হবিগঞ্জ পৌরসভার জটিলতার কিনারা-331482 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

রবিবার । ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১০ আশ্বিন ১৪২৩ । ২২ জিলহজ ১৪৩৭


হবিগঞ্জ পৌরসভার জটিলতার কিনারা

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



হবিগঞ্জ পৌরসভার জটিলতার কিনারা

অবশেষে হবিগঞ্জ পৌরসভার জটিলতার অবসান হচ্ছে। নির্বাচিত মেয়র জি কে গউছ কারাগারে থাকার কারণে প্রথম সভা করতে না পারায় নির্বাচনের ৬২ দিন পরও নতুন পরিষদ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। এ রকম প্রেক্ষাপটে প্রথম সভার আয়োজন ও প্যানেল মেয়র নির্বাচন করার জন্য জেলা প্রশাসককে দায়িত্ব দিয়েছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। আগামী ৮ মার্চ বিকেলে পৌর ভবনে জেলা প্রশাসক সাবিনা আলমের সভাপতিত্বে প্রথম সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় সরকার পৌর-১ শাখার সহকারী সচিব আনিছুজ্জামান ২৯ ফেব্রুয়ারি এক চিঠিতে জেলা প্রশাসককে প্রথম সভা আহ্বান ও প্যানেল মেয়র নির্বাচনের ক্ষমতা দেন। গত মঙ্গলবার বিকেলে চিঠিটি এসে পৌঁছায়। পরে গতকাল বুধবার সকালে পৌরসভার নির্বাচিত কাউন্সিলর ও সচিব নুরে আলম ছিদ্দিকী স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আবদুর রউফের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রথম সভার সময় নির্ধারণ করেন।

পরিষদের প্রথম সভা না হওয়ায় পৌসভার কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছিল। এ সময় পৌরবাসী পায়নি কোনো নাগরিক সেবা। জানা যায়, ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনে হবিগঞ্জের পৌর মেয়র নির্বাচিত হন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জি কে গউছ। বিগত ৮ জানুয়ারি গেজেট হওয়ার পর সিলেট কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়ে ২৭ জানুয়ারি শপথ নেন। কিন্তু কারাগারে থাকায় তিনি হবিগঞ্জে এসে প্রথম সভা করতে পারেননি। নির্বাচিত করা হয়নি প্যানেল মেয়র। ফলে নতুন পরিষদ কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী গেজেট প্রকাশের এক মাসের মধ্যে প্রথম সভা করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই হিসাবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত সময় শেষ হয়। আবার স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী নির্বাচনের আগে যে পরিষদ ছিল তারা প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারে। এই আইন অনুযায়ী ১৮ ফেব্রুয়ারি বিগত পরিষদের মেয়াদও শেষ হয়েছে। ৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন পরিষদ প্রথম সভা করতে না পারায় জেলা প্রশাসন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে দিকনির্দেশনা চেয়ে চিঠি দিলে স্থানীয় সরকার বিভাগ আগের পরিষদকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য চিঠি দেয়। সেই অনুযায়ী ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র পিয়ারা বেগম কাজ চালিয়ে যান। কিন্তু ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে নতুন কোনো নির্দেশনা না আসায় পৌরসভার সব কার্যক্রম বন্ধ থাকে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আবদুর রউফ জানান, হবিগঞ্জ পৌরসভা নিয়ে আইনি জটিলতা দেখা দেওয়ায় নির্দেশনা ও ব্যাখ্যা চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হলে মঙ্গলবার ফিরতি নির্দেশনা আসে। এখন সেই মোতাবেক পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। 

প্যানেল মেয়রের লড়াই হবিগঞ্জ পৌরসভার প্যানেল মেয়র হতে পারলেই ভারপ্রাপ্ত মেয়র। দীর্ঘদিন মেয়রের চেয়ারে বসে দায়িত্ব পালনের সুযোগ। কারণ মেয়র জি কে গউছ রয়েছেন কারাগারে। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যা মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় বিচারের আগে তাঁর মেয়রের চেয়ারে বসার সুযোগ নেই। তাই নির্বাচিত কাউন্সিলররা প্যানেল মেয়র হতে তুমুল প্রতিযোগিতায় নেমেছেন। সবার টার্গেট ১ নম্বর প্যানেল মেয়র হওয়া। ৮ মার্চ প্রথম সভায় প্যানেল মেয়র নির্বাচিত করা হবে। ওই দিন প্যানেল মেয়র হতে লড়বেন ১০ কাউন্সিলর। ১২ জন কাউন্সিলরের মধ্যে শুধু নির্বাচন করবেন না মো. আলমগীর ও আব্দুল আওয়াল মজনু। তাই এই দুজনের ভোট নিতে ব্যস্ত অন্য ১০ কাউন্সিলর।

ফের সাময়িক বরখাস্তের পথে জি কে গউছ গত পৌর পরিষদের মেয়র থাকাকালে সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের চার্জশিটভুক্ত আসামি হওয়ায় সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন জি কে গউছ। পরে কারাগারে থেকেই নির্বাচন করে তৃতীয়বারের মতো মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। সিলেট কারাগারে থাকা অবস্থায় প্যারোলে মুক্ত হয়ে তিনি মেয়র হিসেবে শপথ নেন। কারাগারে থাকায় তিনি প্রথম সভা করতে পারেননি। ৮ মার্চ জেলা প্রশাসক সাবিনা আলমের সভাপতিত্বে প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হবে। এর পরই জি কে গউছ ফের সাময়িক বহিষ্কার হতে পারেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক আবদুর রউফ বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেব। পরে মন্ত্রণালয় থেকেই নির্দেশনা আসবে।’

মন্তব্য