শিক্ষকের ঘুষিতে অচেতন ছাত্র,-333510 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭


শিক্ষকের ঘুষিতে অচেতন ছাত্র, শুশ্রূষার বদলে লাথি

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, গাজীপুর   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বেড়াইদেরচালা আবদুল আউয়াল অ্যাকাডেমির এক শিক্ষক তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রকে ঘুষি মারেন। শিশু ছাত্রটি অচেতন হয়ে পড়ে গেলে শিক্ষক তাকে শুশ্রূষার বদলে লাথি মারেন। গতকাল সোমবার সকালে শ্রেণিকক্ষে এ দৃশ্য দেখে সহপাঠীদের অনেকে কেঁদেছে। ওই ছাত্রের নাম হাবিবুর রহমান (৮)। সে ওই এলাকার ডিমের আড়তদার খলিলুর রহমানের ছেলে। ঘটনার পর স্বজনরা অচেতন অবস্থায় তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।

স্বজনরা জানায়, গতকাল সকাল ১০টা ২০ মিনিটে হাবিবুর বিদ্যালয়ে যায়। সকাল ১১টায় পাঠদান শুরু হয়। তৃতীয় পাঠে ছিল গণিত। এটা চলাকালে শিক্ষক নাঈম ফোরকান মাথায় চুল লম্বা থাকায় হাবিবুরকে বেদম মারধর করেন।

সহপাঠীরা জানায়, পাঠদানকালে ওই শিক্ষক হঠাৎ হাবিবুরের কাছে এগিয়ে যান। ‘মাথায় চুল লম্বা কেন’ জানতে চেয়ে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। তিনি মাথার চুল টেনে ধরে পিঠে সজোরে উপর্যুপরি ঘুষি মারেন। চিত্কার করে হাবিবুর লুটিয়ে পড়লে টেনে তুলে দুই গালে চর-থাপ্পড় দেন। একপর্যায়ে হাবিবুর অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলে ‘ভান ধরেছে’ বলে লাথি মারেন। শিক্ষকের ভয়ংকর রূপ দেখে আতঙ্কে অনেকে কেঁদে ফেলে। পরে টের পেয়ে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইফুল ইসলাম ছুটে গিয়ে হাবিবুরকে উদ্ধার করে অচেতন অবস্থায় বাড়ি পৌঁছে দেন। স্বজনরা তাত্ক্ষণিক তাকে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. সেলিনা আক্তার বলেন, ‘শিশুর দুই গাল ও মাথা ফোলা, পিঠে কালচিটে দাগ রয়েছে। আতঙ্কে সে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। হাসপাতালে আনার পর গতকাল বিকেলে তার জ্ঞান ফিরেছে।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক জানান, নাঈম ফোরকান ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম আহমেদের শ্যালক। প্রায় দুই বছর আগে মোমবাতির আগুনে স্টিলের টুকরো গরম করে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রের গালে ছেঁকা দিয়েছিলেন নাঈম। প্রায় বছর খানেক আগেও দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে বেদম মারধর করেছিলেন। প্রতিবার শ্যালকের পক্ষ নিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিয়েছেন সেলিম।

ছেলের বাবা খলিলুর রহমান অভিযোগ করেন, ‘ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তির পর প্রধান শিক্ষক ও তাঁর স্ত্রী গিয়ে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। ঘটনা কারো কাছে জানালে  ছেলেরই বেশি ক্ষতি হবে বলেও হুমকি দিয়েছেন।’

ঘটনার পর থেকে পলাতক থাকায় অভিযুক্ত শিক্ষক নাঈম ফোরকানের বক্তব্য জানা যায়নি। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেলিম আহমেদ বলেন, ‘ঘটনার জন্য নাঈম অনেক অনুতপ্ত হয়েছেন। এর পরও তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য