kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

কসবায় শিশু মিতু হত্যাকারীর স্বীকারোক্তি

প্রতিশোধের খুন!

ফলোআপ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মা-বাবার ওপর প্রতিশোধ নিতেই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবার বাড়াই গ্রামের শিশু খাদিজা মণি মিতুকে (৭) হত্যা করা হয়েছে। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ঘাতক মো. মাসুক মিয়া এ তথ্য দিয়েছে।

মিতু সৌদি আরবপ্রবাসী মো. আল-আমিন মিয়ার মেয়ে। ঘাতক মাসুম সম্পর্কে শিশু মিতুর চাচা। সে একই উপজেলার লতুয়ামোড়া গ্রামের মো. সমরাজ মিয়া ছেলে।    

গত মঙ্গলবার রাতে মাসুক জেলার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলামের আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছে। জবানবন্দি নেওয়া শেষে আদালত মাসুককে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

মাসুকের জবানবন্দির বরাত দিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কসবা থানার এসআই মো. মুজিবুর রহমান জানান, গত সোমবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে শিশুটিকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পরপরই হত্যা করা হয়। মাসুক প্রথমে মিতুর গলা চেপে ধরে। এক পর্যায়ে সে নিস্তেজ হয়ে পড়লে মারা গেছে বলেই ধরে নেয় মাসুক। কিন্তু কিছুক্ষণ পর মিতুর শরীর কাঁপতে দেখে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাকে বাথরুমে নিয়ে ছুরি দিয়ে জবাই করা হয়। পরে পলিথিনের বস্তায় ভরে লাশ রেখে দেওয়া হয়।

জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডের কারণ সম্পর্কে মাসুক জানায়, সে গোপীনাথপুর ডিগ্রি কলেজের ছাত্র। প্রবাসী আল-আমিন তার মামাতো ভাই। ঢাকায় মাসুকের এক বান্ধবী রয়েছে। মাসুক একদিন তার বান্ধবীকে নিয়ে আল-আমিনের বাড়িতে গিয়ে সেখানে এক ঘণ্টা থেকে চলে যায়। পরে আরেক দিন ওই বান্ধবীকে নিয়ে থাকতে চাইলে বাদ সাধেন আল-আমিনের স্ত্রী রুনা আক্তার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় মাসুক। বিষয়টি রুনা তাঁর স্বামীকে জানালে তিনি সৌদিতে বসবাসরত মাসুকের ভাইদেরও তা জানান। আর বিষয়টি জেনে পরিবারের অন্য লোকজনও মাসুকের ওপর ক্ষুব্ধ হয়। এতে জেদ চাপে মাসুকের মধ্যে। এ অবস্থায় সে আল-আমিনের সন্তানকে খুন করার পরিকল্পনা করে।

গত শনিবার সকালে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে মাসুক শিশু মিতুকে তুলে নিয়ে যায়। পরে পাঁচতলা ভবনের একটি কক্ষে নিয়ে মিতুর শ্বাসরোধ করে। পরে গলা কেটে শিশুটির মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। অপহরণের কিছুক্ষণের মধ্যে শিশুটিকে হত্যা করা হয়। পরে বাইরে বেরিয়ে মোবাইলের নতুন সিম কিনে মেয়েকে অপহরণ করা হয়েছে বলে মা রুনার কাছে দেড় লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। এ ঘটনায় রুনা মামলা করলে পুলিশ বিভিন্ন সময়ে মাসুকসহ মোট পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। রিমান্ডে আনার পর মাসুক পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করে।

প্রসঙ্গত নিখোঁজের দুই দিন পর গত সোমবার সন্ধ্যায় মিতুর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। মাসুকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কসবা পৌর এলাকার ইমামপাড়ার মো. বাবরু মিয়ার বহুতল ভবনের পাঁচতলা থেকে পুলিশ শিশুটির গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে।


মন্তব্য