অবৈধ ২০৬ করাতকল-332251 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭

অবৈধ ২০৬ করাতকল

ভূবন রায় নিখিল, নীলফামারী   

৫ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



অবৈধ ২০৬ করাতকল

নীলফামারী শহরের স্টেশন রোডের জবান আলীর মালিকানাধীন করাতকল। লাইসেন্স না থাকলেও এই করাতকলে কাঠ চেরাইয়ে বিঘ্ন ঘটছে না। ছবিটি সম্প্রতি তোলা। ছবি : কালের কণ্ঠ

আইন না মেনে নীলফামারীতে ২০৬ করাতকল মালিক চালিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসা। অবৈধ এসব করাতকলের তালিকা বন বিভাগের কাছে থাকলেও তারা ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

করাতকল পরিচালনার নীতিমালায় রয়েছে আন্তর্জাতিক সীমান্ত ও বনভূমির ১০ কিলোমিটারের মধ্যে কোনো করাতকল বসানো যাবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০০ মিটারের মধ্যে করাতকল বসানোর ওপর রয়েছে নিষেধাজ্ঞা। নিয়ম মেনে করাতকল পরিচালনার জন্য বন বিভাগের কাছ থেকে নিতে হয় লাইসেন্স। লাইসেন্স ফি দুই হাজার টাকা। সেটির প্রতিবছর নবায়ন ফি ৫০০ টাকা। নবায়নের সময় ভ্যাট পরিশোধ করতে হয় ৩০০ টাকা। আইন অমান্য করে করাতকল চালালে সর্বনিম্ন দুই বছরের সাজার বিধান আছে।

বন বিভাগ সূত্র জানায়, জেলার ২০৬ করাতকলের মধ্যে ডোমার ও ডিমলায় ৫৯টি, নীলফামারী সদরে ৬৫টি এবং জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুরে রয়েছে ৮২টি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, করাতকলে নিয়মের কোনোটিই মানা হচ্ছে না। শহরের নীলফামারী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে একটি, শহীদ জিয়া বালিকা বিদ্যানিকেতন ও নীলফামারী বিএম কলেজের ২০০ মিটারের মধ্যে তিনটি করাতকল চলছে।

অন্যদিকে ডোমারের চিলাহাটি, গোমনাতি ও ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, টেপাখড়ি ইউনিয়নের ভারতীয় সীমান্তের দুই থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে অনেক করাতকল তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ডোমার শহরঘেঁষা বনভূমি, গোমনাতি বনভূমি ও ডিমলার বিভিন্ন বনভূমির কাছে একাধিক করাতকল দেখা গেছে। এসবের দূরত্ব ৫০০ মিটার থেকে দুই কিলোমিটারের মধ্যে। এসব কলের কোনোটিরই লাইসেন্স নেই।

এ ব্যাপারে বন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী বেশির ভাগ করাতকল বৈধ লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য নয়। যাদের লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা আছে, তারাও লাইসেন্স করছে না।

অন্যদিকে অনেক মালিক জানেন না করাতকল চালাতে লাইসেন্স করতে হয়। আবার অনেকে একবার লাইসেন্স করলেও জানেন না নবায়ন করতে হয়। অনেকে বলছেন, ‘বন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কল চালাচ্ছি।’

জেলা শহরের কৃষি ফার্মের সামনে ভাই ভাই করাতকলের মালিক লাবলু ইসলাম বলেন, ‘২০০২ সালে লাইসেন্স করেছিলাম। এরপর কয়েক বছর নবায়ন করার পর কেউ খোঁজখবর না নেওয়ায় আর নবায়ন করিনি। এখন বললে নবায়ন করব।’

জেলা সদরের খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের হালির মোড় এলাকায় রুস্তম আলী বলেন, ‘আমার দুটি করাতকল আছে। ২০০৮ সালে একটির লাইসেন্স করেছি। পরে আর নবায়ন করিনি। লাইসেন্স করা জরুরি না হওয়ায় আরেকটির লাইসেন্স করি নাই।’

একই এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নতুন করাতকল মালিক বলেন, ‘আমাকে বললেই লাইসেন্স করব। বন বিভাগের লোক কয়েকবার এসে দেখা করে খরচের টাকা নিয়ে গেলেও লাইসেন্সের কথা বলেননি।’

এ ব্যাপারে নীলফামারী বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিছুর রহমান জানান, জেলা সদরে ৬৫টি করাতকল চলছে। আগে ১২টি করাতকলের লাইসেন্স থাকলেও ২০১৩ সালের পর কোনো করাতকলের লাইসেন্স নেই। বারবার নোটিশ করেও কোনো কাজ হচ্ছে না। তিনি আরো জানান, অনেক করাতকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২০০ মিটারের মধ্যে রয়েছে। তারা লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্য না। এ ছাড়া বনভূমি এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে অনেক করাতকল আছে, তারাও লাইসেন্স পাবে না।

ডোমার বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহিদুর রহমান বলেন, ‘ডোমার ও ডিমলা উপজেলায় ৫৯টি করাতকল আছে, যার কোনোটিরই লাইসেন্স নেই। সম্প্রতি ৯ জন করাতকল মালিক লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেছেন। সেগুলোর তদন্ত চলছে। অবৈধদের বিরুদ্ধে মামলা করা যাচ্ছে না। মামলা করলে চেয়ারে থাকা যাবে না। অবৈধ এসব করাতকলের তালিকা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে দেওয়া হয়েছে।’

জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলার বন বিভাগের দায়িত্বে থাকা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোনায়েম হোসেন বলেন, ‘তিন উপজেলায় ৮২টি করাতকলের একটির লাইসেন্স নেই। বারবার নোটিশ দিয়েও লাইসেন্স করানো যাচ্ছে না।’

মন্তব্য