kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

কবে আসবে গ্যাস?

কেরানীগঞ্জ

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কেরানীগঞ্জের পশ্চিমাংশে গ্যাস সরবরাহের জন্য তুরাগ নদের তলদেশে থাকা প্রধান সঞ্চালন পাইপটি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। আর এ জন্য এক মাস আগে ওই পাইপ দিয়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এতে বিপাকে পড়েছে কেরানীগঞ্জের কলাতিয়া, তারানগর, হযরতপুর, শাক্তা ইউনিয়নে বসবাসরত অর্ধলক্ষাধিক পরিবার। মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো সংস্কারকাজ শেষ করতে পারেনি কর্তৃপক্ষ। ফলে কবে নাগাদ গ্যাস পাওয়া যাবে—এ প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের মাঝে।

এ ছাড়া জিনজিরা, শুভাঢ্যা, আগানগর ইউনিয়নে সরবরাহ সচল থাকলেও গ্যাস ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে না। এসব এলাকায় মাঝ রাতে যদিও বা একটু গ্যাস পাওয়া যায়, কিন্তু সকাল হলেই আর থাকে না।

তিতাস কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, আমিনবাজারের তুরাগ নদের তলদেশ দিয়ে যে সঞ্চালন পাইপ দিয়ে কেরানীগঞ্জে গ্যাস সরবরাহ করা হয় সেটি অনেক পুরনো এবং বিভিন্ন স্থানে ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় পাইপটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় তিতাসের সিস্টেম অপারেশন বিভাগ। এ জন্য ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে এলাকাবাসীর দাবি, আরো আগে থেকেই গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সংস্কারকাজ শেষ করে ভুক্তভোগীদের দুর্ভোগ লাঘবের পরিবর্তে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হলেও সংস্কারকাজ ধরা হয় প্রায় ১৫ দিন পর। এদিকে কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ চালু হবে তার সঠিক জবাব দিতে পারছে না খোদ তিতাস কর্তৃপক্ষও।

গতকাল বুধবার সকালে ওই ইউনিয়নে সরেজমিনে দেখা যায়, এসব এলাকার গ্যাসের চুলায় গ্যাস নেই। গ্যাসের চুলার পাশে মাটির চুলা বানিয়ে রান্নার কাজ চালাচ্ছে অনেক গৃহবধূ। মাটির চুলা বানানোর ঝক্কি সামলাতে না পেরে কেউ কেউ আবার কিনে এনেছেন এলপি গ্যাস, কেরোসিনের স্টোভ ও সিমেন্টের তৈরি বিশেষ ধরনের চুলা।

শাক্তা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের একাধিক গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, প্রায় দেড় মাস ধরে তাঁরা গ্যাস পাচ্ছেন না। গ্যাস না থাকায় বাধ্য হয়ে তাঁদের মাটির চুলায় রান্না করতে হচ্ছে। ফলে সময়মতো পরিবারের সবার জন্য খাবার তৈরিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।

কলাতিয়া ইউনিয়নের আকসাইল গ্রামের বাসিন্দা মো. আসলাম জানান, দেড় মাস ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। একাধিকবার গ্যাস অফিসে যোগাযোগ করেছি। কবে গ্যাস আসবে, তারা বলতে পারছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিতাস গ্যাসের জিনজিরা কার্যালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, কবে নাগাদ গ্যাস আসবে তা বলতে পারছি না। বিষয়টি তিতাসের সিস্টেম অপারেশন বিভাগ দেখছে।

এ ব্যাপারে তিতাস গ্যাসের মহাব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যবস্থাপক নওশাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। কিন্তু একাধিকবার তাঁর (নওশাদ) মোবাইল ফোনে কল করা হলেও রিসিভ করেননি তিনি।


মন্তব্য