kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সন্তোষকে নিয়ে অসন্তোষ

আলম ফরাজী, ঈশ্বরগঞ্জ (ময়মনসিংহ)   

৩ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



সন্তোষকে নিয়ে অসন্তোষ

নাম তাঁর সন্তোষ খাঁ। তাঁকে নিয়ে গ্রামে এখন বেজায় অসন্তোষ।

বিদ্যুতের স্বপ্ন দেখিয়ে এক বছর আগে প্রায় চার লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এখন তিনি অধরা। এবারের সেচ মৌসুমেও বিদ্যুৎ না পেয়ে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তাঁকে ধরে এনে এক সালিসে টাকা আদায়ের চেষ্টা চালায়। গতকাল বুধবার ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জের মহেশপুর গ্রামে ঘটে এ ঘটনা। পরে এক মাসের মধ্যে সব টাকা ফেরত দেবে—এমন মুচলেকায় রক্ষা পান পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার নাম করে টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক সন্তোষ খাঁ।

উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর গাংপাড়া এলাকায় বুধবার দুপুরে গিয়ে দেখা যায় স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল হুদার বাড়ির সামনে দুই শতাধিক নারী-পুরুষ। সবার মাঝে বসা পল্লী বিদ্যুতের দালাল কাশিপুর গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে সন্তোষ খাঁ। এক বছর আগে সন্তোষ খাঁ বিদ্যুত্হীন মহেশপুরের গাংপাড়া ও কুনিপাড়া এলাকায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে বিদ্যুৎ দেওয়ার কথা জানান। পরে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল হুদার বাড়ির সামনে বসে আলোচনা। সেখানে সন্তোষ ২১৬টি আবাসিক সংযোগ, সাতটি বাণিজ্যিক সংযোগ, অগভীর নলকূপের জন্য ১৩টি, রাইস মিলের জন্য দুটি ও অন্য আরো তিনটি সংযোগের ব্যবস্থা করতে পারবেন বলে সবাইকে আশ্বস্ত করেন।

এই হিসাবে প্রত্যেককে প্রথম কিস্তিতে পাঁচ হাজার ও পরে আরো পাঁচ হাজার টাকা করে দিতে হবে বলে জানান। বিদ্যুত্প্রত্যাশী ব্যক্তিরা জানান, ওই অবস্থায় সন্তোষের কথায় বিশ্বাস করে স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল হুদা ও আবুল হাসেম মৌলভীর হাতে গ্রাহকরা টাকা তুলে দেন। ইউপি সদস্য নুরুল হুদা গ্রাহকদের কাছ থেকে তুলে চার লাখ টাকা দেন সন্তোষের কাছে। টাকা নেওয়ার আগে গ্রাহকদের বিগত সেচ মৌসুমের আগেই সংযোগের ব্যবস্থা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিলেও আজও সেখানে সংযোগ মেলেনি। সাধারণ মানুষ বিদ্যুৎ পাওয়ার সম্ভাবনা না দেখে এক মাস ধরে টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য একের পর এক সালিস করে যাচ্ছে। সর্বশেষ বুধবার বসে সালিস। কিন্তু সেই সালিসে সন্তোষ নানা টালবাহানার কথা বলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে সাধারণ মানুষ বারবার তাঁকে মারতে তেড়ে যায়। ওই পরিস্থিতিতে এক মাসের মধ্যে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া টাকা ফেরতের প্রতিশ্রুতি দেন সন্তোষ।

বিদ্যুত্প্রত্যাশী শহীদুল ইসলাম, লিটন মিয়া ও কাজল মিয়া জানান, গ্রামে বিদ্যুৎ না থাকায় সন্তোষের কথায় বিশ্বাস করে মেম্বারের মধ্যেমে তাঁরা পাঁচ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। অনেকে দাদনে টাকা নিয়ে বিদ্যুতের জন্য সন্তোষকে দিয়েছে। টাকা নেওয়ার সময় বিদ্যুৎ অফিস থেকে কয়েকজন লোক এনে এলাকায় মাপজোখ করায় সবাই উৎসাহী হয়ে টাকা দেয়। কিন্তু এক বছর পেরিয়ে গেলেও তারা সংযোগ না পাওয়ায় এলাকায় সালিসের আয়োজন করা হয়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নুরুল হুদা বলেন, সাধারণ মানুষের প্রত্যাশিত বিদ্যুতের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিলে এবং এলাকাবাসীর সিদ্ধান্তে তিনি সবার কাছ থেকে প্রায় চার লাখ টাকা তুলে সন্তোষকে দিয়েছেন। কিন্তু সন্তোষ বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থা না করে টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

এ ব্যাপারে সন্তোষ খাঁ বলেন, তিনি বিদ্যুৎ অফিসের কেউ নন। বিদ্যুৎ অফিসের কারো সঙ্গে তাঁর যোগাযোগও নেই। কথিত বড় ভাই রঞ্জনের মাধ্যমে বিদ্যুতের ব্যবস্থা করছেন। ওই সময় তিনি একটি কাগজ দেখান ওই এলাকায় বিদ্যুতের অগ্রগতি সম্পর্কে। সেখানে দেখা যায়, স্থানীয় এমপি ফখরুল ইমামের বাড়ি সোহাগী হলেও পাশের মহেশপুর এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে বিদ্যুৎ বিভাগের প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সংযোগের জন্য আবেদন করা হয়েছে। সেই আবেদনপত্রে বিদ্যুৎ বিভাগের বিভিন্ন লোকজনের স্বাক্ষর রয়েছে।

ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুতের ঈশ্বরগঞ্জ সাব-জোনাল অফিসের এজিএম গোলজার হোসেন বলেন, শুধু ওই এলাকা নয়, বিভিন্ন এলাকা থেকে বিদ্যুৎ দেওয়ার নাম করে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি প্রতারকচক্র। তবে এর সঙ্গে তাঁর অফিসের কেউ জড়িত নন জানিয়ে বলেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। তবে অন্য একটি সূত্র জানায়, ময়মনসিংহ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কিছু কর্তাব্যক্তি এ ধরনের দালালের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা। তাঁরা নেপথ্যে থেকে অফিসের অন্য একটি চক্র ওই সব এলাকায় গিয়ে পল্লী বিদ্যুতের পোশাক ও অন্যান্য সরঞ্জাম নিয়ে মাপজোখের পর বিশ্বাসযোগ্যতা করিয়ে দালালের মাধ্যমে টাকা উঠিয়ে নেন। পরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার ব্যাপারে আর কোনো অগ্রগতি থাকে না।


মন্তব্য