kalerkantho


ফেসবুক থেকে পাওয়া

সবচেয়ে ভালো বন্ধু

২৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



তুষার আমার খুব কাছের বন্ধু ছিল। আমরা দুজন একসঙ্গে স্কুলে যেতাম। দুজনে সাদা শার্ট ও নেভি ব্লু প্যান্ট পরতাম। আর পকেটে থাকত একই ব্র্যান্ডের কলম। তুষারের একটা বদ-অভ্যাস ছিল—ও যখনই লিখত, কলম কামড়াত। এতে কালি শেষ হতে না হতেই কলমের হেডটা নষ্ট হয়ে যেত; কিন্তু কলম তো ফেলে দেওয়ার উপায় নেই। আম্মুর বকুনি নির্ঘাত! টিফিনের সময় আমি যখন দোকানে যেতাম, তখন কলমটা বইয়ের ভাঁজে রেখে যেতাম। আর সেই সুযোগে আমার কলমের চকচকে হেডটা নিয়ে ওর কামড়ানো কলমের হেডটা আমার কলমে লাগিয়ে দিত। ওর মনে সাহস ছিল এই ভেবে যে ক্লাসের সবাই কলমের হেড কামড়ায়। তাই আমি হয়তো সরাসরি ওকে সন্দেহ করব না।

এক দিন তুষারকে ধরে বসলাম।

‘কী রে, আমার নতুন কলমের হেড কামড়ানো কেন?’

ও নির্ভয়ে উত্তর করে—‘আমি কী জানি? এই যে আমার নতুন কলম। কেউ হয়তো বদলিয়েছে।’

ওর কথামতো ক্লাসের একে-ওকে জিজ্ঞেস করি; কিন্তু কেউ-ই স্বীকার করে না। তুষারকে আবার জিজ্ঞেস করি। ‘সত্যি করে বল, তোর কলমে লাগানো ওটা কী আমার কলমের হেড?’ ও মাথা নেড়ে সায় দেয়। আমি সঙ্গে সঙ্গে হেডটা কেড়ে নিই। ওর মনটা তখনই খারাপ হয়ে যায়। ছুটির পর সেদিন আর আমার সঙ্গে বাড়ি ফেরে না। আমিও বুঝতে পারি, এভাবে কলমের হেডটা কেড়ে নেওয়া ঠিক হয়নি। আমার কলমের কালি ফুরিয়ে যায়। তবু কলম যেন নতুনের মতোই থাকে। আর পুরনো কলমগুলো আমি জমিয়ে রাখি। তাই পরদিন অনেকগুলো কলমের হেড ব্যাগে করে নিয়ে গেলাম। তুষার যত খুশি আমার কলমের হেড নিক। তবু যেন বন্ধুত্ব নষ্ট না হয়। তুষারের বাড়ির সামনের রাস্তায় এসে ডাকাডাকি করতেই ও বই-খাতা নিয়ে বেরিয়ে আসে। আমরা দুজনে অতীত ভুলে স্কুলে রওনা করি। আগের মতোই দুষ্টুমি করি। তুষারও সেই আগের কাজটি করতে থাকে। সেদিন আমি ওকে হাতেনাতে ধরে ফেলি। ও বলে, ‘আজ হেড নিচ্ছি না তো, কলমটা দিয়ে একটু লিখব। বাড়ির কাজ লিখব।’

‘তোর কলমের কী হয়েছে?’ ও যেন আমার প্রশ্নটা শুনে হাত দিয়ে পকেটটা চেপে ধরে। আঙুলের ফাঁক দিয়ে কামড়ানো হেডটা স্পষ্টই দেখা যায়। ‘আচ্ছা, তুই কী ব্রাশ করিস না যে সারাক্ষণ মুখে কলম দিয়ে রাখিস?’ ক্লাসের সবাই শুনে হেসে দেয়। তুষার অপমান বোধ করে আমার পাশ থেকে বই-খাতা নিয়ে অন্য বেঞ্চে বসে। আমি ওর বই-খাতা আবারও আমার বেঞ্চে আনি। ‘আরে বোকা, শুনবি তো আমার কথা। তোর জন্য আজ একটা সারপ্রাইজ আছে তো। নিবি না?’ ও একটু খুশির আভাস দিয়ে বলে, ‘কী সারপ্রাইজ রে?’

‘আগে কথা দে, আর আমার ভালো হেড নিয়ে তোর কামড়ানো হেড দিবি না?’

ও যেন এ বিষয়ে কথা দিতে পারে না। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে যায়। আমি থামিয়ে দিয়ে বলি, ‘তোর জন্য এই দেখ কত হেড এনেছি; কিন্তু প্রয়োজন ছাড়া নিবি না। একটা করে নিবি। ফুরিয়ে গেলে আমি আবার ব্যাগে তুলে রাখব। আমার বাসায় অনেক আছে।’

তুষারের জন্য সারপ্রাইজটা কেমন হলো, সেটি না বললেও আমাকে জড়িয়ে ধরে বলে, ‘তুই-ই আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।’ আমিও সুর মিলিয়ে বলি, ‘হ্যাঁ, তুইও আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।’

—মোহাম্মদ অংকন

শিক্ষার্থী, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই)

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউবিটি)।



মন্তব্য