kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সেই চার মুক্তিযোদ্ধা হত্যার বিচার আজও হয়নি

গোপালগঞ্জ

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গোপালগঞ্জের চার মুক্তিযোদ্ধা হত্যা দিবস আজ। ১৯৭৩ সালের আজকের দিনে তাঁদের প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়।

এ উপলক্ষে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) গোপালগঞ্জ জেলা কমিটি ও পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। সকালে জেলা শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের প্রেসক্লাবের সামনে হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে। এদিকে ৪৩ বছর পর নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রশ্ন, তাঁদের হত্যাকারীদের বিচার হবে কি?

নিহত মুক্তিযোদ্ধারা হলেন ৮ ও ৯ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ছাত্র ইউনিয়নের গেরিলা বাহিনীর প্রধান সমন্বয়কারী ওয়ালিউর রহমান লেবু, ন্যাপ নেতা কমলেশ বেদজ্ঞ, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিষ্ণুপদ ও মানিক। ১৯৭৩ সালের ১০ মার্চ কোটালীপাড়া উপজেলার টুপুরিয়া ব্রিজের কাছে দিনে-দুপুরে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় তাঁদের। পরদিন গোপালগঞ্জ থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলায় হেমায়েত উদ্দিনসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে বর্তমানে ১৭ জন জীবিত রয়েছেন। হত্যার ৪৩ বছর অতিবাহিত হলেও এর বিচারকাজ এখনো সম্পন্ন হয়নি। উল্টো আসামিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত অন্তত ছয়বার মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন। মামলাটি এখনো স্থগিত অবস্থায় রয়েছে।

নিহত মুক্তিযোদ্ধা কমলেশ বেদজ্ঞের মেয়ে সুতপা বেদজ্ঞ বলেন, ‘১৯৭৩ সালের এই দিনে হেমায়েত বাহিনীর প্রধান হেমায়েতের নেতৃত্বে একদল দুর্বৃত্ত আমার বাবাসহ চার মুক্তিযোদ্ধাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ভেবেছিলাম দেরিতে হলেও বাবার হত্যাকারীদের বিচার হবে। কিন্তু আসামিরা প্রভাব খাটিয়ে মামলাটি বারবার স্থগিত করিয়েছে। ’

কমিউনিস্ট পার্টির গোপালগঞ্জ কমিটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ আবু হোসেন বলেন, ‘দীর্ঘ ৪৩টি বছর অতিবাহিত হলো; কিন্তু মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যন্ত হয়নি। এ মামলার বিচার হবে কি না, আমরা বুঝতে পারছি না। আমাদের দাবি, মামলটি আবার চালু করে বিচারকাজ সম্পন্ন করা হোক। ’

মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন সরদার জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সালে হাইকোর্টের নির্দেশে মামলাটির কার্যক্রম শুরু হয়। পরে ১৯৯৮ সালে মামলাটি গোপালগঞ্জে স্থানান্তর করা হয়। ১৯৯৯ সালের ২৬ আগস্ট হেমায়েত উদ্দিনসহ আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের দিন ধার্য করা হয়। এর আগেই আসামিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট মামলাটি স্থগিত করেন। পরে ২০১২ সালের ৩ এপ্রিল গোপালগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার কার্যক্রম আবার শুরু হয়। কিন্তু পরের বছর ২০১৩ সালের ৮ অক্টোবর উচ্চ আদালতের বিচারপতি সালমা মাসুদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ আসামিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি স্থগিত করেন। বর্তমানে মামলাটি এভাবেই রয়েছে।

তবে মুক্তিযোদ্ধা হেমায়েত উদ্দিন বীরবিক্রম এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ড রাজনৈতিক প্রতিহিংসারই বহিঃপ্রকাশ। কমলেশ আমার খুব কাছের লোক ছিল। তাই তাকে হত্যার পাশাপাশি আমাকে মামলা দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমিও ওই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার চাই। ’


মন্তব্য