kalerkantho


নারায়ণগঞ্জ

শাস্ত্রীয় সংগীতে মন্ত্রমুগ্ধ শ্রোতা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি   

১ নভেম্বর, ২০১৫ ০০:০০



শাস্ত্রীয় সংগীতে মন্ত্রমুগ্ধ শ্রোতা

নারায়ণগঞ্জ সুধীজন পাঠাগারে গত শুক্রবার রাতে শাস্ত্রীয় সংগীতের হেমন্ত অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : কালের কণ্ঠ

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. অসিত রায় একের পর এক রাগ ঝিঁঝিট, খাম্বাজ, ভৈরবী রাগ পরিবেশন করছিলেন তখন হলভর্তি দর্শকের পিনপতন নীরবতা। মন্ত্রমুগ্ধের মতো তা শুনছিল দর্শক।

সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সেই রাগে রচিত লোকসংগীত পরিবেশন করছিলেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরিফুর রহমান। তিনি গাইলেন-'আমি বন্ধু প্রেমাগুনে, আমি বাইয়া যাই কোন ঘাটে, মনমোহন শ্যাম রশিয়া, আমি অপার হয়ে বসে আছি'সহ আরো কয়েকটি গান। তবলা, সেতার, হারমোনিয়াম ও দোতারার অপূর্ব সুর-মূর্ছনায় তাঁর গানে মোহাবিষ্ট ছিল মিলনায়তনের আড়াই শ দর্শক। হলজুড়ে মাঝেমধ্যেই সমন্বিত করতালি যখন তবলা ও রাগ পরিবেশনে ওস্তাদের নানা মুন্সিয়ানা পরিলক্ষিত হচ্ছিল। পরিবেশনের সুরালাপনে বিভিন্ন রাগের মাহাত্ম্যও বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন ওস্তাদ ড. অসিত রায়।

সুর আলাপনে ড. অসিত রায় বলেন, 'মাটি-জল-আলো-হাওয়ায় গড়ে উঠেছে প্রকৃতি-মানব সম্পর্কের বুনন। এর তন্তুগুলোকে চিনতে গিয়ে মানুষ পেয়েছে সুর-লয়-ছন্দ। ছয় ঋতুর পরিক্রমায় হেমন্ত এক বিশেষ বৈশিষ্ট্য নিয়ে আসে ভারতীয় উপমহাদেশে। বিশেষ করে এই বাংলায় হেমন্তে ধান কাটা ও নবান্ন উৎসব পোক্ত করেছে আমাদের ঐতিহ্যের ভিত্তি।

' তিনি বলেন, 'ঝিঁঝিট রাগ, খাম্বাজ রাগ, ভৈরবী রাগ এই বাংলার মাটি মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। এই রাগগুলোর সঙ্গে আমাদের লোকসংগীতের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। '

শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ঐতিহ্যবাহী সুধীজন পাঠাগারে লক্ষ্যাপার ও সুধীজন পাঠাগারের যৌথ আয়োজনে তৃতীয় অধিবেশনে কলকাতা থেকে আগত ত্রৈলী দত্ত সরোদে তোলেন পটদীপ ও রাগ হেমন্ত। সেই সঙ্গে তবলা লহরি বাজিয়ে দর্শকদের তাক লাগিয়ে দেন মীর নাকিবুল ইসলাম।

শিল্পীদের কথন ও বাদনে দর্শকরা তন্ময় হয়ে শুনছিল গানের বিজ্ঞান বলে খ্যাত শাস্ত্রীয় সংগীতের বিভিন্ন রাগের সুর-মূর্ছনা। কিন্তু ততক্ষণে সন্ধ্যা পেরিয়ে গভীর রাত। বাড়ি ফেরার তাড়াও যেন নেই দর্শকের। তবে ঘোষকের কণ্ঠে যখন আসর সমাপনের ঘোষণা-তখনই সম্বিত ফিরে পায় শ্রোতা-দর্শকরা। এভাবেই গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত অবধি শাস্ত্রীয় সংগীত পরিবেশন করে নারায়ণগঞ্জের সমঝদার দর্শকদের মোহময়ে আবিষ্ট করে রাখেন ড. অসিত রায়, তবলায় সবুজ আহমেদ, দোতারায় অরূপ কুমার শীল এবং সরোদে ত্রৈলী দত্ত ও মীর নাকিবুল ইসলাম। মাঝেমধ্যে সুকণ্ঠ ঘোষণায় অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত করে তোলেন অসিত কুমার সাহা।

লক্ষ্যাপারের উপদেষ্টা কাশেম জামাল বলেন, 'সংগীতের শিকড় শাস্ত্রীয় সংগীতকে সবার কাছে জনপ্রিয় করে তোলার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৯ সালে আমরা সমমনা কয়েকজন মিলে গড়ে তুলি সংগঠনটি। সংগঠনটি যেহেতু শীতলক্ষ্যা বিধৌত নারায়ণগঞ্জভিত্তিক, তাই এর নাম দেওয়া হয়েছে লক্ষ্যাপার। ' তিনি জানান, এ সংগঠনের মাধ্যমে প্রতিবছর শাস্ত্রীয় সংগীত তথা উচ্চাংগ সংগীতবিষয়ক ওয়ার্কশপ ও সেমিনারের আয়োজনও করা হয়ে থাকে।

সংগঠনের সমন্বয়ক অধ্যাপক অসিত কুমার বলেন, গানের বিজ্ঞান হচ্ছে শাস্ত্রীয় সংগীত। এখনো সারা পৃথিবীতেই এর কদর আছে। যদিও দিন দিন সেটা কমে আসছে তাই শাস্ত্রীয় সংগীতকে প্রথমে জেলা ও পরে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিতে লক্ষ্যাপার কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, 'আমাদের সংগঠনে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক নেই। আমরা লক্ষ্যাপার বলয়। এ সংগঠন উত্তর ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীত নিয়েও কাজ করছে। '

 


মন্তব্য