়েছে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে। এতে কোনো কোনো প্রার্থী নির্বাচনী কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ করে দিয়েছেন। ফলে ইউপি নির্বাচনকে ঘিরে আওয়ামী লীগের ঘরে জ্বলে ওঠা বিদ্রোহের আগুন যেন ক্রমেই নিভে যাচ্ছে।

ভোলা সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য ও ওই ইউপির বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী জহিরুল ইসলাম নির্বাচন থেকে সরে গেছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি সদর রোডের ভোলা রিপোর্টার্স ইউনিটির অস্থায়ী কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘ইউপি নির্বাচনে আমি ইলিশা ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছি। আনারস প্রতীক নিয়ে এত দিন আমি নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছি। কিন্তু জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে ভালোবেসে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখে এবং নৌকা প্রতীকের বিজয়ের স্বার্থে আমি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালাম। আমার নির্বাচনী সব কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণা করলাম।’

বোরহানউদ্দিন উপজেলার পক্ষিয়া ইউপির আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সহসভাপতি আলাউদ্দিন সর্দারও (আনারস প্রতীক) সরে গেছেন নির্বাচন থেকে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বরহানগঞ্জ বাজারে এক নির্বাচনী উঠান বৈঠকে তিনি এ ঘোষণা দিয়ে নৌকা প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানান। বৈঠকে সংসদ সদস্য তোফায়েল আহমেদের ছেলে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাউনুল হোসেন বিপ্লব, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জসিমউদ্দিন হায়দার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, উপজেলা চেয়ারম্যান মহব্বত জান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী নাগর হাওলাদারসহ দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। আলাউদ্দিন সর্দার বলেন, প্রচারে হামলা ও মামলার ভয়ে তিনি বৃহস্পতিবার রাত থেকে নির্বাচনী কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।

এর আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের চাপে ৮ নম্বর আলীনগর ইউপির স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী জাহিদুল হক শুভ (আনারস প্রতীক) ও তাঁর স্ত্রী সানজিদা হক (টেলিফোন প্রতীক) নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। শুভ আলীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য।  দলীয় চাপে নির্বাচন থেকে সরে গেছেন বিদ্রোহী চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বোরহানউদ্দিনের দেউলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক শাহজাদা তালুকদারসহ দলটির অনেক নেতাই।

দলীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগের যেসব নেতা এখনো বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে রয়ে গেছেন তাঁদেরও চাপ দেওয়া হচ্ছে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে। এই চাপে কেউ কেউ নির্বাচনী মাঠে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেছেন, কেউ বা নির্বাচনী কার্যক্রম অনেকটা বন্ধ করে দিয়েছেন।

মন্তব্য