kalerkantho


ভাঙ্গায় ছাত্রলীগ-যুবলীগের পাল্টা কর্মসূচি

পিছু হটলেন স্বতন্ত্র এমপি নিক্সন

নিজস্ব প্রতিবেদক, ফরিদপুর   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



ফরিদপুরের ভাঙ্গায় উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের পাল্টা কর্মসূচির মুখে ফরিদপুর-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান ওরফে নিক্সন চৌধুরীর তিনটি কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়েছে। আর এ ঘটনার জন্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফর উল্যাহকে দায়ী করেছেন তিনি।

পরে এক সংবাদ সম্মেলনে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘শুধু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি সম্মান দেখিয়ে আজকের কর্মসূচি আমি প্রত্যাহার করলাম। উনি (কাজী জাফর উল্যাহ) লাশের রাজনীতি শুরু করেছেন। উনি লাশ চান। কিন্তু এলাকার সাংসদ হিসেবে আমি জনগণের শান্তি চাই। ’

গতকাল মঙ্গলবার ভাঙ্গা পৌর এলাকায় সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তিনটি কর্মসূচি ছিল সংসদ সদস্যের। ওই কর্মসূচি ঠেকাতে ওই তিন জায়গায় পাল্টা কর্মী সমাবেশের কর্মসূচি দেয় ভাঙ্গা উপজেলা যুবলীগ-ছাত্রলীগ।

সূত্র মতে, গত শুক্রবার সংসদ সদস্য এ কর্মসূচি দিয়েছিলেন। কিন্তু উপজেলা ছাত্রলীগ ও যুবলীগ গত সোমবার সন্ধ্যায় সংসদ সদস্যের দেওয়া তিনটি কর্মসূচির জায়গায়ই কর্মী সমাবেশের নামে পাল্টা কর্মসূচি ঘোষণা করে।

সংসদ সদস্যের কর্মসূচির মধ্যে ছিল গতকাল মঙ্গলবার সকালে ভাঙ্গা বাজার এলাকায় অসুস্থ নেপাল সাহা ও কাশিনাথ সাহার বাড়িতে গিয়ে তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেওয়া। গতকাল একই সময়ে নেপাল সাহার বাসাসংলগ্ন কাপড়পট্টি মার্কেটের সামনে কর্মী সমাবেশ করে ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। কর্মিসভায় উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন শেখ, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলামসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতারা বক্তব্য দেন। সভায় বক্তারা সংসদ সদস্য নিক্সনের কঠোর সমালোচনা করেন।

এদিকে এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে নিক্সন চৌধুরী ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০ মার্চের ভাঙ্গা পৌর নির্বাচন সম্পর্কে বলেন, ‘সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারব না। তাই বলে, রোগী দেখতে যাওয়া বা এলাকায় আসতে তো নিষেধ নেই। ’

কাজী জাফর উল্যাহকে যুদ্ধাপরাধী আখ্যায়িত করে নিক্সন চৌধুরী বলেন, ‘একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানিদের খাবার সরবরাহ করতেন তিনি। তিনি নিজে রাজাকার হয়ে আরেক রাজাকারের ছেলেকে বঙ্গবন্ধুর নৌকা দিয়েছেন। এরাই আওয়ামী লীগকে নষ্ট করছে। আমি ৪০ বছর পর ভাঙ্গাকে স্বাধীন করেছি। একজন রাজাকারের ছেলে রাজাকারকে ভাঙ্গা পৌরসভায় বসতে দেব না—এটা আমার চ্যালেঞ্জ। আওয়ামী লীগ নেতারা বলে বেড়াচ্ছেন, ভোটের দিন ২০ মার্চ ১০টার মধ্যেই তাঁরা সব ভোট নিয়ে যাবেন। দিন ১০টা কেন, রাত ১০টার মধ্যেও কেউ ভোট নিয়ে যেতে পারবে না। ’

মজিবুর রহমান নিক্সন আরো বলেন, ‘নির্বাচনে যদি একটি ভোটও জাল হয়, তাহলে ভাঙ্গা তো দূরের কথা, ঢাকার গুলশানের বাসা থেকেও বের হতে পারবেন না কাজী জাফর উল্যাহ। ’ তাঁর সমর্থক ও উপজেলা প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা বিধিমালা অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করতে কাজ করে যাবেন। ’ সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য দেন ভাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাদত হোসেন।

এ ব্যাপারে জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও কাজী জাফর উল্যাহ তা রিসিভ করেননি। তবে তাঁর ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ভাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মামুন অর রশীদ বলেন, ‘কাজী জাফর উল্যাহ লাশের রাজনীতি করেন না। সাংসদের স্ত্রীর মৃত্যুরহস্য আজও উদ্ঘাটিত হয়নি। আর কাজী পরিবারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সম্পর্ক বহু দিনের। এ পরিবারের সদস্যরা ছয়বার ভাঙ্গায় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। পৌর নির্বাচনে তাঁর সমর্থিত প্রার্থীর নিশ্চিত ভরাডুবি আঁচ করতে পেরে এবং নিজের নির্বাচনী এলাকায় পায়ের নিচে মাটি না পেয়ে সাংসদ আবোলতাবোল বকতে শুরু করেছেন। ’


মন্তব্য