kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


১০ কোটি টাকা নিয়ে ‘ধানসিড়ি’ হাওয়া

কালিয়াকৈরে রাস্তায় নামল গ্রাহকরা

কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



১০ কোটি টাকা নিয়ে ‘ধানসিড়ি’ হাওয়া

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ধানসিড়ি সমবায় সমিতি ১০ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে গতকাল ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে গ্রাহকরা। ইনসেটে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতি এম এ আজিজ।

গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুর বাজার এলাকায় গ্রাহকদের প্রায় ১০ কোটি টাকা নিয়ে একটি সমবায় সমিতি উধাও হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ওই সমিতির ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা গতকাল সোমবার দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গাজীপুর জেলা সমবায় কার্যালয়ের অনুমোদন নিয়ে প্রায় ১১ বছর ধরে কালিয়াকৈরের সফিপুর বাজারে অফিস নিয়ে এম এ আজিজ আহম্মেদ ধানসিড়ি বহুমুখী সমবায় সমিতির কার্যক্রম চালিয়ে আসছেন। ইতিমধ্যে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে প্রায় ১১ হাজার সদস্যের কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের সঞ্চয় সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে কোনো কোনো সদস্যের দুই লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা হয়েছে। সম্প্রতি গ্রাহকরা টাকা ফেরত চাইলে সমিতির সভাপতি এম এ আজিজের কথামতো গতকাল সমিতির অফিসে গিয়ে তারা তা বন্ধ পায়। পরে তাঁর মোবাইলে ফোন দিলে তাও বন্ধ পাওয়া যায়। এ সময় গ্রাহকদের টাকা নিয়ে সমিতির সভাপতি আজিজ পালিয়েছেন বলে খবর ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা পাশের ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে মৌচাক ফাঁড়ির পুলিশ এসে গ্রাহকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। শিল্পী আক্তার নামের ওই সমিতির এক সদস্য জানান, তিনি একজন পোশাক শ্রমিক। ধানসিড়ি বহুমুখী সমবায় সমিতিতে তিন বছর মেয়াদে মাসে সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা করে জমা রাখেন তিনি। গতকাল তাঁকে এক লাখ ৮০ হাজার টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সকালে অফিসে এসে বন্ধ পান।

কালিয়াকৈর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা আবু মঈন রকিব আহম্মেদ জানান, বিষয়টি জেলা সমবায় কর্মকর্তা গাজীপুর জেলা সমবায় কর্মকর্তা মো. নুরুল আলমকে জানানো হয়েছে। পরে বিকেলে তাঁকে নিয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় সমিতির সভাপতি এম এ আজিজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সাইফুল আলম জানান, টাকা ফেরতের দাবিতে গ্রাহকরা গতকাল দুপুরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে অবস্থান নেয়। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে গ্রাহকেদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে তাদের সরিয়ে দেওয়া হয়।

শ্রমিক বিক্ষোভ, কর্মবিরতি

কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকার মাহমুদ জিন্স নামের একটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন ও মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। বার্ষিক ছুটির টাকা, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও তাদের নামে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে সোমবার তারা এ কর্মসূচি পালন করে। এ ঘটনায় কারখানা এক দিনের ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বিক্ষোভ মিছিল থেকে দুই শ্রমিককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা গেছে, ওই কারখানার শ্রমিকরা বার্ষিক ছুটির টাকার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৪ সালে দুই বছরের বার্ষিক ছুটির টাকা পরিশোধ করে কর্তৃপক্ষ। এ ছাড়া ২০১৫ সালের ছুটির টাকা চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি পরিশোধের দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু শ্রমিকদের সে টাকা দেওয়া হয়নি। শুধু তাই নয়, শ্রমিকদের ছাঁটাইসহ নানাভাবে হয়রানি করার অভিযোগ ওঠে। এর জের ধরে গত কয়েক দিন শ্রমিকরা বকেয়া টাকা, শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল। গত শনিবার কারখানা কর্তৃপক্ষ প্রায় ২০-২৫ জন শ্রমিকের নামে কালিয়াকৈর থানায় ভাঙচুর ও চুরির মামলা করে।

মামলার পর গত রবিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ভাড়া বাসা থেকে কারখানার সুইং অপারেটর জাহাঙ্গীর ও শাহাদাতকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। সোমবার সকালে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করতে গেলে দুই শ্রমিকের গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানতে পারে। এতে তারা ক্ষুব্ধ হয়ে কাজ বন্ধ করে কারখানার ভেতর বিক্ষোভ করে।

শ্রমিকদের অভিযোগ অস্বীকার করে কারখানার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আক্তারুজ্জামান তালুকদার জানান, কিছুদিন ধরে শ্রমিকরা অযৌক্তিক দাবি তুলে কর্মবিরতি পালন করে আসছে। এ ছাড়া তারা কারখানার কয়েকজন স্টাফকে মারধরও করেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন শ্রমিকের নামে মামলা হয়েছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কারখানা এক দিনের ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। কালিয়াকৈর থানার ওসি আব্দুল মোতালেব মিয়া বলেন, কারখানার কয়েকজন শ্রমিকের নামে মামলা করেছে কর্তৃপক্ষ। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে দুজন শ্রমিককে গ্রেপ্তার করে গাজীপুর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। সোমবার শ্রমিকরা কারখানায় কর্মবিরতিসহ মহাসড়ক অবরোধ করার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।


মন্তব্য