kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তদন্তে প্রশ্নবিদ্ধ পুলিশ

রামগঞ্জে যুবলীগ নেতার লাশ উদ্ধার

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জের ভোলাকোট ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য মো. রাছেলের (২৬) লাশ উদ্ধারের এক মাস পেরিয়ে গেলেও ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। শুধু তা-ই নয়, হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আটকও করতে পারেনি পুলিশ।

এতে নিহতের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। রাছেল উপজেলার ভোলাকোট গ্রামের মৃত নোয়াব আলীর ছেলে।

অন্যদিকে কোনো ধরনের মামলার আসামি না হলেও রাছেলকে আটক করতে পুলিশের অভিযান, পরে টহল পুলিশের ধাওয়া খেয়ে নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ডোবা থেকে লাশ উদ্ধার এবং বর্তমানে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর রাছেলের পরিবারের সদস্যরা পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে। এ কারণে অভিযুক্ত পুলিশ মামলার সুষ্ঠু তদন্ত করবে কি না সে ব্যাপারে শঙ্কায় রয়েছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি।

এলাকাবাসী জানায়, নিখোঁজের আগ থেকে একাধিকবার রামগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল হক যুবলীগ নেতা রাছেলকে আটক করতে ভোলাকোটের দেবনগর গ্রামে যান। এ সময় তাঁকে ক্রসফায়ারে দেওয়া হবে বলে লোকজনকে জানিয়েছিলেন এসআই রেজাউল হক। গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাত ৯টার দিকে রামগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল পুলিশ দেবনগর গ্রামে টহল দেয়। এ সময় পুলিশ দেখে রাছেল মোটরসাইকেল ফেলে দৌড় দেন। পরে তাঁকে ধাওয়া দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাঁর মোটরসাইকেলটি জব্দ করে পুলিশ। এরপর নিখোঁজ হন রাছেল। এ ঘটনায় তাঁর মা ফাতেমা বেগম ৭ ফেব্রুয়ারি রামগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে দেবনগর গ্রামের মোতালেবের ইটভাটার পাশের একটি ডোবা থেকে পুলিশ তাঁর লাশ উদ্ধার করে। ওই ঘটনায় রাছেলের মা বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

বাদী ফাতেমা বেগম বলেন, ‘আমি পড়ালেখা জানি না। ছেলের লাশ উদ্ধারের পর থানার ভেতরে পুলিশের লিখে আনা একটি কাগজে আমার টিপসই (স্বাক্ষর) নিয়েছে। আমার ছেলের কোনো শত্রু ছিল না, তাহলে কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে। নিখোঁজের আগে পুলিশ কেন তাকে খুঁজেছে?’

এ ব্যাপারে নিহতের মামা আবদুল হাই ভুলু বলেন, ‘রাছেল হত্যার ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা রহস্যজনক। এক মাসেও পুলিশ ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারেনি। এমনকি একজন আসামিও আটক করতে পারেনি পুলিশ।   মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তার করতে আমরা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চাইছি। ’

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. লুত্ফর রহমান বলেন, মামলাটি গুরুত্ব দিয়েই তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে রামগঞ্জ থানার ওসি তোতা মিয়া বলেন, ‘রাছেল মাদক ব্যবসায়ী ছিল। তবে থানায় তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা ছিল না। লাশ উদ্ধারের সময় তার পকেটে থাকা মানিব্যাগে ৯ হাজার ৭২৪ টাকা ও ছয় পিস ইয়াবা পাওয়া গেছে। ’ তিনি আরো বলেন, ‘পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। তবে ঘটনার সঙ্গে যদি পুলিশের কোনো সদস্য জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে ছাড় দেওয়া হবে না। ’


মন্তব্য