kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সোনারগাঁয় যুবলীগের অবৈধ বালু ব্যবসা

হুমকিতে মেঘনা সেতু

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সোনারগাঁয় যুবলীগের  অবৈধ বালু ব্যবসা

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর মেঘনা সেতুর পূর্ব পাশে সওজের জায়গা ও নদী দখল করে এভাবেই চলছে বালু ব্যবসা। ছবি : কালের কণ্ঠ

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁর মেঘনা সেতুর উভয় পাশে তিন কিলোমিটারের মধ্যে বালু  তোলার ব্যাপারে রয়েছে সরকারি নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘বুড়ো আঙুল দেখিয়ে’ সেতুর পূর্ব পাশে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরে জায়গা ও নদী দখলে নিয়ে অবৈধ বালু ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে কতিপয় যুবলীগকর্মী।

আর তাদের বালুবাহী বাল্কহেড ও ড্রেজারের ধাক্কায় সেতুর পিলারের মাটি সরে গিয়ে হুমকির মুখে পড়েছে সেতুটি। অথচ অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না প্রশাসন।

সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে সিন্ডিকেট করে মেঘনা সেতুর পূর্ব পাশে অবৈধ বালু ব্যবসা শুরু হয়। রাজনৈতিক চাপে স্থানীয় প্রশাসন ও সওজ সম্প্রতি সেখানে লোক দেখানো উচ্ছেদ অভিযান চালায়। ফলে উচ্ছেদের এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই সেখানে আগের অবস্থাই ফিরে আসে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বালুভর্তি বাল্কহেডের ধাক্কায় মেঘনা সেতুর পূর্ব পাশে পিলারের মাটি সরে যাচ্ছে। এতে সেতুটি হুমকিতে পড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, পিরোজপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক সেলিম রেজার ছোট ভাই জসিমউদ্দিন এবং স্থানীয় যুবলীগকর্মী শাহাবুদ্দিন প্রধান, মাহাবুব মিয়া, তোফায়েল আহম্মেদ স্বপন, তাঁর ভাই সোহেল মিয়া, খোকন মিয়া, আরিফ হোসেন, তাঁর ভাই শরীফ হোসেনসহ একটি সিন্ডিকেট ওই অবৈধ বালু ব্যবসা করে লাখ লাখ টাকা আয় করছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে যুবলীগকর্মী শাহাবুদ্দিন প্রধান ও মাহাবুব মিয়া বলেন, অবৈধ বালু ব্যবসার সঙ্গে তাঁরা জড়িত নন।

সোনারগাঁ উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম নান্নু ও যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হায়দার জানান, যুবলীগের নাম ভাঙিয়ে কেউ অবৈধ বালু ব্যবসা করলে তাদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের জানান, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু পরে তারা জামিনে বের হয়ে আসে। আবারও তারা অবৈধ বালু ব্যবসা শুরু করে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নারায়ণগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী শামস উদ্দিন জানান, মেঘনা সেতুর পূর্ব পাশে অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধ করতে কয়েকবার নোটিশ ও মামলা করা হয়েছে। অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের তালিকা করে খুব শিগগিরই আবার মামলা করা হবে।

সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু নাছের ভূঞা বলেন, ‘অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে একাধিকবার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এর পরও তারা আইন অমান্য করে এ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। সেতুটি রক্ষার স্বার্থে আমরা বালু ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ’

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান মিঞা জানান, মেঘনা সেতুর পূর্ব পাশে অবৈধ বালু ব্যবসা বন্ধ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ) আসনের সংসদ সদস্য লিয়াকত হোসেন খোকা কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘মেঘনা সেতুর নিচে অবৈধ বালু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অচিরেই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তারা যতই প্রভাবশালী ব্যক্তি হোক না কেন, কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। ’


মন্তব্য