kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সার্কাসের মোটরসাইকেল ছিটকে দর্শক সারিতে

চান্দিনায় শিশু নিহত আহত ১২

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা   

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কুমিল্লার চান্দিনায় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিল্পপণ্য বাণিজ্য মেলায় খেলা (মোটর রেসিং) দেখানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি মোটরসাইকেল দর্শকদের ওপর ছিটকে পড়ে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছে মোটর রেসিং সার্কাস খেলোয়াড় আরিফুল ইসলামসহ অন্তত ১২ জন।

গত শুক্রবার রাতে চান্দিনা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত হৃদয় চক্রবর্তী (১২) চান্দিনা ও বরুড়ার সীমান্তবর্তী এলাকা কাদুটি-ইলাসপুর গ্রামের রতন চক্রবর্তীর ছেলে। সে চান্দিনা থানাসংলগ্ন একটি স্টেশনারি দোকানের কর্মচারী ছিল।

এ ঘটনায় গতকাল শনিবার দুপুরে চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতপরিচয় আরো দু-তিনজনকে আসামি করে মামলা করেছেন রতন চক্রবর্তী। সার্কাস দলের দুই সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন বগুড়ার শেরপুর উপজেলার চকসিংগরা গ্রামের এন্তাজ আলী (৬০) ও চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার কুরুইশ গ্রামের মৃত জাকির হোসেনের ছেলে নাঈম হোসেন (১৮)।

চান্দিনা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সাজেদুল ইসলাম পলাশ জানান, নিহত শিশু হৃদয়ের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে সার্কাস দলের দুই সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্তকে এখনো ধরা যায়নি। আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র জানায়, শুক্রবার রাত ৮টায় চান্দিনা পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সংস্থা আয়োজিত মাসব্যাপী শিল্প ও বাণিজ্য মেলার উদ্বোধন করেন সাবেক ডেপুটি স্পিকার অধ্যাপক মো. আলী আশরাফ এমপি। রাত সোয়া ৯টার দিকে একদল লোক মোটরসাইকেল রেসিং দেখতে যায় ওই মাঠে। খেলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দণ্ডায়মান কাঠের গোলাকার বৃত্তে রেসিং করার (ঘোরা) সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এতে খেলোয়াড় ও মোটরসাইকেলটি ছিটকে দর্শকদের ওপর গিয়ে পড়ে। মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নারী-শিশুসহ ছয়জন আহত হয়। এ সময় আতঙ্কে তাড়াহুড়া করে সরতে গিয়ে আহত হয় অন্তত সাতজন। আহতদের মধ্যে আটজনকে চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও চান্দিনা মেডিক্যাল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। গুরুতর আহত শিশু হৃদয়কে রাত পৌনে ১১টার দিকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অন্য চারজন এ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

আহতরা হলো তিতুসী (৮), সৈকত (১২), এনজিও কর্মকর্তা গিয়াসউদ্দিন (৫০), ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন (৫০), সেলিম (৪৫), জাহানারা (৪৫), রূপালী (১০), সার্কাস খেলোয়াড় আরিফুল ইসলাম ও অজ্ঞাতপরিচয় চারজন।


মন্তব্য