kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


খোকসা

ছাড়া পেয়ে বাদীর চুল কেটে দিল আসামিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুষ্টিয়া   

২ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



কুষ্টিয়ার খোকসা থানা থেকে ছাড়া পেয়ে আসামিরা মামলার বাদী গৃহবধূকে (৩৫) বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে মাথার চুল কেটে দিয়েছে। তাঁর মুখে চুন-কালি মেখে সড়কের পাশে গাছে বেঁধে নির্যাতন চালিয়েছে।

আহতকে খোকসা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক নারী স্থানীয় বাদশা হোসেনের ছেলে তৌহিদ, আকুব্বরের ছেলে আশরাফ ও কুটু মণ্ডলের ছেলে সুমনসহ চার বখাটের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তোলেন। হতদরিদ্র পরিবারের গৃহবধূ গত রবিবার খোকসা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এরপর ওই রাতে পুলিশ তৌহিদ ও সুমনকে আটক করে থানায় নেয়। পর দিন সোমবার সকালে পুলিশ তাদের রহস্যজনক কারণে থানা থেকে ছেড়ে দেয়। বখাটে তৌহিদ ও সুমনসহ পাঁচ-ছয়জন মিলে তিন সন্তানের জননী ওই নারীকে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যায়। তাঁকে পাশের একটি ক্ষেতে নিয়ে নির্যাতন করে মাথার চুল কেটে দেয়। এরপর একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে ফের তাঁকে নির্যাতন করা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর গৃহবধূর দুই ছেলে মাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই গৃহবধূ বলেন, ‘বিভিন্ন সময় আমাকে কুপ্রস্তাব দেওয়ায় কয়েক দিন আগে হামলাকারী তৌহিদ, সুমনসহ পাঁচ-ছয়জনের বিরুদ্ধে থানায় ইভ টিজিংয়ের অভিযোগ করি। এ ঘটনার পর রবিবার রাতে পুলিশের এসআই কার্তিক চন্দ্র আসামিদের মধ্যে তৌহিদ ও সুমনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান। সোমবার সকালে ওই আসামিরা ঘুষের বিনিময়ে থানা থেকে ছাড়া পেয়ে আমার বাড়িতে হামলা চালায়। তারা আমাকে চুলের মুঠি ধরে টানতে টানতে মাঠের মধ্যে নিয়ে গিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালায়। এ সময় তৌহিদ ও সুমনের বাড়ির অন্য মহিলারাও অংশ নেয়। পরে তারা আমার মাথার চুল কেটে দেয়। এ ছাড়া শরীরে চুন ও কালি মাখিয়ে দেয় এবং রাস্তার পাশে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে নির্যাতন চালায়। এ ঘটনার পর খোকসা থানা পুলিশ আমার কাছ থেকে একটি সাদা কাগজে স্বাক্ষর করিয়ে নেয়। ’

খোকসা থানার এসআই কার্তিক চন্দ্র আসামিদের আটক ও ছেড়ে দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। খোকসা থানার ওসি কাজী দাউদ হোসেন বলেন, ‘আসামি আটক বা ছেড়ে দেওয়ার ঘটনা সত্য না। তবে আজ মামলা নিয়েছি, আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে। ’


মন্তব্য