তদন্তের নির্দেশ সিআইডিকে-331470 | প্রিয় দেশ | কালের কণ্ঠ | kalerkantho

kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৬। ১৫ আশ্বিন ১৪২৩ । ২৭ জিলহজ ১৪৩৭


ঝালকাঠিতে পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

তদন্তের নির্দেশ সিআইডিকে

ঝালকাঠি প্রতিনিধি   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ঝালকাঠি থানার এসআই জসিম উদ্দিন, পিকআপ ভ্যানচালক মো. আসাদসহ এক যুবকের বিরুদ্ধে করা নালিশি হত্যা মামলা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল বুধবার ঝালকাঠির জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালত এ আদেশ দেন। বাদীর আইনজীবী মানিক আচার্য্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে গত ৫ জানুয়ারি ঝালকাঠির আমলি আদালতে মামলাটি করেন নিহত ছাত্রলীগকর্মী সুমনের বাবা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. সেকান্দার আলী তালুকদার।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ২৭ ডিসেম্বর বিকেল ৩টায় ঝালকাঠি থানার এসআই জসিম উদ্দিন মোবাইল ফোনে বাদীর ছেলে মো. সুমনকে (৩০) সিটি পার্ক রোডে ডেকে আনেন। এসআই জসিম ও পিকআপ ভ্যানের চালক মো. আসাদ তাঁকে সুগন্ধা নদীর তীরে হাবিব মিয়ার স মিলে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে সুমনের কাছে এসআই জসিম ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁকে বড় কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর হুমকি দেন। টাকা দিতে অস্বীকার করলে তিনজন মিলে সুমনকে মারধর করে। একপর্যা য়ে এসআই জসিমের ইটের আঘাতে সুমন গুরুতর আহত হয়ে পড়লে জসিম তাঁকে ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দেয়। পরদিন ২৮ ডিসেম্বর সকালে সুমনের মৃতদেহ উদ্ধার করে বরিশালের ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিদল। পরে এ ব্যাপারে ঝালকাঠি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়।

ময়নাতদন্তের পর লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। নালিশি মামলার পর আদালতে তিন দফা শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল সর্বশেষ বাদীর পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মাহবুব হোসেন, আক্কাস সিকদার, শামীম আলম ও মানিক আচার্য্য। শুনানি শেষে আদালত সুমন হত্যার ঘটনা সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন।

এদিকে পুলিশ সুমন হত্যার ঘটনায় ঝালকাঠি থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু ময়নাতদন্ত রিপোর্টে সুমনের মাথায় একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।

এ বিষয়ে পুলিশ জানায়, ঝালকাঠি শহরের রোনালসে রোডের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কাঞ্চন আলী খানের বাসায় ঢুকে ছাত্রলীগের সহসভাপতি লিমন নকিব, সুমনসহ পাঁচ-ছয়জন তাঁকে বিবস্ত্র করে দুই নারীর সঙ্গে অশ্লীল ছবি তোলার পাশাপাশি ওই দৃশ্যের ভিডিও চিত্র ধারণ করে। পরে তা প্রকাশের ভয় দেখিয়ে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। কাঞ্চন আলী তাঁর ঘরে থাকা ২৭ হাজার টাকা লিমন নকিবদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হন। ঘটনার কয়েক দিন পর কাঞ্চন আলী ঝালকাঠি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিশ ২৭ ডিসেম্বর বিকেলে অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করে। পরে লিমন নকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে ঘটনার পরপরই জনরোষের হাত থেকে বাঁচাতে এসআই জসিমকে ঝালকাঠি থেকে বরগুনায় বদলি করা হয়।

সদর থানার ওসি মো. মাহে আলম এ বিষয়ে বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য