কিশোরগঞ্জে বাধ্যতামূলক অবসরে চার-333758 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


বিবিয়ানা-ধনুয়া গ্যাস লাইনে দুর্নীতি

কিশোরগঞ্জে বাধ্যতামূলক অবসরে চার জরিপকারক

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গ্যাসের পাইপলাইন নির্মাণের প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে কিশোরগঞ্জের চার জরিপকারককে (সার্ভেয়ার) বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ভূমি অধিগ্রহণে ভুয়া ক্ষতিপূরণ হিসেবে একটি চক্র তিন কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এ চারজন জড়িত। তবে সার্ভেয়ারদের দাবি, এ ঘটনায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বাঁচাতেই তাঁদের বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছেন জেলা প্রশাসক।

প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তারা জানান, গ্যাসের পাইপলাইনটি কিশোরগঞ্জের ওপর দিয়ে সিলেটের বিবিয়ানা থেকে গাজীপুরের ধনুয়া পর্যন্ত গেছে। এ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ করতে ২০১১ সালের নভেম্বরে অনুমোদন দেয় কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন। অনুমোদনের পর রাতারাতি গ্যাস লাইনের অ্যালাইনমেন্ট বরাবর ভুয়া বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করে একটি চক্র। পরে ক্ষতিপূরণের নামে চক্রটি তিন কোটি ৩১ লাখ ২৬ হাজার ১৫২ টাকা ৬৪ পয়সা হাতিয়ে নেয়। পরে অভিযোগ ওঠে, অর্থ আত্মসাতের এ ঘটনায় চার সার্ভেয়ার জড়িত। তাঁরা হলেন হুমায়ুন কবির, নওয়াব হোসেন রাজা, আই এম আশরাফুজ্জামান ও মো. জসিমউদ্দিন। তাঁদের বিরুদ্ধে সার্টিফিকেট মামলা হয়, তদন্ত হয় একাধিক। এ ছাড়া শাস্তি হিসেবে বদলিও করেন জেলা প্রশাসক।

এদিকে ওই চার সার্ভেয়ারের বিরুদ্ধে করা দুটি তদন্তেই তাঁদের জড়িত থাকার কথা উল্লেখ করেছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। আর তদন্তের ভিত্তিতেই গত ১৪ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসক জি এস এম জাফরউল্লাহ চার সার্ভেয়ারকে বাধ্যতামূলক অবসরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, এ ঘটনায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জড়িত।

নওয়াব হোসেন রাজা জানান, ভুয়া ঘরবাড়ি স্থাপনের বিষয়টি টের পেয়ে প্রকল্প পরিচালক মাহমুদ খান ২০১২ সালের ১৬ মে তৎকালীন জেলা প্রশাসক সিদ্দিকুর রহমানকে অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তনের জন্য চিঠি পাঠান। তবে জেলা প্রশাসক পাল্টা চিঠিতে বলেন, অ্যালাইনমেন্ট পরিবর্তনের সুযোগ নেই। পরে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য আরেকটি চিঠি দেন মাহমুদ খান। তাতেও জেলা প্রশাসক একই জবাব দেন। সার্ভেয়ারদের অভিযোগ, ভুয়া ক্ষতিপূরণ পাইয়ে দিতেই প্রকল্প পরিচালকের কথা ওই সময় আমলে নেওয়া হয়নি।

তদন্ত কর্মকর্তা ও জেলার স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক এমদাদুল হক চৌধুরী জানান, তদন্তে চার সার্ভেয়ার দোষী বলে প্রমাণিত হয়েছে। এ ঘটনায় কেবল তাঁরাই দোষী কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি কিছুই বলব না।’

জেলা প্রশাসক জি এস এম জাফরউল্লাহ বলেন, ‘তাঁদের বিরুদ্ধে দুটি তদন্ত হয়েছে। দুটিতেই তাঁরা দোষী প্রমাণিত হয়েছেন।’

মন্তব্য