আ. লীগের ফরম ব্যবসা-332999 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

সোমবার । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১১ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৩ জিলহজ ১৪৩৭


আ. লীগের ফরম ব্যবসা

সুমন বর্মণ, নরসিংদী   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আ. লীগের ফরম ব্যবসা

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রি করছে আওয়ামী লীগ। প্রতিটি ফরমের দাম ১৫ হাজার টাকা। এতে উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নে সম্ভাব্য প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন স্থানীয় নেতারা। যদিও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলের কেন্দ্রীয় নির্দেশনার কোথাও মনোনয়নপত্র বিক্রির কথা বলা হয়নি।

দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে স্থানীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বাণিজ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। তবে দলীয় প্রতীকের লড়াইয়ে প্রকাশ্যে এর প্রতিবাদ করছেন না কোনো প্রার্থী।

কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নির্দেশনাতে বলা হয়েছে, ইউনিয়ন কমিটি ওয়ার্ড কমিটির নেতাদের সঙ্গে বর্ধিত সভা করে একজন প্রার্থীর নাম সুপারিশ করবে। সুপারিশ করা নাম থেকে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সমন্বয়ে গঠিত ছয় সদস্যের নির্বাচনী বোর্ড প্রার্থী চূড়ান্ত করে কেন্দ্রে পাঠাবে। পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রীয় কমিটি নির্বাচিত প্রার্থীর নাম ও প্রতীক বরাদ্দ করবে।

রায়পুরা উপজেলার ইউপি নির্বাচনের এখনো তফসিল ঘোষণা হয়নি। অথচ তৃণমূলকে বাদ দিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের সমন্বয়ে গঠন করা হয়েছে পাঁচ সদস্যের নির্বাচন বোর্ড। এতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফজাল হোসাইনকে আহ্বায়ক ও সাধারণ সম্পাদক আবদুস ছাদেককে সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটির বাকি সদস্যরা হলেন—উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইউনুছ আলী ভূঞা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইমান আলী ভূঞা ও সদস্য অ্যাডভোকেট ন ম রুহুল আমিন। নির্বাচন বোর্ড দলীয় মনোনয়ন ফরমের মূল্য নির্ধারণ করে ১৫ হাজার টাকা। গত বুধবার থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত আগ্রহী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কাছে মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হয়। আগামী ১০ মার্চ পর্যন্ত প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।

গত শনিবার দুপুরে রায়পুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীরা নেতাকর্মীদের নিয়ে ভিড় জমিয়েছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুস ছাদেকসহ মনোনয়ন বোর্ডের সদস্যরা প্রার্থীদের কাছে ফরম বিক্রি করছেন। একই সঙ্গে ফরম সংগ্রহ করা প্রার্থীদের কাছ থেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আবেদনপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে রাখা হচ্ছে।

নিলক্ষা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, ‘ফরমের দাম ১৫ হাজার টাকা। ওই টাকা জমা দিয়েই ফরম কিনেছি।’

মির্জাচর ইউনিয়নের দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী আজম খান বলেন, ‘এবারের নির্বাচনে ব্যক্তি ইমেজের সঙ্গে দলীয় প্রতীক ফলাফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। তাই যাঁরা নির্বাচন করবেন, তাঁরা টাকার দিকে না তাকিয়ে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নেতাকর্মী ও প্রার্থীরা বলেন, দলীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে তৃণমূলকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন বোর্ড গঠন করায় প্রার্থী নির্বাচনে কর্তৃত্ব বাড়বে সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের। এতে করে নেতাদের মনোনয়ন বাণিজ্যের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে করে ত্যাগী নেতাদের দলের মনোনয়ন হারানোর শঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য অ্যাডভোকেট ন ম রুহুল আমিন বলেন, ‘বিগত ইউপি নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন ফরম ৫০০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। এতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহের হিড়িক পড়ে যায়। কোনো কোনো ইউনিয়নে ৩০ থেকে ৪০টি মনোনয়নপত্র বিক্রি হওয়ায় প্রার্থী বাছাইয়ে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। সেই বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবার ফরমের মূল্য ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।’

মনোনয়ন বোর্ডের আহ্বায়ক ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফজাল হোসাইন বলেন, ‘স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর পরামর্শে উপজেলা আওয়ামী লীগের তহবিল বৃদ্ধির জন্য মনোনয়নপত্র ফরমের মূল্য ১৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রাপ্ত টাকা প্রতিদিন দলীয় অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে আমাদের প্রত্যাশা, কমপক্ষে ১০০ জন আগ্রহী প্রার্থী ফরম সংগ্রহ করবেন।’ তিনি আরো বলেন, ‘উপজেলার ২৪টি ইউনিয়নে আলাদাভাবে প্রার্থী নির্বাচন করা কঠিন ও সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। তাই উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা করে প্রস্তাবিত দলীয় প্রার্থী নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনা করা হচ্ছে।’

মন্তব্য