kalerkantho

ফেসবুক থেকে পাওয়া

হরিষে বিষাদ

২৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



হরিষে বিষাদ

বাস কন্ডাক্টর ভাড়া বেশি চাওয়ায়ই গোলযোগের সূত্রপাত। ‘এই, তুই পাঁচ টাকার ভাড়া ১০ টাকা চাইলি ক্যা?’

কন্ডাক্টরও কম যায় না। বলল, ‘আপনে মনে হয় বাসায়ও ভাইয়ের লগে এমন ঝগড়া করেন। ভালোভাবে কইতে পারেন না!’

এক কথা-দুই কথায় একপর্যায়ে তুমুল তর্কাতর্কি। ওই মহিলা নামার সময় তা হাতাহাতিতে গড়ায়। ড্রাইভার ও কয়েকজন যাত্রীর হস্তক্ষেপে দুই পক্ষ শান্ত হয়। মহিলা নেমে যান। কন্ডাক্টর যথাস্থানে ফিরে আসে। বাস আবার চলতে শুরু করার পর প্রায় তাবৎ যাত্রী ওই মহিলার ওপর ক্ষোভ ঝাড়তে লাগল। তিনি প্রথম থেকেই বাড়াবাড়ি করছেন, মেয়ে হয়ে পুরুষের সঙ্গে হাতাহাতি ইত্যাদি ইত্যাদি। আমার পাশে এক যুগল বসেছিল। ছেলেটি রীতিমতো নাতিদীর্ঘ বক্তব্য পেশ করল রসিয়ে রসিয়ে। মেয়েটি তাকে মাঝপথে থামিয়ে রাগতস্বরে বলল, ‘এতই যখন হেলপারের পক্ষ নিচ্ছ;  যাও, বাসের হেলপারি করো গিয়ে। একটি মেয়ে কখনো এমনি এমনি কোনো পুরুষের সঙ্গে মারামারি করতে আসে না। মেয়েদের নিয়ে মজা করতে খুব ভালো লাগে! যত্তসব পার্ভার্টের দল।’

ঘটনার আকস্মিক মোড় পরিবর্তনে হতবিহ্বল প্রেমিক কিছুক্ষণ পর কাঁদো কাঁদো সুরে প্রেয়সীর হাত ধরে বলল, ‘আমার ভুল হয়ে গেছে, মাফ করে দাও।’

তবে তার এ দুঃখ প্রকাশ আন্তরিক, না কৃত্রিম সেটা অবশ্য বোঝা গেল না।

—এম আর করিম

জাবি, সাভার।



মন্তব্য