kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আজ থেকে দুই মাস মাছ ধরা বন্ধ

জেলেদের জন্য রাখা হয়নি বিকল্প ব্যবস্থা

চাঁদপুর প্রতিনিধি   

১ মার্চ, ২০১৬ ০০:০০



আবারও দুই মাসের জন্য বেকার হচ্ছে চাঁদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের দুই লক্ষাধিক জেলে। কিন্তু দীর্ঘ এই সময়ে তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান বা খাদ্যের জোগানের ব্যবস্থা করা হয়নি।

ফলে এক অনিশ্চিত পরিস্থিতির মুখে পড়েছে জেলেসহ তাদের পরিবারের কয়েক লাখ সদস্য। জানা গেছে, জাটকা সংরক্ষণ করে ইলিশের বংশবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে আজ মঙ্গলবার থেকে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ ইলিশ বিচরণের পাঁচটি অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। একই সময় মজুদ, সংরক্ষণ, বিপণন ও পরিবহনও নিষিদ্ধ থাকবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সফিকুল ইসলাম জানান, এই সময় কেউ নদীতে নেমে মাছ ধরলে তাকে আইনের আওতায় নেওয়া হবে। ইলিশ মজুদ, সংরক্ষণ, বিপণন ও পরিবহনের বেলায়ও একই নিয়ম কার্যকর করা হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এবার চাঁদপুরে সরকারি তালিকাভুক্ত মোট জেলে ৪১ হাজার ৪২ জন। এর মধ্যে শুধু চাঁদপুর সদরেই ১৬ হাজার জেলে রয়েছে। অন্যরা হাইমচর, মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার নদীপারের জেলে। গত বছর ছিল প্রায় ৩৬ হাজার জেলে। গত বছর এসব জেলেকে মাসে ৪০ কেজি করে দুই মাস পর্যন্ত চাল দেওয়া হলেও এ বছর তা বাড়িয়ে প্রতি মাসে ৮০ কেজি এবং নগদ এক হাজার টাকা মার্চ, এপ্রিল, মে ও জুন—এই চার মাস পর্যন্ত দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সফিকুল ইসলাম আরো জানান, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় এমন প্রস্তাব সরকারের নীতিনির্ধারণী মহলে পাঠিয়েছে। তিনি আশা করছেন, সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তালিকাভুক্ত জেলেদের হাতে চাল ও নগদ টাকা তুলে দেওয়া হবে।

এদিকে বিকল্প ব্যবস্থা না রেখে মাছ ধরা নিষিদ্ধ করায় জেলেদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। চাঁদপুর শহরের হরিসভা এলাকার জেলে রমজান আলী বলেন, ‘সংসারে পাঁচজন সদস্য। একমাত্র আয়ের পথ ছিল মাছ ধরা। এখন তা-ও বন্ধ হচ্ছে। এ সময় সরকারি কোনো সাহায্য না পেলে না খেয়ে মরতে হবে। ’ হরিণাঘাট এলাকার জেলে বারেক গাজী বলেন, ‘গত বছর দুই মাসে ৮০ কেজি চাল পেয়েছি। এবার পাব কি না তা এখনো অনিশ্চিত। ’

চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদীকেন্দ্রে কর্মরত ইলিশ গবেষক ড. আনিছুর রহমান জানান, সব মিলে ৩৫০ কিলোমিটার নদীতে পাঁচটি অভয়াশ্রম। মার্চ-এপ্রিল দুই মাস এসব অভয়াশ্রমে সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকে। কারণ ইলিশের জীবনচক্র বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময় এটি। তিনি আরো জানান, গত বছর দেশে ইলিশ উৎপাদনের হার ছিল সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন।


মন্তব্য