kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সখীপুরে অপহৃত মাদ্রাসা ছাত্রীর খোঁজ মেলেনি

সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



টাঙ্গাইলের সখীপুরে এক মাদ্রাসা ছাত্রীকে (১৩) অপহরণের ছয় দিন পরও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

লিখিত অভিযোগ ও মাদ্রাসা ছাত্রীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সখীপুর উপজেলার দাড়িপাকা গ্রামের সোনালী মিয়ার ছেলে চান মাহমুদ বিয়ের পর থেকেই তাঁর স্ত্রীকে মারধরসহ নানাভাবে নির্যাতন করত।

গত শনিবার চান স্ত্রীকে মারধর করে বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয় এবং শ্যালিকাকে (মাদ্রাসা ছাত্রী) অপহরণের হুমকি দেয়। পরদিন রবিবার মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে ছাত্রীটিকে চান ও তার সহযোগীরা অপহরণ করে। এ ঘটনায় ওই দিনই ছাত্রীটির মা চান মাহমুদ ও সোনালী মিয়ার বিরুদ্ধে সখীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ সোনালীকে আটক করে। কিন্তু পরে ওই ছাত্রীকে ফেরত দেওয়ার কথা বলে সোনালীকে ছাড়িয়ে নেন স্থানীয় মাতব্বররা।

ছাত্রীর মা বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই আমার বড় মেয়েকে চান মাহমুদ নির্যাতন করত। বিভিন্ন সময় আমার ছোট মেয়েকে তুইল্যা নিয়া মাইর‌্যা ফেলার হুমকি দিত। সে-ই আমার মেয়েকে নিয়া গেছে। ’

সখীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অপহৃতকে উদ্ধার এবং আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ’ এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত চান মাহমুদের মুঠোফোনে বারবার যোগাযোগ করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

নবীগঞ্জের প্রবাসীকে দাউদকান্দিতে উদ্ধার

এদিকে দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি জানান, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে প্রবাসী সিয়াম আহমেদ মাহিনকে (২৪) অপহরণের ১৫ দিন পর গত বৃহস্পতিবার রাতে কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব। এ সময় অপহরণে অভিযুক্ত দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে র‌্যাব। তারা হলো আক্তার হোসেন (২৬) ও মোতালেব হোসেন (২৩)। র‌্যাব-১১ ও মাহিনের পরিবার জানায়, নবীগঞ্জ উপজেলা সদরের হেলাল উদ্দিনের ছেলে সিয়াম আহমেদ মাহিন বিদেশ থেকে দেশে আসার পর একটি চক্র তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা চাঁদা চায়। চাঁদা না দেওয়ায় ১৫ দিন আগে তাঁকে অপহরণ করে। পরে চক্রটি ওই চাঁদা না দিলে মাহিনকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়। মাহিনের পরিবার বিষয়টি আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে জানায়। পরে নারায়ণগঞ্জের র‌্যাব-১১ সদস্যরা মোবাইল ফোন ট্রেকিং করে দাউদকান্দির বিটমান গ্রাম থেকে উদ্ধার করেন মাহিনকে।

বোয়ালমারীতে দাখিল পরীক্ষার্থীকে উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর জানান, বোয়ালমারী উপজেলায় এক দাখিল পরীক্ষার্থীকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে অপহরণের দুই ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে এক মাইক্রোবাসচালককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ব্যাপারে উপজেলার মোবারকদিয়া গ্রামের নয়ন মোল্লার ছেলে রবি মোল্লাকে (২৫) প্রধান আসামি করে আরো সাত-আটজনের নামে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন মেয়েটির বাবা। গতকাল শুক্রবার গ্রেপ্তার মাইক্রোবাসচালক মো. সহিদুল ইসলাম (৩০) ও উদ্ধার হওয়া মাদ্রাসা ছাত্রীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়। সহিদুল পৌরসভার রায়পুর গ্রামের মফজেল বিশ্বাসের ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে মাদ্রাসা থেকে সহপাঠীদের সঙ্গে অটোরিকশায় করে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিল ওই ছাত্রী। পথে চুকিনগর মাদ্রাসার সামনে ছয়-সাতজন বখাটে যুবক তাকে জোর করে একটি মাইক্রোবাসে (খুলনা মেট্রো-চ-১১-০১৩৪) তুলে নেয়। ছাত্রীর এক সহপাঠী ঘটনাটি থানায় জানায়। পরে পুলিশ বড়গাঁ বাজার এলাকায় মাইক্রোবাসটিসহ চালককে আটক ও ছাত্রীটিকে উদ্ধার করে। তবে অপহরণকারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

বোয়ালমারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম জানান, মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।


মন্তব্য