কন্যাসন্তান হওয়ায় তালাক, নির্যাতন -331889 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১২ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৪ জিলহজ ১৪৩৭


কন্যাসন্তান হওয়ায় তালাক, নির্যাতন

সাতক্ষীরায় সংবাদ সম্মেলন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

৪ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



দুই কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে তালাক দিয়েছেন স্বামী। বিয়ে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরও থামেনি নির্যাতন। দুই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে ওই নারী গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এসে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন।

নির্যাতিত রুকাইয়া পারভীন ডেইজি দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে। ২০০১ সালে কালীগঞ্জ উপজেলার বন্দাকাটি গ্রামের মৃত মহসিন আলীর ছেলে মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়েছিল।

লিখিত বক্তব্যে ওই নারী জানান, দুই কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে স্বামী ও তাঁর পরিবার প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। একপর্যায়ে ২০১৪ সালের ২৪ এপ্রিল স্বামী দুই মেয়ের লেখাপড়া ও বিয়ের জন্য খরচ বাবদ বাবার বাড়ি থেকে ১০ লাখ টাকা যৌতুক নিয়ে আসতে চাপ দেন। যৌতুক আনতে অস্বীকার করায় তাঁকে মারধর করে জখম অবস্থায় ঘরের মধ্যে আটক করে রাখা হয়। পরে তাঁর বাবা খবর পেয়ে স্বামীর বাড়ি থেকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। পরদিন ঘটনা উল্লেখ করে স্বামীর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সদর থানায় একটি মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। মামলা দায়েরের পর থেকে স্বামী বিভিন্নভাবে তাঁর বাবাকে খুন, জখমসহ তাঁকে অপহরণ করার হুমকি দিয়ে আসছে। এ ঘটনায় তিনি (ডেইজি) সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এ অবস্থা চলার পর একপর্যায়ে ২০১৪ সালের ১ মার্চ তাঁকে তালাক দেন স্বামী। তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে শহরের রসুলপুরে তাঁর বাবার সহযোগিতায় অতিকষ্টে জীবন যাপন করে আসছেন।

তিনি আরো জানান, চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি সাবেক স্বামী আকস্মিকভাবে তাঁর বাড়িতে এসে হুমকি ও নিপীড়ন করেন। এর দুদিন পর গত ৩০ জানুয়ারি ঘটনা উল্লেখ করে তিনি সাতক্ষীরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে আরো একটি মামলা করেন। এই মামলার পর মাহমুদুল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। স্ত্রীর সঙ্গে সব বিবাদ মীমাংসা করবেন বলে একটি লিখিত আবেদন করেন।

মন্তব্য