kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অজানা রোগ অজানা ভয়

গাইবান্ধা

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

৬ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



প্রথমে সাদা দাগ। এরপর দুই থেকে তিন মাস না যেতেই শরীর শুকিয়ে কাঠ! কারো হাতে, কারো বা আবার পায়ে।

গাইবান্ধার ফুলছড়িতে এমনই এক অজানা রোগে ধুঁকছে গ্রামবাসী। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ-তরুণী অনেকেই আক্রান্ত এ রোগে। অথচ স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী, উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এমনকি জেলা পর্যায়ের চিকিৎসকরাও রোগটি নির্ণয় করতে পারছেন না। অনুমান করেই তাঁরা রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন। ফলে গ্রামবাসী মুক্তি পাচ্ছে না এ রোগ থেকে।

গাইবান্ধা শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে ফুলছড়ির বালাসীঘাট। ওই গ্রামের নুরুন্নবী তাঁর দুই বছরের মেয়ে নুরুন্নাহার অজানা রোগে আক্রান্ত হয়েছে। তিনি জানান, গত বন্যার পর থেকে মেয়ের শরীরে ওই রোগের উপসর্গ দেখা দেয়। তার ভবিষ্যহৃ নিয়ে তিনি চিন্তিত।

ইব্রাহিম নামের আরেক গ্রামবাসী জানান, তাঁর ছেলে বেল্লাল (১২) দিনদিন দুর্বল হয়ে পড়ছে। খাওয়ার রুচি নেই, হাত-পা চিকন হয়ে যাচ্ছে।

গৃহবধূ ফাতেমা বেগম বলেন, ‘ছোলক নিয়্যা উদ্যাখালীত ডাক্তার দ্যাখেয়া কাম না হওয়ায় গাইবান্ধাত গেছি। তাও ভালো হয় নাই। ’ তাঁর ধারণা, টিকা দেওয়ার পরই ওই রোগ দেখা দিয়েছে।

এ ব্যাপারে স্বাস্থ্যকর্মী স্বপ্না আক্তার জানান, তিনি আটটি ব্লকে টিকা দেন। রেজিস্ট্রেশন করতে গিয়ে অভিভাবকদের কাছে রোগের কথা শুনে বাচ্চাদের দেখেছেন। তাঁদের অভিযোগ টিকার কারণেই এসব হয়েছে। এ ধারণা গ্রামের মানুষকে টিকার প্রতি অনাগ্রহী করে তোলে। পরে তিনি রোগাক্রান্তদের চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে যান। রোগটি কুষ্ঠ কি না, তাও পরীক্ষা করা হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এটি কুষ্ঠ রোগ নয় বলে জানিয়েছেন।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, অজ্ঞাত রোগটির খবর পেয়ে ঢাকায় জানানো হয়েছে। গাইবান্ধা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে খবর পেয়ে গত শুক্রবার ওই এলাকায় আক্রান্ত রোগীদের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছে আইইডিসিআরের আট সদস্যের প্রতিনিধিদল।

ফুলছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আবু হানিফ জানান, প্রাথমিকভাবে অপরিচিত রোগটি ইপিআই টিকার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত কি না, তা নিয়ে আশঙ্কা ছিল। কিন্তু পরে নিশ্চিত হওয়া গেছে, এ রোগের জন্য ইপিআই টিকা দায়ী নয়। কারণ জেলার ইপিআই স্টোর থেকেই সবখানে টিকা সরবরাহ করা হয়। কিন্তু অন্য অঞ্চলে এ রোগ দেখা দেয়নি। গেল বন্যার পর থেকে এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় এ-সংক্রান্ত ৩৪ জন রোগী শনাক্ত করা হয়েছে।

ঢাকা থেকে আসা আইইডিসিআরের আউটব্রেক ইনভেস্টিগেশন অফিসার ডা. ফারহানা হক বলেন, ‘আমরা কাজ করছি এ রোগটি কেন হচ্ছে তা বের করার জন্য। রোগীর কাছ থেকে নমুনা হিসেবে রক্ত বায়োপসিসহ সব শারীরিক পরীক্ষার উপকরণ ঢাকায় নেওয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরই বেরিয়ে আসবে মূল কারণ। তবে আতঙ্কের কোনো কারণ নেই। ’

গাইবান্ধার সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু চৌধুরী বলেন, ‘ঢাকা থেকে আসা দলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নমুনা নিয়ে গেছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন এখনো পাওয়া যায়নি। রোগটি স্নায়ু রোগবিষয়ক হওয়ার আশঙ্কাই বেশি। তবে কোনোভাবেই ছোঁয়াচে নয়। কারণ আক্রান্তরা এক বাড়িতে থাকে না বা একই স্কুলে পড়ে না। ’


মন্তব্য