যুবলীগ নেতাকে গুলি করে ধরল পুলিশ-333756 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২ অক্টোবর ২০১৬। ১৭ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৯ জিলহজ ১৪৩৭


শাজাহানপুরে খুনের আসামিকে ছিনতাইচেষ্টা

যুবলীগ নেতাকে গুলি করে ধরল পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া   

৯ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



যুবলীগ নেতাকে গুলি করে ধরল পুলিশ

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন পুলিশের গুলিতে আহত যুবলীগ নেতা লিটন। ছবি : কালের কণ্ঠ

বগুড়ার শাজাহানপুরে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি যুবলীগ নেতাকে ছিনিয়ে নেওয়ার সময় সহযোগীদের হামলায় চার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। এ সময় পালাতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই যুবলীগ নেতাকে আটক করা হয়েছে। সোমবার গভীর রাতে উপজেলার দুবলাগাড়ি বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

গুলিবিদ্ধ সাজেদুল ইসলাম লিটন উপজেলার আমরুল ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক। তাকে পুলিশি পাহারায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

শাজাহানপুর থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে দুর্বৃত্তরা উপজেলার করতোয়া নদীর তীরে গ্রামীণ ফাস্ট ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানির বিক্রয় কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ মানিককে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এ সময় তাঁর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরদিন সকালে নদীর পাশ থেকে মানিকের বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আগে গ্রেপ্তার দুজন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। তারা জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া লিটন বুকের ওপর উঠে মানিককে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

থানা সূত্র জানায়, সোমবার গভীর রাতে প্রথমে যুবলীগ নেতা সাজেদুল ইসলাম লিটনকে গ্রেপ্তার করা হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর কাছে অস্ত্র থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে তাকে নিয়ে পুলিশ দুবলাগাড়ি বাজার এলাকায় অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চালায়। এ সময় তাকে (লিটন) ছিনিয়ে নিতে সহযোগীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে চার-পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। ককটেলের আঘাতে এক কর্মকর্তাসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হয়। এ সুযোগে লিটন পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে লক্ষ্য করে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে। এ সময় লিটন পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়। তাকে পুলিশি পাহারায় শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনার পর পুলিশ আশপাশের এলাকা তল্লাশি করে চারটি ককটেল, তিনটি রামদা ও একটি ছুরি উদ্ধার করে।

আহতরা হলেন, এসআই কালাচাঁদ ঘোষ, কনস্টেবল আব্দুল হামিদ, কনস্টেবল মেহের আলী ও কনস্টেবল সবুজ মিয়া। তাঁরা বগুড়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

শাজাহানপুর থানার ওসি আলমগীর হোসেন জানান, সুস্থ হওয়ার পর লিটনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তিনি এ ঘটনা ছাড়াও মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। আর হামলার ব্যাপারে এসআই কালাচাঁদ ঘোষ শাজাহানপুর থানায় তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করেছেন।

ঘটনা সম্পর্কে গুলিবিদ্ধ লিটনের স্ত্রী শাহানা বেগম জানান, পুলিশ শত্রুতা করে ঘুম থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে তাঁর স্বামীকে গুলি করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় কোনো অভিযোগ নেই। রাজনীতি করার কারণে ২০১১ সালে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মারামারি মামলা হয়। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। আর এই হত্যার সঙ্গে তিনি জড়িত নন।

আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান বলেন, লিটন একটু উচ্ছৃঙ্খল। তবে এলাকার মাদক ব্যবসার সঙ্গে লিটনের জড়িত থাকার কোনো তথ্য তাঁর জানা নেই।

মন্তব্য