kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।

নিখোঁজ পোশাক কর্মীর লাশ কারখানায়

পরিবারে মাতম

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করা ময়মনসিংহের হালুয়াঘাটের বাসিন্দা দীপক কুমার সাহার লাশ গতকাল মঙ্গলবার দাহ করা হয়েছে। এর আগে গত শনিবার থেকে নিখোঁজ দীপকের লাশ পাওয়া যায় সোমবার সন্ধ্যায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কালিয়াকৈরের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকার ইন্টারস্টফ নামের পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন দীপক। তাঁর ছয় মাসের একটি মেয়ে রয়েছে। গত শনিবার রাত ৯টার দিকে রাতের ডিউটি করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি। পরদিন বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন কর্মস্থলে খোঁজ নিলে জানানো হয় নাইট ডিউটি শেষে দীপক সকালে কারখানা থেকে বেরিয়ে গেছেন। পরে সম্ভাব্য সব জায়গায় খুঁজে তাঁকে না পেয়ে সোমবার সকালে দীপকের বাবা দেবব্রত সাহা কারখানার ডিজিএম রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে কালিয়াকৈর থানায় অভিযোগ জানান।

এদিকে দুপুরে কারখানার জুনিয়র এক্সিকিউটিভ তন্ময় সাহা ফোন করে দীপকের খালাতো ভাই সুবীর সাহাকে কারখানায় আসতে বলেন। সুবীর কারখানায় এলে কর্তৃপক্ষ তাঁকে ভেতরে নিয়ে কিছুক্ষণ বসিয়ে রেখে আবার বের করে দেয়। এ নিয়ে দীপকের পরিবারের লোকজনের সন্দেহ হয়। অন্যদিকে কারখানার ভেতর দীপকের লাশ পাওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে তাঁর পরিবারের লোকজন কারখানায় যোগাযোগ করে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আবারও জানায় দীপক কারখানায় নেই এবং কারখানায় দীপকের লাশ থাকার খবর মিথ্যা। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তাঁর পরিবারের লোকজনের বাগিবতণ্ডা হয়। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর থানা পুলিশ কারখানায় আসে। তারা কারখানার ভেতর একটি গর্ত থেকে দীপকের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। পরে রাতেই পুলিশ কারখানার ডিজিএম রফিকুল ইসলামসহ পাঁচ কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। রাতেই তাঁদের ছেড়ে দিয়ে কারখানার ফ্লোর ইনচার্জ ফরিদ হোসেন ও সুপারভাইজার মনির হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ময়নাতদন্ত শেষে তাঁর লাশ সফিপুরে বাসায় নিয়ে আসা হলে এক হূদয়বিদারক দৃশ্যের সৃষ্টি হয়। নিহত দীপকের বাবা দেবব্রত সাহা বাক হারিয়ে লোকজনের দিকে শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকেন। স্ত্রী তাঁর লাশের ওপর কান্নায় ভেঙে পড়েন। এ সময় দীপকের ছয় মাসের মেয়ে দিশা কিছু না বুঝলেও মাকে কাঁদতে দেখে নিজেও কাঁদতে শুরু করে। পরে বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় সফিপুর শ্মশানে দীপকের লাশ দাহ করা হয়।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দীপকের কর্মস্থলে কেউ যেন কোনো নাশকতা করতে না পারে, সে জন্য কারখানার গেটের সামনে জলকামানসহ কয়েক প্ল্যাটুন পুলিশ সকাল থেকে মোতায়েন রাখা হয়। কালিয়াকৈর থানার ওসি আব্দুল মোতালেব মিয়া বলেন, নিহতের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতন্তের রিপোর্ট পেলে তাঁর মৃত্যুর কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মামলা করা হয়নি।


মন্তব্য