kalerkantho

সৃজনশীল বাংলাদেশ

হীরক সাহিত্য

১০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



হীরক সাহিত্য

বাংলা সাহিত্যের নামি চরিত্রগুলো কালি-কলমে ফুটিয়ে তুলেছেন তারিকুল ইসলাম হীরক। বিরতি না দিয়ে ৩১ দিনে এঁকেছেন ৩১টি ছবি। অক্টোবর মাসে চ্যালেঞ্জটি নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নাম লিখিয়েছেন ইংকটোবারে। মাহবুবর রহমান সুমনের কাছে আছে আরো খবর

 

ইংকটোবার

অক্টোবর মাসের ৩১ দিনে কালি, কলম আর তুলি দিয়ে ৩১টি ছবি আঁকার চ্যালেঞ্জ নেওয়াই হলো ইংকটোবার। ২০০৯ সালে ইলাস্ট্রেটর জেক পার্কার এটি শুরু করেন। হাতে আঁকার অভ্যাস জিইয়ে রাখার উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি এটি শুরু করেছিলেন। এখন এ আন্দোলন সারা বিশ্বেই ছড়িয়ে পড়েছে এবং প্রতিবছর হাজার হাজার শিল্পী ইংকটোবারে যোগ দেন। এই চ্যালেঞ্জের নিয়ম মাত্র তিনটি—কালি, তুলি, কলম দিয়ে  ছবি আঁকা; সেটির ছবি তোলা আর সোশ্যাল মিডিয়ায় হ্যাশট্যাগ ইংকটোবার  (#রহশঃড়নবৎ) লিখে পোস্ট করা।

 

ছোটবেলা থেকেই আঁকতে ভালোবাসেন হীরক। বাবা শিক্ষক ছিলেন। বাড়িতে চক নিয়ে আসতেন। সেই চক দিয়ে বাড়ির মেঝেতে আঁকতেন হীরক। বলছিলেন, ‘আ তে আম হয় জানার আগেই আমি আম আঁকা শিখে ফেলেছিলাম।’

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে জন্ম হীরকের। তবে বেড়ে উঠেছেন মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজংয়ে। এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে মাস্টার্স করছেন।

 

হীরকের ইংকটোবার

২০১৫ সালে প্রথম ইংকটোবারের কথা জানতে পারেন হীরক। সে বছর কালি ও কলমে তিনটি ছবি এঁকেছিলেন। তারপর ২০১৬ সালে আঁকেন সাতটি ছবি। ২০১৭ সালে তিনি প্রথম ইংকটোবার চ্যালেঞ্জ পুরো করেন। অক্টোবর মাসে ৩১টি দেব-দেবীর ছবি আঁকেন। মিসরীয়, ভারতীয় আর গ্রিক দেব-দেবীর ছবি ছিল সেগুলো। এবার আঁকলেন বাংলা সাহিত্যের নামি সব চরিত্র।

 

চরিত্রগুলো প্রিয় তাঁর

হীরকের মা খুব বই পড়েন। মাকে দেখে হীরকের আগ্রহ হয়। ক্লাস ফোরে থাকতে প্রথম মিসির আলির সঙ্গে পরিচয় হয়। তার পর থেকে একে একে তিন গোয়েন্দা, কাকাবাবু, ফেলুদা, হৈমন্তী, মহেশ, বনলতা সেন, চন্দ্রমুখী ও আরো অনেকের সঙ্গে। তখন চরিত্রগুলোর চেহারা তাঁর মনে ভাসত। ইচ্ছা হতো ওদের ছবিতে ধরতে। এবার ইংকটোবারে তিনি সেই ইচ্ছা পূরণ করলেন। বলছিলেন, ‘অনেক ভেবেচিন্তে আমি আঁকি না। হুট করে আঁকা হয়ে যায়। মনে যেমন এলো তেমনই।’

 

আঁকার দিনগুলো

একেকটি ছবি আঁকতে তিন ঘণ্টা করে সময় লেগেছে হীরকের। বিশ্ববিদ্যালয় সেরে বাসায় ফিরে গুছিয়ে নিয়ে বসতেন। অক্টোবর পুরোটাই ছিল এই রুটিন। কোনো কোনো দিন তো রাত গভীরও হয়েছে।

হীরক বললেন, প্রথম যখন হিমু পড়েছি, তখন নিজেকেই হিমু মনে হতো। আমি তাই হিমু চরিত্রে নিজেকেই এঁকেছি। প্রায় সব চরিত্রের বেলায়ই এটা খাটে। যখন যে যেভাবে কল্পনায় এসেছে, তাকে সেভাবেই এঁকেছি। তবে ফেলুদার কথা আলাদা। আমি ফেলুদা পড়ার আগেই সব্যসাচী চক্রবর্তী ফেলুদা হয়ে গেছেন। তাই ফেলুদা হিসেবে তাঁকেই এঁকেছি। আবার বিনোদিনীর বেলায় এক বন্ধুর পরামর্শ নিয়েছি। সে বলেছিল, ‘তুই ঐশ্বরিয়া রাইকে বাঙালি করে আঁক।’ আমার পরামর্শকের তালিকা মোটামুটি বড়—প্রসূন হালদার, রাফিউর জামান, উপমা হায়দার, হুমায়রা কবির আভা প্রমুখ।

 

যাঁদের এঁকেছেন হীরক

মিসির আলি, বাকের ভাই, হিমু, রূপা, শুভ্র, মাজেদা খালা, নীলু, রানু,  হৈমন্তী, বিনোদিনী, ফটিক, কাবুলিওয়ালা, সুভা, মৃণাল (স্ত্রীর পত্র), ফেলুদা, ব্যোমকেশ বক্সি, কাকাবাবু, তিন গোয়েন্দা, বনলতা সেন, অপু-দুর্গা, গুপী গাইন বাঘা বাইন, হীরক রাজা, মাসুদ রানা, কুবের-কপিলা,  দীপাবলি (সাতকাহন), মন্তু ও টুনি (হাজার বছর ধরে), মহেশ, বিরাজ বৌ, চন্দ্রমুখী, দেবদাস-পার্বতী।

 

মন খারাপও হয়েছে

এবারের আঁকা প্রায় সব ছবি নিয়ে অনেক মন্তব্য পেয়েছি। যাঁদের কল্পনার সঙ্গে আমার আঁকা চরিত্রগুলো মিলে যাচ্ছে, তাঁরা প্রশংসা করেছেন। আবার যাঁদের মিলছে না, তাঁরা মন খারাপ করেছেন। ভারত থেকেও অনেকেই প্রশংসা করছেন, সেটা দেখে ভালো লাগছে। কয়েকজন কেনার আগ্রহও দেখিয়েছেন।

 



মন্তব্য