শ্বশুরবাড়িতে আগুন দিল জামাই -332275 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


শ্বশুরবাড়িতে আগুন দিল জামাই

বাঁশখালীতে অনৈতিক সম্পর্কের বিয়ের জের

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠা প্রতিবেশী যুবকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়ে বিপাকে পড়েছেন বাবা। মেয়ের জামাই যৌতুক দাবি করে না পেয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এতে চারটি কক্ষের একটি ঘরের প্রায় ১২ লাখ টাকার মালপত্র পুড়ে গেছে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, বাঁশখালীর সরল ইউনিয়নের এক মেয়ে ২০১২ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় প্রতিবেশী মৃত নওশা মিয়ার ছেলে রাজমিস্ত্রি আব্দুল গফুরের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে মেয়েটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে গ্রামে বিষয়টি জানাজানি হয়। পরে গ্রামের সবাই মিলে ২০১২ সালের ৫ মার্চ সামাজিকভাবে দুজনের বিয়ে দেয়। বিয়েটা পড়ান গ্রামের কাজি মওলানা মোহাম্মদ জিয়াউল হক। ওই সময় মেয়ের বয়স ছিল মাত্র ১৪ বছর। বিয়ের কাবিননামায় এক লাখ ৫০ হাজার টাকার দেনমোহর লিখে ১৮ বছর বয়স দেখানো হয়েছিল। বিয়ে হওয়ার চার মাসের মাথায় মেয়েটি এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেয়। এর পর থেকে এক লাখ টাকা যৌতুকের জন্য মেয়েটির ওপর শ্বশুরের পরিবার ও স্বামী নানাভাবে চাপ সৃষ্টি করে। প্রতিদিন বেধড়ক পেটাতে থাকে। বাড়ি থেকে বের করে দেয়। মেয়েটি নিরুপায় হয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেয়। বাবার বাড়িতে এসেও রেহাই হয়নি। সেখানে গিয়েও স্ত্রীকে পেটাত স্বামী। এ অবস্থায় মেয়েটি চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা করে। মামলাটি দীর্ঘ কার্যক্রম শেষে ২০১৪ সালের ১৮ নভেম্বর রায় হয়। এতে স্বামীর এক বছরের সাজা হয়। তিন মাস কারাগারে থাকার পর উচ্চ আদালতে আপিল করে জামিনে বের হয়ে আসে। এর কিছুদিন পর গফুর শ্বশুরের বসতঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। কয়েক মাস পর শ্বশুরকে ছুরি মেরে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ নিয়ে ২০১৫ সালের জুনে থানায় মামলা হয়েছে। সর্বশেষ গত বৃহস্পতিবার রাতে ওই স্বামীর দেওয়া আগুনে পুড়ে গেছে শ্বশুরের তিন ছেলেসহ সব ঘর। ওই বাড়ির সবাই বাঁশখালীতে একটি বিয়েবাড়িতে থাকায় কেউ হতাহত হয়নি। আগুন দেওয়ার পর থেকে গফুর হুমকি দিচ্ছে, ‘এখন আগুন লাগিয়েছি। প্রয়োজনে সবাইকে হত্যা করব।’

মেয়ের বাবা ও মা বলেন, ‘দেশের কোনো বিচারে কি আমরা শান্তি ফিরে পাব? আমার মেয়ে স্বামীর সংসারে ফিরে যেতে পারবে? আমাদের কি কেউ কোনো পথ খুঁজে দেবেন?’

সরল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লিয়াকত আলী তালুকদার বলেন, ‘ওই পরিবারের বিষয়টি দুঃখজনক। এটা আমার আয়ত্তের বাইরে। যেহেতু ঘটনাগুলো আইন আদালতে গড়িয়েছে। তা আইনেই বিচার হবে।’

বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামান বলেন, ‘হত্যাচেষ্টার মামলাটি আমার কাছে তদন্তে ছিল। আমি তদন্ত করে অভিযোগপত্র দিয়েছি। ঘরে আগুন লাগানোর খবরও পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য