শিক্ষক বরখাস্ত, জেল লাখ টাকা জরিমানা-334156 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


চাটমোহরে ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি

শিক্ষক বরখাস্ত, জেল লাখ টাকা জরিমানা

পাবনা প্রতিনিধি   

১০ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শিক্ষক বরখাস্ত, জেল লাখ টাকা জরিমানা

পাবনার চাটমোহরের চড়ইকোল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে একই বিদ্যালয়ের শিক্ষককে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাঁকে আরো তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি। এর আগে অভিযুক্তের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী। গতকাল বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।

দণ্ডিত রফিকুল ইসলাম চাটমোহর উপজেলার কাটাখালী গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে। সূত্র জানায়,  বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জরুরি বৈঠকের শেষে অভিযুক্ত ইংরেজি বিষয়ের সিনিয়র শিক্ষক রফিকুলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। ২০০৫ সালেও এ ধরনের একটি ঘটনায় তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছিল বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম বেশ কিছু দিন ধরে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় বিভিন্ন অজুহাতে ছাত্রীদের শরীরে হাত দেন। গত মঙ্গলবারও তিনি একই কাণ্ড করেন। বিষয়টি গতকাল সকালে জানাজানি হলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, তাদের অভিভাবক ও এলাকার মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। রফিকুলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রধান শিক্ষকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেয় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। পরে বিক্ষুব্ধরা রফিকুলের শাস্তির দাবিতে চড়ইকোল বাজারে মিছিল বের করে। একপর্যায় বিক্ষুব্ধদের রোষানল থেকে বাঁচাতে অন্য শিক্ষকরা বিদ্যালয়ের কক্ষে রফিকুলকে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে ইউএনও (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিজানুর রহমান পুলিশ নিয়ে বিদ্যালয়ে গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করেন। পরে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ইউএনওর ভ্রাম্যমাণ আদালত রফিকুলকে ওই দণ্ড দেন। এতে শান্ত হয় বিক্ষোভকারীরা।

এদিকে মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুরের গাংনীর ভাটপাড়া কুঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষককে পিটিয়েছেন বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিচার দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে; যার অনুলিপি যশোর শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকেও পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে গাংনী থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবারের ওই ঘটনায় গতকাল বুধবার সকাল থেকে বিদ্যালয়ে পাঠদানসহ অন্যান্য কার্যক্রম বন্ধ রেখেছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। অভিযুক্ত বহিষ্কৃত প্রধান শিক্ষক মশিউর রহমানের বিচার না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা বিদ্যালয়ের কোনো কার্যক্রমে অংশ নেবেন না বলে জানানো হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার ধর্মীয় শিক্ষক ওয়াজেদ আলী জানান, মশিউর রহমান মঙ্গলবার সকালে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের তার ক্লাসে আসতে বললে ক্ষিপ্ত হয়ে মশিউর রহমান তাঁকে মারধর করেন এবং ক্লাসরুম থেকে বের করে দেন।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক রাশিদুল ইসলাম বলেন, বরখাস্তকৃত শিক্ষক মশিউর রহমানের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকরা স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি জিয়ারুল ইসলাম মুকুল জানান, এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার হওয়া উচিত। প্রায় পাঁচ লাখ টাকার দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যশোর শিক্ষা বোর্ড তাঁকে গত ২৭ নভেম্বর বহিষ্কার করে।

মন্তব্য