kalerkantho


সামাজিক বনায়নের ১০ লাখ টাকার গাছ চুরি!

শ্রীনগর

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে দুই দফায় সামাজিক বনায়নের অন্তত ১০ লাখ টাকার গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের দুই কর্মচারী ওই সব গাছ বিক্রি করেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় লোকজন জানায়, দুই মাস আগে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের লিংক রোড হাসাড়া-বাড়ৈখালী রাস্তার সাত কিলোমিটার অংশে ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কারকাজ শুরু হয়। এ কাজের তদারকির জন্য শ্রীনগর সড়ক ও জনপথ অফিসের কর্মচারী আবদুল মজিদ ও আবদুর রহমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ওই এলাকায় আসার পরপরই তাঁদের চোখ পড়ে রাস্তার দুই পাশের সামাজিক বনায়নের বড় গাছগুলোর ওপর। রাস্তার সংস্কারকাজের অজুহাতে তাঁরা প্রথম দফায় একে একে ওই রাস্তার ঋষিবাড়ী, লস্করপুর, আলমপুর ও শ্রীধরপুর পয়েন্ট থেকে ২৩টি গাছ বিক্রি করে দেন, যেগুলোর মূল্য প্রায় আট লাখ টাকা।

এ বিষয়ে আবদুল মজিদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, সড়ক ও জনপথের রাস্তার গাছ কাটার জন্য কারো অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে গাছ বিক্রির টাকা কোথায় জমা হয়েছে এ প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি।

এ ব্যাপারে উপজেলা বন কর্মকর্তা সেলিম হোসেন খান জানান, সরকারের ২০১২ সালের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সড়ক ও জনপথ বিভাগ যদি সামাজিক বনায়নের গাছ কাটে, তবে তা উপজেলা বন কর্মকর্তাকে জানানোর কথা। কিন্তু তাঁকে না জানিয়ে গাছ কেটে নেওয়া হলেও তিনি এর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেননি। দ্বিতীয় দফায় গতকাল বৃহস্পতিবার হাসাড়া ইউনিয়ন পরিষদের পশ্চিম পাশ থেকে বিক্রি করা সাতটি গাছ কাটা শুরু হয়।

এগুলোর মূল্য প্রায় দুই লাখ ২০ হাজার টাকা। গাছগুলো কাটার ব্যাপারে আবদুর রহমান জানান, শ্রীনগর সড়ক ও জনপথ অফিসের প্রধান প্রকৌশলী হায়দার কামরুজ্জামানের নির্দেশে এবং বন বিভাগের কর্মকর্তা সেলিম হোসেন খানের অনুমতি নিয়েই গাছ কাটা হচ্ছে।

ওই রাস্তার সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী হাসাড়া গ্রামের মো. আব্দুল্লাহ বলেন, ‘আমরা ওই গাছগুলোর ৫৫ শতাংশের মালিক। অনেক কষ্টে গাছগুলো বড় করেছি। এখন গাছ কেটে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অথচ আমরা কিছুই জানি না। ’

এ ব্যাপারে সড়ক ও জনপথের প্রকৌশলী হায়দার কামরুজ্জামান জানান, তিনি গাছ কাটার বিষয়ে কিছু জানেন না। তা ছাড়া ওই রাস্তার সংস্কারের জন্য কোনো গাছ কাটারও প্রয়োজন নেই। যাঁরা গাছ কেটেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা বন কর্মকর্তা সেলিম হোসেন খান জানান, কাউকে না জানিয়ে সড়ক ও জনপথ অফিসের কর্মচারীরা গাছ কেটে নিয়ে যাওয়ার সময় আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যতন মারমা জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


মন্তব্য