kalerkantho


কার্যক্রমহীন জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা

খেলাধুলায় পেছাচ্ছে নওগাঁর নারীরা

ফরিদুল করিম, নওগাঁ   

৩ মার্চ, ২০১৮ ০০:০০



খেলাধুলায় পেছাচ্ছে নওগাঁর নারীরা

নওগাঁ জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা কার্যালয়ের হাল। ছবি : কালের কণ্ঠ

বিশ্বের সবখানেই এখন নারীদের পদচারণ। সব ক্ষেত্রেই নারীদের সমান উপস্থিতি। বিশেষ করে ফুটবল, ক্রিকেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকারের খেলাধুলায় দেশের মেয়েরা বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। কিন্তু ঠিক এ সময় এসে নওগাঁয় নতুন করে তৈরি হচ্ছে না নারী খেলোয়াড়। জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে প্রায় বন্ধ রয়েছে। আর্থিক সংকটের কারণে এমনটি হয়েছে বলে মনে করছে সংস্থার কর্তৃপক্ষ।

বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, আশি ও নব্বইয়ের দশকে নওগাঁর ক্রীড়াঙ্গন মুখরিত ছিল। ওই সময় অনেক নারী ও পুরুষ খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে নওগাঁয়। সময়ের পরিবর্তন, নিয়মিত খেলার আয়োজন না করাসহ নানা কারণে নওগাঁর মহিলা ক্রীড়াঙ্গন থমকে আছে। একসময় নওগাঁর নারী খেলোয়াড়দের সুনাম ছিল দেশজুড়ে। অনেক নারী জাতীয় পর্যায়েও খেলেছে। বর্তমানে নওগাঁর মেয়ে ডলি রানী বিকেএসপির নারী ক্রিকেট দলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। 

প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ, উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা ও নারীদের জন্য আলাদা খেলার মাঠ পেলে আবারও নওগাঁর নারী ক্রীড়াঙ্গন জেগে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। ২০১৬ সালে চার বছরের জন্য ১৭ সদস্যের জেলা নারী ক্রীড়া সংস্থার একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়। কিন্তু অর্থ সংকটসহ নানা কারণে এ কমিটি স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের কার্যক্রম চালাতে পারছে না। বর্তমানে জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়ের অবস্থা খুবই নাজুক। পুরনো কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থিত এ সংস্থার অফিসের সাইনবোর্ড মুছে গেছে। তাই কাজের প্রয়োজনে অনেকেই খুঁজে পায় না অফিসটি।

স্থানীয় একাধিক ক্রীড়ামোদী জানায়, আগে নারীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন খেলা চোখে পড়ত। কিন্তু এখন নওগাঁর মহিলা ক্রীড়াঙ্গন ও জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম ঝিমিয়ে পড়েছে। এখন আর স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে মেয়েদের নিয়ে কোনো খেলার আয়োজন করা হচ্ছে না। এ কারণে অন্য জেলার তুলনায় নওগাঁর মেয়েরা খেলার দিক থেকে পিছিয়ে। এ সমস্যা দূর করতে হলে জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তাসহ সরকারিভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।

বিকেএসপির নারী ক্রিকেট দলের কোচ নওগাঁর মেয়ে ডলি রানী জানান, জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থা উদ্যোগ নিলে নওগাঁয় অনেক মেধাবী নারী খেলোয়াড় তৈরি করা সম্ভব। জেলার মহিলা ক্রীড়া সংস্থাকে আবার সচল করে তোলার জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। তা না হলে খেলার জগৎ থেকে নওগাঁর নারীদের নাম একদিন মুছে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন ডলি রানী। 

নওগাঁর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ (অব.) শরিফুল ইসলাম খান বলেন, ‘নওগাঁ মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যালয়ের সাইনবোর্ডের অবস্থা দেখলে খুব দুঃখ হয়। নারীদের পেছনে ফেলে সামনে এগিয়ে যাওয়া অসম্ভব। ডিজিটাল এ যুগে ক্রীড়াঙ্গনে নওগাঁর নারীদের নীরব ভূমিকা শুভকর নয়। তাই মহিলা ক্রীড়া সংস্থার মাধ্যমে তাদের আবারও ক্রীড়াঙ্গনে সরব করে তুলতে হবে।’

জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যকরী সদস্য ও নারী ক্রীড়াবিদ রাবেয়া খাতুন বেলী বলেন, ‘আমি খেলাধুলা ছাড়তে পারব না বলে সংসারধর্ম ত্যাগ করেছি। অনেক মেয়েকেই খেলোয়াড় হিসেবে তৈরি করেছি। মূলত অর্থই আমাদের সব কিছু থেকে পিছিয়ে রেখেছে। একজন মহিলা ক্রীড়াবিদ তৈরি করতে তার পেছনে অনেক মেহনত করতে হয়, অনেক অর্থের প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরকার আমাদের সংস্থাকে চাহিদা অনুসারে সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে না। এ কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। আমাদের ইচ্ছা আছে; কিন্তু সামর্থ্য নেই।’

জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মুর্শেদা ইফেৎ বানু হাসি বলেন, ‘আর্থিক সংকটের কারণে আমাদের জেলা মহিলা ক্রীড়া সংস্থার কার্যক্রম অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। টাকার অভাবে আমরা সংস্থার পক্ষ থেকে কোনো খেলার আয়োজন করতে পারি না। এমনও হয়েছে, অর্থের অভাবে আমরা টুর্নামেন্ট বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। বছরে যেটুকু অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়, তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। তাই ইচ্ছা থাকলেও অনেক কিছুই করতে পারি না। আমাদের ব্যয় বেড়েছে; কিন্তু বরাদ্দ বাড়েনি। সরকারসহ বিভিন্ন সংগঠন আমাদের সহযোগিতা করলে আমরা খেলাধুলায় নওগাঁর নারীদের আবারও প্রাণবন্ত করে তুলতে পারব।’



মন্তব্য