kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জাজিরায় প্রতিপক্ষের গুলিতে চালক নিহত

এনায়েতপুরে হামলায় মা-মেয়ে আহত

শরীয়তপুর ও সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার জয়নগর মোল্যাকান্দি গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ হয়ে এক সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক নিহত হয়েছেন। জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গতকাল রবিবার সকালে এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

জাজিরা থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, স্থানীয় দাদন হাওলাদার ও কালাম হাওলাদারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। গতকাল সকাল ৮টার দিকে কালাম হাওলাদারের নেতৃত্বে রাকিব মোল্যা, জুয়েল খান, পান্নু খানসহ একদল সন্ত্রাসী দাদন হাওলাদারের বাড়ি ঘিরে ফেলে। উপায়ান্তর না দেখে দাদন হাওলাদারের পরিবারের লোকজন পাশের মিজান খানের বাড়িতে আশ্রয় নিতে যায়। এ সময় মিজান খানের বাঁশ বাগানে দাদন হাওলাদারের ভাই সোনা মিয়া হওলাদারকে গুলি করে পলিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চালক সোনা মিয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

প্রত্যক্ষদর্শী মিজানুর রহমান খান বলেন, ‘সকালে কালাম হাওলাদারের সমর্থক রাকিব মোল্যা, পান্নু খান, জুয়েল খানসহ ২৫-৩০ জন দাদন হাওলাদারের বাড়ি ঘিরে ফেলে। দাদন হাওলাদারের বাড়ির লোকজন চিত্কার করে আমাদের বাড়িতে আশ্রয় নিতে আসে। সন্ত্রাসীরা আমাদের বাড়িতে ঢুকে বাঁশ বাগানে লুকিয়ে থাকা সোনা মিয়াকে গুলি করে। এগিয়ে গেলে আমাকে লক্ষ্য করেও গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা। একটি গুলি আমার মাথার পাশ দিয়ে চলে যায়। এতে আমার মাথায় সামান্য ক্ষত হয়েছে। ’

নিহতের বাবা লাল মিয়া হাওলাদার বলেন, ‘দিনের বেলা রাকিব মোল্যা, জুয়েল খা, পান্নু খান ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের নিয়ে আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। ’এ ব্যাপারে কথা বলতে কালাম হাওলাদারের বাড়িতে গিয়ে কাউকে পাওয়া যায়নি। জাজিরা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দুই পক্ষের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। সকালে সংঘর্ষের খবর পেয়ে গিয়ে দেখি একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান শুরু করা হয়েছে। ’

এদিকে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানা সদরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় মা ও মেয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত মাকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় হামলাকারীরা তাঁদের বসতভিটায় ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। আহতরা হলেন এনায়েতপুর গ্রামের আব্দুল হাই কুঠিয়ালের স্ত্রী শিরিন বেগম (৫৩) এবং মেয়ে নার্গিস আক্তার (৩২)।

এলাকাবাসী জানায়, এই গ্রামের মুজাম কুঠিয়ালের সঙ্গে তাঁর ছোট ভাই আব্দুল হাই কুঠিয়ালের বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে মাঝেমধ্যে তাদের ঝগড়া-বিবাদের সৃষ্টি হতো। এরই জের ধরে শনিবার রাতে আব্দুল হাইয়ের স্ত্রী শিরিন বেগম বাড়ির বাইরে বের হলে তাঁকে ইট ছুড়ে মারলে সে আহত হয়। এর কিছুক্ষণ পর মুজাম কুঠিয়াল ও তার ছেলেরা লাঠিসোঁটা নিয়ে বাড়ির পশ্চিম পাশের গেট ভেঙে ঘরে ঢুকলে মেয়ে নার্গিস বাধা দেন। এ সময় তাঁকে এবং তাঁর মাকে লাঠি দিয়ে পেটায়। হামলাকারীরা বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুটি আলমারি ও আসবাব ভাঙচুর করে টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। পরে অন্যরা এসে আহতদের উদ্ধার করে।


মন্তব্য