kalerkantho


হরতাল-অবরোধে পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের চিত্র

পাইকার নেই, মাছের দাম অর্ধেক

পিরোজপুর প্রতিনিধি   

৭ মার্চ, ২০১৫ ০০:০০



'জীবন বাজি রাইখ্যা গভীর সমুদ্রে যাইয়া মাছ ধরি। হেই মাছ কূলে আইন্যা পানির দরে বেচতে হয়।

এই রহম চলতে লাগলে মোরা বাঁচমু কেমনে। এত লোকসান গুনলে খামু কী আর মহাজনরেই বা দিমু কী। ' কথাগুলো বলছিলেন পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের ক্ষুদ্র মাছ ব্যবসায়ী আবদুর রহমান মিয়া।

টানা দুই মাসের অবরোধ-হরতালে পিরোজপুরের পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরের ব্যবসায়ীরা পড়েছেন চরম বিপাকে। সরেজমিনে গিয়ে মৎস্য বন্দর ঘুরে দেখা গেছে, বন্দরে ভিড়ে আছে ৮-১০টি ট্রলার। ব্যবসায়ীদের আনাগোনা নেই তেমন। আড়তদার আর ব্যবসায়ীদের ভিড়ে যে বন্দর এক সময় সরগরম ছিল, সে তুলনায় বন্দর এখন অনেকটাই অচেনা। কিছু মাছ নামলেও পাইকারদের অভাবে তা বিক্রি হচ্ছে কম মূল্যে। পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবনতি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা মাছ কিনতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না।

দুই মাস আগেও এ বন্দরে দিনে অন্তত ৬০-৭০টি মাছের ট্রলার এসে ভিড়ত। ভোর ৬টা থেকে শুরু হতো মাছের ডাক। সেই কোলাহল এখন আর নেই। এর প্রভাব পড়েছে বন্দর ঘিরে জীবন-জীবিকা চালানো মানুষের ওপর।

বন্দর এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মোহাম্মদ রবিউল আলম বলেন, আগে ভোর ৬টা থেকে মানুষের কোলাহলে ঘুম ভাঙত। সেই কোলাহল ক্রমেই কমে আসছে। এই বন্দর সেই বন্দর নেই। অনেকেই বাধ্য হয়ে মাছ ব্যবসা বন্ধ করে দিয়েছে।

মৎস্য বন্দর কমিটির সাবেক সভাপতি আবুল কালাম বলেন, আগে যে মাছের দাম ৪০০ টাকা ছিল, এখন তা ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঠিকমতো পাইকার পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। মাসের পর মাস এভাবে চলতে থাকলে এ ব্যবসা কিভাবে টিকবে। গভীর সমুদ্রে ডাকাতের ভয়, ঝড়ের ভয় অতিক্রম করে ট্রলার নিয়ে যারা কূলে ভেড়ে, তারা খরচের টাকা তুলতে হিমশিম খাচ্ছে।

আড়তদাররা জানান, এ বন্দরে দিনে কোটি টাকার মাছ বেচাকেনা হতো। দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ মাছ সরবরাহ করা হতো। ব্যবসা ভালোই চলছিল। কিন্তু বর্তমান অবরোধ-হরতালের কারণে সব মুখ থুবড়ে পড়েছে। বাসে-ট্রাকে আগে যে ভাড়ায় মাছ পাঠানো যেত, এখন এর দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হয়।

মৎস্য বন্দরের শেখ ফিশ ট্রেডার্সের ম্যানেজার বাবুল হাওলাদার বলেন, মুনাফা লাভের আশায় বহু আড়তদার ব্যবসায়ীদের দাদনের টাকা দিয়েছিলেন। এখন যে অবস্থা, মুনাফা তো দূরের কথা, মূলধনও হারাতে হবে।

মৎস্য বন্দর কমিটির সভাপতি মো সেলিম খান বলেন, 'ঐতিহ্যবাহী এ বন্দর ঘিরে হাজারো লোকের জীবিকা চলে। ট্রলার মালিক, চালক, শ্রমিক ও ব্যবসায়ী সবার জীবন এখন থমকে আছে। দুই মাসে ক্ষতি হয়েছে কয়েক কোটি টাকার। এসব কথা বলারও জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে দায়দেনায় জর্জরিত আড়তদার-ব্যবসায়ীদের গলায় ফাঁস দেওয়া ছাড়া উপায় থাকবে না। আমরা নিরীহ মানুষ, রাজনীতি বুঝি না। ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে সংসার বাঁচাইতে চাই। '

 


মন্তব্য