kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মঞ্চ গুঁড়িয়ে দিল আ. লীগ

প্রশাসনের সহায়তায় কুলিয়ারচর বিএনপির সভা ভণ্ডুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, হাওরাঞ্চল   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



মঞ্চ গুঁড়িয়ে দিল আ. লীগ

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে বিএনপিকে সভা করতে দেয়নি আওয়ামী লীগ। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বিএনপির মঞ্চ ও ১০-১২টি তোরণ।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে কুলিয়ারচর পৌরসভার দোয়ারিয়ায় এ ঘটনা ঘটে। বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় আওয়ামী লীগ পরিকল্পিতভাবে তাদের এ সভা ভণ্ডুল করে দেয়।

এ নিয়ে দুই দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় ঘটনা ঘটে। এতে আওয়ামী লীগের অন্তত দুজন কর্মী আহত হয়। ওই সভায় এক পৌর যুবলীগ নেতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের অন্তত ১৫০ জন নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করার কথা ছিল।

বিএনপি সূত্র জানায়, পৌর যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও পৌর শহরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওতাভুক্ত উত্তর দোয়ারিয়া গ্রামের যুবলীগের সাবেক সভাপতি মো. জামাল উদ্দিনের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ-যুবলীগের দেড় শতাধিক নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করার কথা। এ উপলক্ষে জামালের বাড়ির উঠানে মঞ্চ তৈরি করা হয়। কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাদের স্বাগত জানাতে কুলিয়ারচর-দোয়ারিয়া সড়কে স্থানীয় বিএনপি ১০-১২টি তোরণ নির্মাণ করে।

কেন্দ্রীয় বিএনপির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. শরীফুল আলম জানান, তাঁদের এ কর্মসূচি ভণ্ডুল করতে আওয়ামী লীগও একই সময় কাছাকাছি স্থানে সভা ডাকে। এ নিয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির অজুহাতে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সর্বোচ্চ কর্তাব্যক্তিরা ঘটনাস্থলে যান। এ সুযোগে পৌর আওয়ামী লীগের এক নেতার নেতৃত্বে একদল আওয়ামী লীগ কর্মী দোয়ারিয়া গ্রামের রাস্তার সব তোরণ ও জামালের বাড়ির মঞ্চ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুলিয়ারচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ড. ঊর্মি বিনতে সালাম, সহকারী পুলিশ সুপার (বাজিতপুর সার্কেল) মৃত্যুঞ্জয় দে সজল, সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, কুলিয়ারচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) চৌধুরী মিজানুজ্জামান সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় দলের ডাকা সভা-সমাবেশ স্থগিত করে দেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম কারীর নেতৃত্বে ‘যোগদান সভা’ তছনছ করা হয়। ওই সময় বিএনপির লোকজন বাধা দিতে গেলে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ঘটে। ইটপাটকেলের আঘাতে আওয়ামী লীগের দুই কর্মী দোয়ারিয়া গ্রামের সুজন মিয়া ও তাতারকান্দির লিটন মিয়া সামান্য আহত হয়। মঞ্চ ও তোরণ ভাঙচুরের সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অন্যদিকে প্রতিপক্ষের হুমকির মুখে মো. জামাল উদ্দিনসহ সম্ভাব্য যোগদানকারীদের অনেকে বাড়ি ছেড়ে গা ঢাকা দেয়।

বিএনপি পরে দোয়ারিয়া-বাজার সড়কে পথসভা করে হামলার ঘটনার নিন্দা প্রতিবাদ জানায়। পথসভায় প্রধান অতিথি মো. শরীফুল আলম বলেন, পুলিশের সহায়তায় আওয়ামী লীগ তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের বিএনপিতে যোগদান ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়ে ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

৭ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মো. জামাল উদ্দিন এলাকাছাড়া। এমনকি তাঁর মুঠোফোন বন্ধ। তাঁর ভাই ব্যবসায়ী মো. আলাউদ্দিন বলেন, ‘জামালের নেতৃত্বে আমাদের গ্রামের দেড় শতাধিক আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী বিএনপিতে যোগদান করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের উপস্থিতিতে আওয়ামী লীগ এ কর্মসূচি নস্যাৎ করে দিয়েছে। ’ তিনি জানান, ইউএনও, এসি (ল্যান্ড), ওসিসহ প্রশাসনের বহু লোক গ্রামে গিয়ে কর্মসূচিতে বাধা দিয়েছে। কুলিয়ারচর থানার ওসি চৌধুরী মিজানুজ্জামান এ সম্পর্কে জানান, একই গ্রামে পাশাপাশি স্থানে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সভা ডাকায় কাউকে সভা করতে দেওয়া হয়নি। ১৪৪ জারি না করে সভা পণ্ড করে দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে ওসি বলেন, ‘বাড়ির ভেতর সভা আহ্বান করায় ১৪৪ ধারা করা যায়নি। ’

পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম কারী মঞ্চ ও তোরণ ভাঙায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি জানান, দুই দলের সভা নিয়ে এলাকায় সংঘাত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা জানান, প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে বিএনপি কর্মসূচি ঘোষণা করে। আওয়ামী লীগও একই স্থানে কর্মসূচি দেয়। যে কারণে আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটার আশঙ্কায় কাউকে প্রশাসন সভা করতে দেয়নি।


মন্তব্য