বোচাগঞ্জে টহলগাড়ি দুর্ঘটনায়-333352 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


বোচাগঞ্জে টহলগাড়ি দুর্ঘটনায় কনস্টেবল নিহত, আহত ৪

গাইবান্ধায় বাসের ধাক্কায় পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যু

দিনাজপুর ও গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

৮ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



বোচাগঞ্জে টহলগাড়ি দুর্ঘটনায় কনস্টেবল নিহত, আহত ৪

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় পুলিশ সদস্য আবদুল লতিফের মৃত্যুর খবর গাইবান্ধার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ইনসেটে দুর্ঘটনায় বিধ্বস্ত পুলিশের টহলগাড়ি। ছবি : কালের কণ্ঠ

সড়ক দুর্ঘটনায় দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ ও গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। গত রবিবার রাতে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

বোচাগঞ্জের চিলাপাড়া এলাকায় পুলিশের টহল পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে এক পুলিশ সদস্য নিহত ও চারজন আহত হয়েছে। রবিবার রাত আড়াইটার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত সাড়ে ৩টার দিকে মৃত্যু হয় ওই পুলিশ সদস্যের। নিহত কনস্টেবলের নাম আব্দুল লতিফ (৩২)। তিনি গাইবান্ধা সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের দক্ষিণ মধ্যম কুমেদপুর গ্রামের মো. আবু মণ্ডল-লাইলী বেগমের ছেলে। গতকাল সোমবার দুই দফা জানাজা শেষে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। আহতদের মধ্যে কনস্টেবল বেলাল হোসেনকে রংপুর ও কনস্টেবল আব্দুল গাফ্ফারকে দিনাজপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আর সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) রেজাউর রহমান ও পিকআপচালক কনস্টেবল সোহেল রানাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান।

এদিকে নিহত আবদুল লতিফের দক্ষিণ মধ্যম কুমেদপুর গ্রামের বাড়িতে মাতম চলছে। গতকাল বিকেলে সেখানে গিয়ে দেখা যায়, কাঁদতে কাঁদতে মাঝেমধ্যেই জ্ঞান হারাচ্ছেন লতিফের মা-বাবা। তাঁর দুই ভাই, তিন বোনও শোকে পাগলপ্রায়। স্ত্রী মোর্শেদা বেগম দুই ছেলে মতিউর রহমান মীম (১২) ও মুশফিককে (আড়াই বছর) নিয়ে শোকে যেন পাথর হয়ে বসে আছেন। ছবি তুলতে গেলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। চিৎকার করে বলেন, ‘হামি কিচু বুঝি না, হামার স্বামীক আনি দ্যাও।’ ওই বাড়িতে ভিড় করা গ্রামের শত শত নারী-পুরুষও চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি লতিফের স্বজনদের কান্নার সময়। প্রতিবেশীরা জানায়, লতিফ ১৬ বছর ধরে পুলিশে চাকরি করছিলেন। চার বছর ধরে বোচাগঞ্জ থানায় কর্মরত ছিলেন। ১৫ বছর আগে তিনি একই গ্রামের মোর্শেদা বেগমকে বিয়ে করেন।

অন্যদিকে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের গোবিন্দগঞ্জের ফুলবাড়ী হাওয়াখানা এলাকায় গতকাল ভোরে ঢাকাগামী কোচের ধাক্কায় নিহত পুলিশ কর্মকর্তার নাম মো. ওবায়দুর রহমান (৪১)। তিনি রংপুর রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সে (আরআরএফ) সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত ও গোবিন্দগঞ্জ থানায় ডেপুটিশনে ছিলেন। দিনাজপুরের নাবাবগঞ্জ উপজেলার হাতিশাল গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাবের তৃতীয় ছেলে। সূত্র জানায়, ওবায়দুর রহমান গোবিন্দগঞ্জ থানার অন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রবিবার রাতে রংপুর-ঢাকা মহাসড়কে ডিউটি করছিলেন। গতকাল ভোরে তিনি হাওয়াখানা ব্রিজ এলাকায় পুলিশের পিকআপ ভ্যান থেকে নেমে মহাসড়কের পাশে টয়লেট করতে যান। এ সময় ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী কোচ তাঁকে ধাক্কা দিলে তিনি নিহত হন।

এদিকে অসুস্থ বড় মেয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ঝর্ণার চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে গতকাল ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল ওবায়দুর রহমানের। রবিবার সন্ধ্যায় শেষবারের মতো ফোনে পরিবারের সঙ্গে এমন কথাই হয়েছিল তাঁর। কিন্তু রবিবার মধ্যরাতে তাঁর অপমৃত্যুর সংবাদে মাতম শুরু হয় পরিবারে। গতকাল দুপুরে গাইবান্ধার জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে স্বজনদের কাছে লাশ তুলে দেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ওবায়দুররা ৯ ভাই-বোন। তিন মেয়ের বাবা ওবায়দুরের পরিবার দাউদপুর বাজারের বাড়িতে থাকেন।

 

মন্তব্য