kalerkantho


‘মোবারকের উপজেলায় রাজাকার নেই!’

আখাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে আলটিমেটাম

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ১৯৭১ সালে বেতনভুক্ত ও অস্ত্রপ্রাপ্ত রাজাকার ছিল না উল্লেখ করে প্রশাসনের দেওয়া ‘শূন্য প্রতিবেদন’ প্রত্যাখ্যান করে তা বদলানোর জন্য আলটিমেটাম দিয়েছেন মুক্তিযোদ্ধারা। গতকাল বুধবার বিকেলে পৌর এলাকার সড়ক বাজারের অ্যাডভোকেট সিরাজুল হক বাচ্চু পৌর মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত সমাবেশে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলা হয়, ‘অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। ’

জানা গেছে, ১ ডিসেম্বর আখাউড়া থানার উপপরিদর্শক মো. মিজানুর রহমান পাটোয়ারী ইউএনও বরাবর পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ‘১৯৭১ সালের বেতন ও অস্ত্রপ্রাপ্ত রাজাকার, আলবদর ও আলশামস সদস্য-সংক্রান্ত বিষয়ে এ এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, চৌকিদার, দফাদার, কমিউনিটি পুলিশের সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করিয়া এবং থানার রেকর্ড পর্যালোচনা করিয়া কোনো তথ্য না পাওয়ায় শূন্য প্রতিবেদন প্রেরণ করা হলো। ’ এরই পরিপ্রেক্ষিতে আখাউড়ার ইউএনও মো. আহসান হাবিব জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন পাঠান।

এ রকম প্রেক্ষাপটে মুক্তিযোদ্ধারা প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দেন। গতকাল অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আখাউড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. আবু সাঈদ। সমাবেশে বক্তব্য দেন শেখ বোরহান উদ্দিন, গাজী আবদুল মতিন, মো. সেলিম ভূঁইয়া, মো. মনির হোসেন বাবুল, রফিকুল হক খাদেম, মো. জাহাঙ্গীর আলম, মো. জমসেদ শাহ, শাখাওয়াত হোসেন পাখি, মো. দারুল ইসলাম, মমিনুল হক মিন্টু, শফিকুল ইসলাম মাসুক প্রমুখ। বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রশাসনে স্বাধীনতাবিরোধীদের ভূত থাকায় এ ধরনের প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। ১০ মার্চের মধ্যে এ প্রতিবেদন পাল্টানো না হলে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

এ ব্যাপারে আখাউড়া মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক সদস্যসচিব শাখাওয়াত হোসেন পাখি বলেন, ‘প্রশাসনে জামায়াত-শিবিরের লোকজন রয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হলেও কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় কিংবা প্রতিবেদনটি না বদলানোয় মানববন্ধনের কর্মসূচি দেওয়া হয়। এ প্রতিবেদন পাল্টানো না হলে আরো বড় কর্মসূচি দেওয়া হবে। ’


মন্তব্য