kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রাজৈরে নববধূর লাশ ঝুলছিল আমগাছে

মাদারীপুর প্রতিনিধি   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



রাজৈরে নববধূর লাশ ঝুলছিল আমগাছে

মাদারীপুরের রাজৈর ও কালকিনিতে দুই গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজনের বিয়ে হয়েছিল সাতদিন আগে।

রাজৈর উপজেলার আমগ্রামে গতকাল সোমবার সকালে নববধূ উন্নতি রানী মণ্ডলের (২৪) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে রানীর পরিবারের অভিযোগ। তিনি আমগ্রামের বিশ্বনাথ মণ্ডলের বড় মেয়ে। পুলিশ, এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্র জানায়, আমগ্রাম গ্রামের সদানন্দ বাড়ৈর বিদেশফেরত ছেলে শশধরের (২৯) সঙ্গে ১০ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল উন্নতি রানীর। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি এলাকাবাসী এগিয়ে এসে হিন্দু ধর্মমতে রেজিস্ট্রি করে বিয়ে দেয় ওই দুজনের। তবে এ বিয়ে মেনে নিতে পারেনি রানীর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তারা দুই লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। এ নিয়ে রানীর ওপর চলে নানা অত্যাচার।

উন্নতি রানীর মা সন্ধ্যা রানী বলেন, ‘যৌতুকের জন্য স্বামী-স্ত্রীর (শশধর-উন্নতি রানী) মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রবিবার রাতে আমার মেয়েকে তার শ্বশুরবাড়ির লোকজন শ্বাসরোধে হত্যা করে। পরে তারা বাড়ির পাশে আমগাছের সঙ্গে লাশ ঝুলিয়ে রেখে রানী আত্মহত্যা করেছে বলে প্রচার করে। ’ এ ঘটনার পর নববধূর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘরে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। রাজৈর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ভূইঞা জানান, এ মৃত্যু নিয়ে বিতর্ক ওঠায় ময়নাতদন্তের জন্য লাশ মাদারীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সূত্র জানায়, হতদরিদ্র বিশ্বনাথ মণ্ডলের পাঁচ মেয়ের মধ্যে সবার বড় উন্নতি রানী ছোটবেলা থেকেই দর্জির কাজ করে সংসার চালাতেন।

এদিকে কালকিনির উত্তর রমজানপুর গ্রামে নিখোঁজের এক দিন পর রবিবার সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে সরিষাক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় দুই সন্তানের মা গৃহবধূ সীমা বেগমের (২৫) লাশ। এ ঘটনায় পুলিশ সীমার স্বামী লোকমান ফকিরকে (৩৫) আটক করেছে।

লাশ উদ্ধারকারী কালকিনি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আজিজুর রহমান বলেন, ‘লাশের গলায় ফাঁসের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। ’ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য