রাত নামলেই চোর-ডাকাত -332274 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


রাত নামলেই চোর-ডাকাত

লাকসাম-মনোহরগঞ্জ

কুমিল্লা (দক্ষিণ) প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কুমিল্লার লাকসাম ও মনোহরগঞ্জে সম্প্রতি চুরি-ডাকাতির ঘটনা বেড়েছে। রাত নামলেই নামে চোর-ডাকাত। প্রায় প্রতি রাতেই দুই উপজেলার কোথাও না কোথাও চুরি-ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।

চলতি মাসেই কমপক্ষে ২০টি ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তবে মনোহরগঞ্জের চেয়ে লাকসামে চুরির ঘটনা বেশি ঘটছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে দুই উপজেলার সাধারণ মানুষ।

জানা গেছে, গত শুক্রবার রাতে লাকসাম পৌর শহরের পশ্চিমগাঁও গাজী সাহেবের মাজারসংলগ্ন সৌদিপ্রবাসী সৈয়দ হুমায়ুন কবিরের বাড়িতে চুরি শেষে পেট্রল ঢেলে অগ্নিসংযোগ করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় প্রবাসীর প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে যায়। গত বৃহস্পতিবার এক আত্মীয়ের মৃত্যু হলে হুমায়ুন কবিরের স্ত্রী শাহানারা বেগম তাঁর সন্তানদের নিয়ে স্বজনদের দেখতে যান। এ সুযোগে বাড়ির ছাদের দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে মালামাল তছনছ করে টাকা, স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান জিনিসপত্র চুরির পর আলমারি এবং আসবাবে পেট্রল ঢেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা।

এর আগে গত বুধবার রাতে লাকসাম পৌর শহরের গণ্ডামারা এলাকায় গোলাম রহমান দুলালের রহমান স্টোরে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। এ সময় চোররা টাকা, কসমেটিক্স সামগ্রী, মোবাইলের রিচার্জ কার্ড ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানায়, চলতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে উপজেলা পরিষদসংলগ্ন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সুবেদার আবদুল লতিফের বাড়ির রান্নাঘরের গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে খাবারের সঙ্গে নেশাজাতীয় দ্রব্য মিশিয়ে দেয় চোররা। ওই খাবার খেয়ে পরিবারের পাঁচ সদস্য অচেতন হয়ে পড়লে সাত ভরি স্বর্ণালংকার, ৮৫ হাজার টাকা, চারটি মোবাইল ফোনসেট, মূল্যবান মালামালসহ ছয় লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। এ ছাড়া চোররা ঘরের আসবাব তছনছ করে।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ের গ্রিল কেটে একটি ল্যাপটপ, চার্জারসহ ৬৫ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায় চোররা। ওই ঘটনায় উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুল ইসলাম বাদী হয়ে লাকসাম থানায় একটি মামলা করেন। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে পশ্চিমগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কলাপসিবল গেট কেটে স্কুল কার্যালয়ের আলমারি ভেঙে ৯ হাজার টাকাসহ মূল্যবান মালামাল নিয়ে যায় চোররা। পরে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা শম্পা রানী সাহা লাকসাম থানায় একটি জিডি করেন।

এদিকে মনোহরগঞ্জেও প্রায়ই ঘটছে চুরি-ডাকাতির ঘটনা। চলতি মাসের প্রথম দিকে উপজেলার চৌরাইশ গ্রামে আবিদ মাস্টারের ছেলে সৌদিপ্রবাসী আবদুল কাইয়ুম বিল্লালের বাড়িতে হানা দেয় ১৪-১৫ জনের সশস্ত্র ডাকাত। তারা বিল্লাল ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ৩৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ৪০ হাজার টাকা ও ছয়টি মোবাইল ফোনসেট লুটে নেয়। এ সময় দুজনকে পিটিয়ে আহত করে ডাকাতরা।

চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে উপজেলার বেরনাইয়া গ্রামের সোহানী বাড়ির সৌদিপ্রাবাসী মিন্টু মিয়ার বাড়িতে ১০-১২ জন ডাকাত হানা দেয়। পরে অস্ত্রের মুখে বাড়ির লোকজনকে জিম্মি করে ২৪ ভরি স্বর্ণালংকার ও পাঁচ লাখ টাকা লুটে নেয় ডাকাতরা।

এ ব্যাপারে লাকসাম ও মনোহরগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন বলেন, ‘গত কয়েক মাস আমরা শান্তিতে ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে চুরি-ডাকাতি বেড়েই চলেছে। চুরি-ডাকাতির আতঙ্কে আমাদের রাতে ঘুম হয় না। সব সময় ভয়ে থাকি কখন চোর বা ডাকাতদল হামলে পড়ে সব লুটে নেয়।’

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, চুরির অভিযোগে গতকাল চারজনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া সম্প্রতি কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে এসব চুরি-ডাকাতি বন্ধে ও চোর-ডাকাতকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য