kalerkantho

ফেসবুক থেকে পাওয়া

নিরাপদ আকাশ

১০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নিরাপদ আকাশ

ছোটবেলা থেকে বাবাকে দেখেছি। আমার কাছে বাবা মানে এক বিশাল আকাশ। যে আকাশে কোনো কালো মেঘ জমে না। জীবনের একান্ত দুঃসময়ে ধেয়ে আসা কালবৈশাখীর তাণ্ডবকে যে আকাশ আমার কাছে আসার আগেই মোকাবেলা করেন। সেই ঝড়ের সঙ্গে অহর্নিশি পাঞ্জা লড়ে রক্তাক্ত বুকে বিজয়ীর বেশে আমার সামনে উপস্থিত হন। তাঁর চোখে ঝড়ের বিভীষিকা দেখি না। হতাশার সুর পাই না। শুধু অকৃত্রিম ভালোবাসা পাই। যে ভালোবাসায় সিক্ত হয় দেহ-মন।

আমি সেই আকাশের বুকে নিরাপদে ঘুমিয়ে যাই। আজও সুযোগ পেলেই সেই আকাশের বুকে মাথাটা রেখে কচি খোকা হয়ে যাই। পরম সুখে চোখ বুজতে ইচ্ছা করে। বাবার চোখে চোখ রেখে সুবিশাল আকাশ দেখি। দুশ্চিন্তাহীন জীবনের ছক আঁকি। জীবনের পিছুটান ভুলে যাই। সুন্দর জীবনের অনুপম স্বপ্ন দেখি।

বাবাকে কখনো হার মানতে দেখিনি। পরিবারের বড় সন্তান হওয়ায় তাঁর সান্নিধ্য আমিই বেশি লাভ করেছি। যৌথ পরিবারের হাল বাবা একাই ধরেছিলেন। আমার চাচারা নিজেদের জীবনকে সাজাতে ব্যস্ত ছিলেন। সংসারধর্ম তাঁদের টানেনি। বাবা ছিলেন খুব সচেতন মানুষ। দিন-রাত আমার পড়াশোনা নিয়ে ভাবতেন। কোনো পরীক্ষায় ভালো করলে বেশি বেশি উৎসাহ দিতেন। আমার গোমড়া মুখ দেখে বাবা নিশ্চিত বুঝে যেতেন মনের অবস্থা। তখন আমাকে বেশি করে সময় দিতেন। সুন্দর সুন্দর কথা বলতেন। যেন মনের কষ্ট সরে যায়। সত্যি সত্যি বাবার সান্নিধ্য পরবর্তী পরীক্ষায় ভালো ফল এনে দিত। বাবা সঙ্গে থাকলে তখন বুঝে, না বুঝে ভালো লাগত। তবে এখন বাবাকে বুঝে ভালো লাগে বলে বেশি আনন্দ পাই। তখন বাবার দিকে তাকালে খুব আনন্দ পেতাম। আর এখন পরম শ্রদ্ধায় মুগ্ধ চোখে তাকালে আনন্দ অশ্রু নিজের অগোচরে ঝরে। সেই অশ্রু আমার বাবার সার্থক ভালোবাসার কিঞ্চিৎ প্রতিদান।

বস্তুত যেদিন প্রথমবারের মতো বাবা হয়েছিলাম, সেদিন থেকে প্রতিনিয়ত বাবাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করছি।

কবির কাঞ্চন

সহকারী শিক্ষক, বেপজা পাবলিক স্কুল ও কলেজ সিইপিজেড, চট্টগ্রাম



মন্তব্য