kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কারখানা চলে অবৈধ গ্যাসে

কেরানীগঞ্জ

আলতাফ হোসেন মিন্টু, কেরানীগঞ্জ   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কেরানীগঞ্জের প্রায় অর্ধশত ওয়াশিং ও ডায়িং কারখানার গ্যাস সংযোগ অবৈধ বলে অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে বেশ কয়েকটি কারখানা আছে, যারা বৈধ সংযোগ থাকার পরও অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে গ্যাস ব্যবহার করছে।

আর পুরো প্রক্রিয়াটির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে তিতাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কয়েকজন ঠিকাদারের বিরুদ্ধে।

কেরানীগঞ্জে ওয়াশিং ও ডায়িং কারখানা রয়েছে শতাধিক। এ ধরনের কারখানায় সাধারণত গ্যাসের উচ্চ চাপের সংযোগ লাগে। গত শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, কারখানাগুলোর প্রায় অর্ধেক চলে অবৈধ সংযোগের গ্যাসে। আবার বৈধ সংযোগ আছে এমন অনেক কারখানা গ্যাসের চাপ বাড়াতে ব্যবহার করছে কম্প্রেসার মেশিন। কোনো কোনো কারখানায় দেখা গেছে, বৈধ ও অবৈধ দুই ধরনের সংযোগই আছে। অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার অভিযান শুরু হলে এ ধরনের কারখানা বৈধ সংযোগ ব্যবহার করে। আর অভিযান বন্ধ হয়ে গেলে ফের অবৈধ সংযোগ চালু করে। এ ক্ষেত্রে অভিযানের খবর আগেই পেয়ে যান কারখানার মালিকরা।

কারখানা মালিকদের ভাষ্য, অবৈধ গ্যাস সংযোগের বিষয়টি বেশ ভালোভাবেই জানেন তিতাস গ্যাস কম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মালিক জানান, দোহার ওয়াশিং, সততা ওয়াশিং, শ্রাবণী ওয়াশিং, দিপা ওয়াশিং, মক্কা ওয়াশিং, মায়ের দোয়া ওয়াশিং-২, জিলানী ওয়াশিং, আল্লাহ রাসুল ওয়াশিং, এম এস ওয়াশিং, ফ্রেন্ডশিপ ওয়াশিংসহ বেশ কয়েকটি কারখানার মালিক প্রতি মাসে তিতাস গ্যাস কম্পানির কার্যালয়ে ১০-২০ হাজার টাকা মাসোয়ারা দিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস ব্যবহার করছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কারখানা মালিক অভিযোগ করেন, এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিতাস গ্যাসের কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদার জড়িত। ঠিকাদারদের মধ্যে আছেন ইউসুফ, সিরাজ ও শাহ আলম। আর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আছেন তিতাস গ্যাস মেট্রো বিক্রয় বিভাগ জোন-৫ জিনজিরা কার্যালয়ের রাজস্ব শাখার সাবেক উপব্যবস্থাপক সরকার আলম ও উপসহকারী প্রকৌশলী নুরুল আমীন। তবে এই চক্রের মূল হোতা সিরাজ। তাঁর মাধ্যমেই বেশির ভাগ কারখানা মাসোয়ারা পরিশোধ করে। কয়েক মাস আগে সরকার আলম ও নুরুল আমীন জিনজিরা কার্যালয় থেকে বদলি হয়ে গেলেও অবৈধ গ্যাস বাণিজ্য থামেনি। নতুন ব্যবস্থাপক সাকির আহমেদও নাকি এই অবৈধ গ্যাস সংযোগের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।

অবৈধ গ্যাস ব্যবহারকারী দোহার ওয়াশিং কারখানার মালিক ফজলু খালাসী বলেন, ‘আমরা পার্টি করি; আমাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করবেন না। ’ তাঁর কারখানার গ্যাস সংযোগ বৈধ কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমার লোক আপনার সঙ্গে দেখা করবে। ’ ঠিকাদার ইউসুফ বলেন, ‘১০ থেকে ১২টি ছাড়া বাকি কারখানাগুলোর গ্যাস সংযোগ অবৈধ। সাবেক উপব্যবস্থাপক সরকার আলম ও উপসহকারী প্রকৌশলী নুরুল আমীন কয়েকজন ঠিকাদারের মাধ্যমে অবৈধ সংযোগের বাণিজ্য শুরু করেছিল। তারা বদলি হয়ে যাওয়ার পর এখন কারা করছে, তা আমার জানা নেই। ’

অভিযোগের ব্যাপারে সিরাজের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। আরেক ঠিকাদার শাহ আলম বলেন, ‘আমি অবৈধ গ্যাস সংযোগের সঙ্গে জড়িত নই। অন্য কেউ জড়িত থাকতে পারে। ’

কেরানীগঞ্জ ওয়াশিং মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মইনুল হাসান (হুমি) বলেন, ‘আমরা অবৈধ গ্যাস ব্যবহারের বিপক্ষে। আমাদের সমিতির আওতায় ৭১টি কারখানা আছে। কর্তৃপক্ষ চাইলে সবগুলোর ঠিকানা দিতে প্রস্তুত আছি। ’

তিতাস গ্যাস মেট্রো বিক্রয় বিভাগ জোন-৫ জিনজিরা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক সাকির আহমেদ জানান, ‘আমি মাত্র কয়েক মাস হয়েছে এখানে এসেছি। এখনো সব কিছু বুঝে নিতে পারিনি। অবৈধ সংযোগের প্রমাণ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। ’


মন্তব্য