kalerkantho


আলোয় ভুবন ভরা

রেঙে উঠি আপন রঙে

খেরিস রজার্সের কথা না বলে পারল না সিএনএন, সিবিএসের মতো বাঘা বাঘা সংবাদমাধ্যম। অথচ তার বয়স মাত্রই ১২ বছর। গায়ের রং কালো। লুপিতার মতো অভিনেত্রীও তার ‘রেঙে উঠি আপন রঙে’ লেখা টি-শার্ট পরে হাঁটেন এখন ব্রুকলিনে। আহনাফ সালেহীন আগ্রহী ছিলেন

২০ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



রেঙে উঠি আপন রঙে

বোনের সঙ্গে খেরিস

সহপাঠীরা তাকে খেপাত—‘কালো, তুমি কালো।’ বাড়ি ফিরে খেরিস কাঁদত। এক দিন শিক্ষকও কাঁদালেন তাকে। সেদিন ছিল নিজেকে আঁকার ক্লাস। শিক্ষক অন্যদের বাদামি পেনসিল দিলেও খেরিসকে দিলেন কালো পেনসিল। বাড়ি ফিরে চিৎকার করে কেঁদেছিল খেরিস। খেয়াল করেছিলেন তার বড় বোন টেইলর পোলার্ড। পোলার্ডের তখন দাদি বেটি পোলার্ডের কথা মনে পড়েছিল। দাদি বলতেন, ‘নিজের রঙে রেঙে ওঠো।’ তিনি চাইতেন তাঁর নাতনিরা নিজেদের সুন্দর ভাবুক। টেইলরের বয়স ২৩ বছর। টুইটারে খেরিসের ছবি দিয়ে নিচে লিখে দিলেন, সে নিজের রঙে রেঙে উঠতে চাইছে। ৩০ হাজারবার এটি রিটুইট হয়। লাইক পায় আধা মিলিয়ন। অসাধারণ সব মন্তব্যও পাওয়া যায়। যেমন—ডেনিস উইলিয়াম লিখলেন, ‘সে সুন্দর। সুন্দর তুমিও।’ মন্তব্যগুলো খেরিসকে দেখালে সে খুশি হয়। তারপর তারা মা এরিকাকে গিয়ে ধরে। এরিকা একজন সমাজকর্মী। দুই বোনকে ১০০ ডলার দেন। টেইলর আগে থেকেই নিজে একটা কিছু করতে চাইছিলেন। তিনি ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়ার রিভারসাইডের শিক্ষার্থী।

বোনকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে টেইলর কয়েকটি টি-শার্ট কেনেন। তার গায়ে লেখেন, ফ্লেক্সিং ইন মাই কমপ্লেকশন (কথাটা বাংলায় অনেকটা এরকম—এই রূপেই আমি খুশি)। তারপর সেগুলো অনলাইনে বিক্রি করতে থাকেন। টি-শার্টটি অল্প সময়ের মধ্যেই অভিনেত্রী লুপিতা নিয়োঙ্গো, কমেডিয়ান স্টিভি হার্ভে, গায়িকা এলিসিয়া কিস, র‌্যাপার স্নুপ ডগ প্রমুখের নজরে পড়ে।

২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত গুনে দেখা গেল খেরিস ও তার বোন ১০ হাজার টি-শার্ট বিক্রি করে ফেলেছে। এক লাখ ৯১ হাজার ডলার আয় হয়েছে তাদের। তত দিনে বোনের সাহায্য নিয়ে খেরিস টুইটার আর ইনস্টাগ্রামে অ্যাকাউন্টও খুলে ফেলেছে। একদিন লিখল, ‘আমি একজন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা। আমার বয়স ১১।’

স্নুপডগ লিখলেন, মেয়েটির রং কালো বলে অনেকে তাকে খেপিয়েছে। আর এখন সে নিজে একটা ফ্যাশন হাউস তৈরি করতে যাচ্ছে। তোমরা যারা নবীন, তারা সাহসী হতে পারো।’

খেরিসও বলেছে, ‘আমি ভেবেছিলাম, আমাকে একাই বুঝি এ জ্বালা সহ্য করতে হয়। এখন দেখছি অনেকে একই আগুনে জ্বলছে।’

লুপিতা লিখলেন, ‘আমি তোমার কষ্টটা অনুভব করতে পারছি; কিন্তু নিজেকে একা ভেব না। আমাকে পাশে পাবে। আমি টি-শার্টটি পছন্দ করেছি।’

২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে খেরিস হারলেম ফ্যাশন উইকে হেঁটে ফেলল। তারপর টুইট করল, ‘আমার রঙের মানুষদের বড় প্ল্যাটফর্মে বেশি দেখি না। আমাকে দেখার পর অনেকে এখন স্বপ্নটা সত্যি করতে সাহসী হবে। আমি খুশি।’

স্টিভ হার্ভের শো স্টিভে আমন্ত্রণ পেল দুই বোন। তারপর বিখ্যাত স্পোর্টসওয়্যার প্রতিষ্ঠান নাইকে তাদের নিয়ে একটি বিজ্ঞাপন প্রচার করল।

২০১৭ সালের অক্টোবরে খেরিস আবার লিখল, ‘গায়ের ওই একই রং নিয়ে আমি এখন মডেল।’ টেইলর বলেছেন, ‘আমরা কিন্তু ব্যবসা করতে চাইনি। আমরা মানুষের হূদয় ছুঁতে চেয়েছি। আর তাতেই টাকা-পয়সা, নাম-যশ হয়ে গেল।’

সিবিএসনিউজ তাকে যখন জিজ্ঞেস করল, ‘এখন আয়নায় তুমি কী দেখতে পাও?’

খেরিস বলল, ‘আমি সুন্দরকে দেখতে পাই।’

সিএনবিসিকে খেরিস বলেছে, ‘বড় হয়ে আমি ফ্যাশন ডিজাইনার, ব্যবসায়ী, নৃত্যশিল্পী, এমনকি অভিনেত্রীও হতে চাইব। আমি স্বপ্ন দেখতে শিখে গেছি। তাই যা চাইব, সব হতে পারব।’



মন্তব্য