kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


পুলিশের সামনে পিটিয়ে হত্যা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

১২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



পুলিশের সামনে পিটিয়ে হত্যা

পুলিশসহ অসংখ্য মানুষের সামনেই ছেলের উপর্যুপরি মারধরে মারা যাচ্ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা মীর এমদাদুল কবির মানিক। এ সময় পুলিশ এগিয়ে গেলে তিনি অনুরোধ করেন, ছেলেকে যেন মারধর করা না হয়।

ছেলের প্রতি এতটাই ভালোবাসা ছিল তাঁর। এ তথ্য জানিয়েছেন নিহতের শ্যালক মুসা মারুয়া।

গত বুধবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর শহরের পশ্চিমপাড়ায় যে ঘটনা ঘটে গেছে, তা বিশ্বাস করতে চায় না এলাকার লোকজন। তাদের প্রশ্ন, কী করে একজন শিক্ষিত ছেলে সবার সামনে বাবাকে এমন নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করতে পারে। এ ঘটনায় পুলিশেরও চরম ব্যর্থতা আছে বলে মনে করছে এলাকাবাসী। পুলিশের সামনেই এ ঘটনা ঘটলেও মুক্তিযোদ্ধা মানিককে রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসীর মতে, এখনই মাদক রোধ করা সম্ভব না হলে এ ধরনের ঘটনা আরো ঘটতে পারে।

বুধবারের নির্মম ঘটনাটির ভিডিও চিত্র এখন কটিয়াদীর মানুষের হাতে হাতে। এতে দেখা যায়, বসতঘরের মূল গেটে তালা লাগিয়ে তার বাবাকে রড দিয়ে পেটানো হচ্ছে। স্থানীয় লোকজন তাকে তার বাবাকে না মারার অনুরোধ করছে। কিন্তু সে কিছুতেই শুনছে না এ কথা। বিরতি দিয়ে দিয়ে তিন-চার ঘণ্টা ধরে মারধর চলে। পরে অবশ্য পুলিশ গিয়ে দরজা ভেঙে মুমূর্ষু মানিককে উদ্ধার করলেও তাঁকে আর বাঁচানো যায়নি।

স্থানীয় আনন্দমোহন কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা আনোয়ারুল কবির জনকে খুবই আদর করতেন ইটভাটার মালিক মুক্তিযোদ্ধা মীর এমদাদুল কবির মানিক। কিছু চাওয়ার আগেই ছেলেকে তা দিতেন। তিনটি মেয়ে রয়েছে জনের। বিস্তর সহায়-সম্পত্তির মালিক সে। সংসারে অভাব বলতে কিছু ছিল না। স্থানীয়দের মতে, অতি আদর পেয়ে ছেলেটি বখে যায়। ধীরে ধীরে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। সম্প্রতি সে বেপরোয়া আচরণ করতে থাকে।

পশ্চিমপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুবিনয় সাহা ও বিজয় স্যান্নাল বলেন, ওই রাতে জন তাদের বাসাসহ সংখ্যালঘুদের পাঁচটি বাড়িতে তাণ্ডব চালায়। এ সময় তার হাতে দা ছিল। এ সময় তার হাতে-পায়ে ধরে মাফ চাইলে সে নিবৃত্ত হয়। পরদিন ভোরে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা নিয়ে ধাওয়া করলে সে দৌড়ে বাড়ি গিয়ে ঘরে তালা দিয়ে তার বাবাকে জিম্মি করে এ ঘটনা ঘটায়।

জনের মামা মুসা মারুয়া বলেন, ‘পুলিশ প্রায় তিন-চার ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়েও সফল হয়নি। যখন পুলিশ ও স্থানীয়রা কিছু করতে গেছে, তখনই জন আরো মারমুখী আচরণ করেছে তার বাবার সঙ্গে। একবার অবশ্য পেছনের দরজা ভেঙে কয়েকজন পুলিশ ও আমরা ভেতরে ঢুকেছিলাম। তখন সে পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এতে একজন উপপরিদর্শক গুরুতর আহত হন। তাঁর সঙ্গে আরো দুজন পুলিশও আহত হয়। পরে পুলিশ ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। তখন সাহস করে কিছু একটা করা গেলে ভগ্নিপতিকে হয়তো বাঁচানো যেত। একবার স্থানীয়রা জনকে গুলি করার কথা বলেছিল। কিন্তু মৃত্যু পথযাত্রী আমার ভগ্নিপতি ছেলের ভালোবাসায় এতটাই অন্ধ ছিলেন যে, তিনি এ কাজ করতে পুলিশ ও উপস্থিত লোকজনকে বারণ করেন। তিনি হয়তো ভেবেছিলেন, ছেলে শেষপর্যন্ত তাঁকে হত্যা করবে না। ’

গতকাল শুক্রবার সকালে জনদের বাড়ি গিয়ে তার মা শামসুন্নাহার হেনার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। গুরুতর অসুস্থ থাকায় তিনি কথা বলতে পারছেন না। জনের স্ত্রী কবিতার দেখা পাওয়া গেলেও তিনি কোনো কথা বলতে রাজি হননি। পরিবারের লোকজন জানিয়েছে, মুক্তিযোদ্ধা মানিককে লোহাজোড়া গ্রামের বাড়িতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়েছে। কটিয়াদী থানার ওসি আবদুস সালাম পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যর্থতার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ছেলের রডের আঘাতে মানিকের দুই পা, মাথা, ঘাড়সহ পুরো শরীর থেঁতলে গিয়েছিল।


মন্তব্য