কাউন্সিলর ছানাউরকে ফেসবুকে হত্যার-332725 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৪ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৬ জিলহজ ১৪৩৭


কাউন্সিলর ছানাউরকে ফেসবুকে হত্যার বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর   

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



গাজীপুর সিটি করপোরেশনের (গাসিক) ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ছানাউর রহমানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে গাজীপুর শহরের মান্নান প্লাজায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

ছানাউর বলেন, ‘গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে পরিচিত সন্ত্রাসী শফিকুল ইসলাম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আমাকে হত্যার হুমকি দেন।’ শফিকুল ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মামুন মণ্ডলের সহযোগী। মামুন খুন, চাঁদাবাজিসহ ১৭টি মামলার আসামি।

শফিকুল ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ‘ছানাউর রহমান ছানা মেম্বার, জীবনে আর কোনো দিন কাউন্সিলর হতে পারবি না। তোর মরার শখ হয়েছে। ওই দিন তিন রাউন্ড গুলি করার পরও বেঁচে গেলি। এবার ধরলে আর বাঁচবি না। তোর এসপি বাপ আর এমপি বাপসহ সিরাজুল ইসলাম এমএ চেষ্টা করলেও তোরে বাঁচাতে পারবে না। আমার নাম শফিকুল ইসলাম শফিক খান। একবার যারে ধরি, তারে আর বাঁচাইয়া রাখি না।’

কাউন্সিলর ছানাউর অভিযোগ করে বলেন, মামুন ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে (দৌলতপুর-কামারজুরি) এসে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে আসছিলেন। প্রতিবাদ করায় ক্ষিপ্ত হন। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় মামুন তাঁর সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে হামলা চালান। তারা গাড়ি থেকে নামিয়ে হকিস্টিক দিয়ে বেধড়ক পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাঁর মাইক্রোবাস, কার্যালয়, ঘটনাস্থলের পাশের সাত-আটটি দোকান, দুটি বাড়ি এবং একটি কারখানায় হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এ সময় তারা গুলি ছুড়ে ও ককটেল নিক্ষেপ করে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে মামুন ও তাঁর সহযোগীরা হামলা চালিয়ে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করে। তারা তিন পুলিশকে আহত করে। এ ঘটনায় পুলিশসহ এলাকাবাসী বাদী হয়ে মামুন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে সাতটি মামলা করে। এর পর থেকে তিনি দলবলে পলাতক। পলাতক থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে মামলার বাদীদের খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় তিনিসহ এলাকাবাসী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

ছানাউর আরো জানান, মামুন বাহিনীর চাঁদাবাজিতে কলকারখানার মালিকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা অতিষ্ঠ। শফিকুল খানসহ একাধিক সন্ত্রাসী তাঁর হয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি করে। বিদ্যুৎ লাইন বসানো, জমির বাউন্ডারি, ঘরবাড়ি নির্মাণ করতে গেলে তাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়।

জয়দেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, চাঁদাবাজি, মারামারি, পুলিশকে মারধর, সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন ঘটনায় মামুন ও তাঁর সহযোগীর বিরুদ্ধে কয়েক দিনে সাতটি মামলা হয়েছে। পুলিশের ওপর হামলা মামলায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মামুনসহ অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য