kalerkantho


রৌমারীতে এসএসসির ব্যবহারিক পরীক্ষা

টাকায় মিলছে নকলের সুযোগ, না দিলে ফেল

কুদ্দুস বিশ্বাস, রৌমারী (কুড়িগ্রাম)   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্যবহারিক পরীক্ষায় নকলের সুযোগ দেওয়া হবে, নম্বরও দেওয়া হবে বেশি—এমন আশ্বাসে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কুড়িগ্রামের রৌমারীতে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভাষ্য, টাকা না দিলে পরীক্ষায় পাস নম্বর মিলবে না বলেও হুমকি দিয়েছেন কোনো কোনো স্কুলের প্রধান শিক্ষক।

রৌমারী সি জি জামান উচ্চ বিদ্যালয়, শৌলমারী এমআর উচ্চ বিদ্যালয় ও যাদুরচর উচ্চ বিদ্যালয়—উপজেলার এই তিন পরীক্ষাকেন্দ্রে মানবিক ও বিজ্ঞান শাখায় পরীক্ষার্থী আছে এক হাজার ৯৪৩ জন। সব পরীক্ষার্থীর জন্যই আইটি (তথ্যপ্রযুক্তি) বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা বাধ্যতামূলক। বিজ্ঞান বিভাগে ব্যবহারিক পরীক্ষা আছে পদার্থ, রসায়ন, জীববিজ্ঞান ও উচ্চতর গণিতে। আর মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষা আছে কৃষি ও শরীরচর্চা বিষয়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ব্যবহারিক পরীক্ষা শুরু হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, যাদের এক বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা, তাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ২৫০ টাকা করে। দুই বিষয় হলে এই অঙ্ক ৫০০ টাকা। আর পাঁচ বিষয়ের জন্য ‘প্যাকেজ’ নেওয়া হচ্ছে জনপ্রতি এক হাজার টাকা করে। জানা গেছে, এ টাকা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায় করছেন তাদের স্কুলের প্রধান শিক্ষকরা।

এ ক্ষেত্রে টাকা দিলে মিলছে নকলে সহযোগিতার আশ্বাস; আর না দিলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি। রৌমারীতে খুঁজে এমন স্কুল পাওয়া যায়নি, যেখানে এ টাকা আদায় করা হয়নি।

বিভিন্ন স্কুলের সহকারী শিক্ষকরা বলছেন, আদায় করা টাকার একটা ক্ষুদ্র অংশ পরীক্ষাকেন্দ্রের সচিবদের দেবেন প্রধান শিক্ষকরা। আর বাকিটা যাবে প্রধান শিক্ষকদের পকেটে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রৌমারী সি জি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের একাধিক পরীক্ষার্থী জানায়, প্রধান শিক্ষক তাদের কাছ থেকে এক হাজার টাকার এক পয়সাও কম নেননি। এক অভিভাবক বলেন, ‘ব্যবহারিক পরীক্ষায় টাকা আদায় এখন ট্রেডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ’

নাম প্রকাশে অনচ্ছুিক এক সহকারী শিক্ষকের প্রশ্ন, ‘এই যে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে প্রায় ১০ লাখ টাকা আদায় করা হলো—এ টাকা কারা পাবে?’

কোমরবাঙ্গি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘খালি আমাদেরটা চোখে দেখেন? ঢাকায় তো প্রতি পরীক্ষার্থীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। ’ প্রধান শিক্ষকদের যুক্তি, ব্যবহারিক পরীক্ষায় অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এসে পরীক্ষা নেন। খরচ না দিলে ব্যবহারিক পরীক্ষায় নম্বর কম দেন তাঁরা। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয় শিক্ষার্থীরা।

সি জি জামান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু হোরায়রা, যাদুরচর উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রসচিব আতিউর রহমান এবং শৌলমারী এমআর উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রসচিব ও প্রধান শিক্ষক শহীদুল ইসলাম লিচু দাবি করেন, নকলে সহযোগিতার নামে তাঁরা কোনো টাকা আদায় করেননি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল কবীর বলেন, ‘অবৈধভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগ কেউ আমার কাছে করেনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। ’


মন্তব্য