আ. লীগের প্রার্থী বাছাই নিয়ে প্রশ্ন-334686 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বুধবার । ২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৩ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৫ জিলহজ ১৪৩৭


আ. লীগের প্রার্থী বাছাই নিয়ে প্রশ্ন

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ   

১১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মুন্সীগঞ্জে ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে টাকা লেনদেনের পাশাপাশি তৃণমূলের পছন্দের প্রার্থীকে মনোনয়ন না দিতে নানা ছলচাতুরির আশ্রয় নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার কথা থাকলেও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, প্রার্থী বাছাইয়ে গঠিত কমিটি চাইলে তৃণমূলের মতামতকে উপেক্ষা করতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৬৭টি ইউনিয়নে নির্বাচন হচ্ছে পাঁচ ধাপে। ইতিমধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের তফসিল ঘোষণা হয়েছে। প্রথম ধাপে সিরাজদিখান উপজেলার ১০টি ইউপিতে ২২ মার্চ ভোটগ্রহণ হবে। আর দ্বিতীয় ধাপে শ্রীনগর উপজেলার ১৪টি এবং সিরাজদিখান উপজেলার চারটি ইউপিতে ভোটগ্রহণ হবে ৩১ মার্চ। বর্তমানে এ দুই উপজেলায় নির্বাচনী হাওয়া বইছে। আর পরের ধাপে লৌহজং, টঙ্গিবাড়ী, সদর ও গজারিয়ায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ ক্ষেত্রে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা নানা কৌশল নিচ্ছে। তবে যেসব এলাকায় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, সেখানে বিস্তর অভিযোগ আর অসন্তোষ বিরাজ করছে। সিরাজদিখানের বাসাইল ইউপিতে তৃণমূলের মতামত উপেক্ষা করে ৬০ লাখ টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কমিটি নিয়েও নানা প্রশ্নের উদ্রেক হয়েছে। কেন্দ্রীয়ভাবে জেলা, উপজেলা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক—এ ছয়জনকে নিয়ে মনোনয়ন কমিটি গঠনের কথা রয়েছে। কিন্তু মুন্সীগঞ্জে এ ছয়জনের সঙ্গে বাড়তি যুক্ত হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের নবাগত যুগ্ম সম্পাদক সোহানা তাহমিনা। প্রথমবারের মতো দলীয় ব্যানারে অনুষ্ঠেয় এবারের নির্বাচনে মানোনয়নের ক্ষেত্রে আলোচিত হয়ে উঠেছেন এ নারী। দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি নানাভাবে হস্তক্ষেপ করছেন বলে অভিযোগ তৃণমূল নেতাদের। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন কমিটিতে তাঁর সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ ব্যাপারে লৌহজং-টেউটিয়া ইউনিয়নে মনোনয়নপ্রত্যাশী লৌহজং উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফকির মো. আব্দুল হামিদের ছেলে ফকির মো. আবু ফয়সাল বলেন, ‘প্রার্থী নির্বাচনে স্বল্পসংখ্যক ভোটার হওয়ায় এখানে অর্থ, ক্ষমতা আর ভীতি কাজ করেছে। আমার ইউনিয়নের ২০ জন ভোটারের মধ্যে ১৬ জন ভোটারকে আগের দিন ডেকে নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন আটকে রেখেছে। ভোট শুরুর ১৫ মিনিট আগে তাদের ভোট কেন্দ্রে আনা হয়েছে প্রতিপক্ষের লোকজনের পাহারায়। তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ভোট আদায় করা হয়েছে।’ তা ছাড়া জেলা কমিটি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। জেলা কমিটির ছয় সদস্য এখানে ভোট নিলেও মূলত সদস্যসংখ্যা ছিল সাতজন। এ কমিটির ভোট গ্রহণে স্বচ্ছতা ছিল না। এমনকি ভোটের জন্য কোনো ব্যালট বাক্সও করা হয়নি। ভোটাররা সাদা কাগজে নাম লিখে তাদের হাতে ব্যালট পেপার তুলে দিয়ে চলে এসেছেন। ভোট গণনা বলতে কিছু ছিল না। কমিটি যার নাম ঘোষণা করেছে, তিনিই প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাচ্ছেন। আর এর পেছনে লাখ লাখ টাকার খেলা হয়েছে। ভোটাভুটি ছিল লোক দেখানো ব্যাপার। তাই যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও যথাযথ প্রক্রিয়ায় ভোট না হওয়ায় মনোনয়নবঞ্চিত হতে হচ্ছে অনেক ত্যাগী নেতাকে। তাঁদের ত্যাগ অর্থ আর ভীতির কাছে হার মানছে। এতে আওয়ামী লীগ তার নিজের পায়েই কুড়াল মারছে।

লৌহজংয়ের কলমা ইউনিয়নের মনোনয়নপ্রত্যাশী কেন্দ্রীয় যুবলীগের শিল্প বাণিজ্য উপসম্পাদক আমিনুল ইসলাম সাগর ফকির বলেন, ‘এখানে তৃণমূলের ভোটাভুটিতে কোনো স্বচ্ছতা ছিল না। কাগজে পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে কমিটির হাতে তুলে দিতে হয়েছে। কিন্তু ভোট গণনার সময় প্রার্থীকে রাখা হয়নি। এমনকি ভোটের সময় প্রার্থীর মনোনীত কোনো ব্যক্তিকেও থাকতে দেওয়া হয়নি। আমার এলাকার ভোটারদের মধ্যে সোবহান ফকিরসহ দুজন ভোটার লিখতে পারেন না। তাঁদের ভোট দিয়েছেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক সোহানা তাহমিনা। পড়ালেখা না জানায় সোহানা আপা কাকে ভোট দিলেন তাও তাড়া বুঝতে পারেননি।’ ভোটে অর্থ লেনদেন হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি এ প্রসঙ্গে কিছু বলতে চাই না। সারা বিক্রমপুরে খবর নিয়ে দেখেন লোকে কী বলে।’

এদিকে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে আইনবহির্ভূতভাবে ভোট প্রয়োগ করার অভিযোগ উঠেছে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ লুত্ফর রহমানের বিরুদ্ধে। তিনি নাকি লৌহজং উপজেলার কলামা ইউনিয়ন পরিষদে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে ভোট দিয়েছেন। খিদিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদসহ কয়েক জায়গায়ও ভোট দিয়েছেন।

তবে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ লুত্ফর রহমান টাকা-পয়সা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে জানিয়েছেন, সোহানা তাহমিনা কমিটির সদস্য নন। কমিটিকে সহযোগিতার জন্য তিনি সঙ্গে থাকেন। কমিটির বাইরে এ সভায় সংসদ সদস্য পর্যন্ত থাকেন না। তবে তাঁকে কেন রাখা হয় জানতে চাইলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, কমিটির সদস্যরা ভোট দিতে পারেন না এটা ঠিক নয়। বরং এ কমিটি যা চাইবে, সেটাই হবে। এ কমিটি চাইলে তৃণমূলের ভোটাভুটি ছাড়াই প্রার্থী নির্বাচন করতে পারে।

মন্তব্য